প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আদিবাসী জীবনধারা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে সিলেট এক অনন্য নাম। বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যের আহ্বানে প্রতিবছর লাখো পর্যটক সিলেট ভ্রমণ করে থাকেন। ফলে সিলেট ভ্রমণ নিয়ে ভ্রমণকারীদের মনে কৌতুহলের অন্ত নেই। আশা করি ভ্রমণ গাইডের সিলেট ভ্রমণের সকল প্রশ্ন ও উত্তর পড়লে সিলেট কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন ইত্যাদি সকল খুঁটিনাটি বিষয়ে জানতে পারবেন।

সিলেট ভ্রমণের সময়

প্রশ্ন: সিলেট ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?
উত্তর: আবহাওয়ার ও ঋতুর পরিবর্তন জনিত কারণে নির্দিষ্ট মাসের নাম বলা কষ্টকর। সিলেট ভ্রমণের আদর্শ সময় হচ্ছে বর্ষাকাল। তবে বর্ষার শুরুতে চেষ্টা করুন না যাওয়ার। এক্ষেত্রে বর্ষার মাঝামাঝি এবং বর্ষা শেষের সময়টা সর্বাধিক উপযুক্ত।

প্রশ্ন: শীতকালে সিলেট ভ্রমণে কি সমস্যা আছে?
উত্তর: শীতকালে সিলেটের বিভিন্ন স্থান যেমন- রাতারগুল, বিছনাকান্দি, জাফলং ও বিভিন্ন ঝর্ণাগুলোতে তেমন পানি থাকেনা। আর সিলেটে তুলনামূলক বেশি শীত অনুভূত হয়। তাছাড়া প্রকৃতিকে তখন মলিন মলিন লাগে। বাকিটা আপনার ইচ্ছা…! তবে শীতকালে লালাখাল সবচেয়ে বেশী সুন্দর।

যাতায়াত সম্পর্কিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: গাইবান্ধা বা বরিশাল থেকে কিভাবে সিলেট যাব?
উত্তর: আপনার অবস্থান (বাসা/এলাকা) থেকে সিলেট যাওয়ার সবচেয়ে সঠিক তথ্য আপনারই জানার কথা। এ সকল ক্ষেত্রে ভ্রমন গাইড টিমের পক্ষে উত্তর দেয়া সম্ভব না। এমন সমস্যায় আপনার এলাকার ট্র্যাভেলার বা বিভিন্ন ফেইসবুক ট্রেভেল গ্রুপের সাহায্য নিন।

প্রশ্ন: ঢাকা থেকে বাস নাকি ট্রেন দিয়ে সিলেট আসলে ভাল হবে?
উত্তর: এসি/নন-এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন ভাল। অন্য এসি বাসগুলো সময়ে সময়ে এসি অফ করে দেয়। অতিরিক্ত গতিতে ভয় থাকলে এনা পরিবহণ পরিহার করুন। এছাড়া সিলেট যাওয়ার জন্য পারাবত ট্রেনকে বেছে নিতে পারেন।

প্রশ্ন: বাসে বা ট্রেনে সিলেট গেলে কোথায় নামতে হয়?
উত্তর: বাস, ট্রেনে সিলেটের কদমতলী নামক স্থানে নামতে হয়। তবে সকল বাসের কাউন্টার কদমতলীতে নেই।

প্রশ্ন: কদমতলী থেকে কিভাবে সিলেট শহরে আসবো?
উত্তর: বাস বা ট্রেন থেকে নেমে আপনাদের সুবিধানুযায়ী রিক্সা বা সিএনজি নিয়ে শহরে আসতে পারবেন। আবার ইচ্ছা ও শারীরিক সামর্থ্য থাকলে চাইলে পায়ে হেটেও শহরে যেতে পারেন।

প্রশ্ন: সিলেট রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে রিক্সা/সিএনজি ভাড়া কত নিবে?
উত্তর: ভাড়ার কথা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল কারণ ষ্টেশন থেকে সবার গন্তব্য যাওয়ার এক নয়। এছাড়া সময়ের সাথে সাথে ভাড়ার পরিমাণ পরিবর্তিত। বর্তমানে সিলেট রেলওয়ে ষ্টেশন বা আশেপাশের এলাকা থেকে বন্দরবাজার যাওয়ার রিক্সা ও সিএনজি ভাড়া যথাক্রমে ৩০-৪০ ও ৮০-১০০ টাকা।

প্রশ্ন: নতুন ব্রিজ/কিন ব্রিজ(পুরান ব্রিজ)/কাজিরবাজার ব্রিজ কোনটা দিয়ে শহরে আসবো?
উত্তর: কদমতলী থেকে সিএনজি ভাড়া নিলে নতুন ব্রিজ অথবা কাজিরবাজার ব্রিজ দিয়ে আসতে হবে। কারণ বর্তমানে ক্বিন ব্রিজ দিয়ে সিএনজি সহ সকল ধরণের গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের চোখ এড়িয়ে হয়তো আসা সম্ভব তবে সকলের স্বার্থে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। কিন্তু রিক্সা ভাড়া করলে অনায়াসে ক্বিন ব্রিজ দিয়ে আসতে পারবেন।

প্রশ্ন: আরো কম খরচে কদমতলী থেকে বন্দরবাজার যাওয়ার উপায় কি?
উত্তর: এক্ষেত্রে কিছুটা পায়ে হেটে জনপ্রতি ২ টাকা নৌকা ভাড়ায় সুরমা নদী পার হয়ে নিন। অথবা কদমতলীতে রাস্তার পাশে থাকা লোকাল সিএনজি দিয়ে জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়ায় বন্দরবাজার যেতে পারবেন।

প্রশ্ন: কদমতলী থেকে পায়ে হেটে বন্দরবাজার যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: পায়ে হেটে বন্দরবাজার যেতে সবোর্চ্চ ১৫ মিনিট সময় লাগে।

প্রশ্ন: বিমানে আসলে কোথায় নামতে হবে?
উত্তর: বিমানে আসলে সিলেট শহর হতে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে বড়শাল নামক স্থানে নামতে হবে। বিমানবন্দর থেকে সিলেট আসার জন্য সিএনজি পাবেন।

সিলেটে রাত্রিযাপন সম্পর্কিত জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: বন্দরবাজার পৌঁছালাম কিন্তু রাতে থাকবো কোথায়?
উত্তর: সিলেটের বেশিরভাগ আবাসিক হোটেলগুলোর অবস্থান দরগা এলাকায় এবং দরগা হতে আম্বরখানা, তালতলা, কদমতলী পর্যন্ত। হোটেল নির্বাচন করা ব্যক্তি পছন্দের বেপার। পরিবার, বন্ধুবান্ধব, একা একা আসা, ভ্রমণ বাজেট ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর হোটেল নির্বাচনের দিকগুলো নির্ভর করে। তবে কেবলমাত্র বাধ্য না হলে কদমতলীর হোটেলগুলো এড়িয়ে যাওয়াই উত্তম।

প্রশ্ন: যদি সবাই ব্যাকপ্যাক ট্রাভেলার কিংবা ছেলে হয়ে থাকি এবং কম খরচের হোটেলে থাকতে চাই।
উত্তর: কম খরচে থাকতে চাইলে সোজা তালতলার ‘ইষ্ট এন্ড’ হোটেলে চলে যান। এছাড়া এখানে হোটেল গুলশান, হোটেল বিলাশ সহ বেশকিছু হোটেল আছে। আর এসব হোটেলে থাকতে জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০টাকা খরচ হবে।

প্রশ্ন: কদমতলী থেকে কি সরাসরি সিএনজি বা রিক্সা নিয়ে তালতলায় আসা যায়?
উত্তর: বন্দরবাজার থেকে পায়ে হেটে তালতলা যেতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগে। কদমতলী থেকে তালতলা আসার সিএনজি ও রিক্সা ভাড়া একই। শুধু ভাড়া করার সময় সিএনজি বা রিক্সাওয়ালাকে আপনার গন্তব্যের কথা বলে নিন।

প্রশ্ন: তালতলার কম খরচের হোটেলগুলো কি নিরাপদ?
উত্তর: নিজেরা যদি সচেতন থাকেন আর বেড়াতে গিয়ে কোন ধরণের অপ্রীতিকর কাজ না করেন তবে কোন সমস্যায় পড়বেন না। দামী জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা, রুম লক করে বাইরে যাওয়ার মত কাজগুলো আপনার নিজের তাগিদেই করতে হবে।

প্রশ্ন: যদি পরিবার অথবা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আসি অথবা একটু দামী ও ভাল হোটেলে থাকতে চাইলে কি করবো?
উত্তর: বাজেট জটিলতা না থাকলে মিরাবাজারের হোটেল সুপ্রিমে থাকতে পারেন। উপস্থিত ভাবে জিন্দাবাজারের আশেপাশে খোঁজ নিয়ে হোটেল ঠিক করলে সবচেয়ে ভাল হয়। জিন্দাবাজার থাকলে কম দামে মানসম্মত খাবার নিয়ে আপনাকে বাড়তি টেনশন নিতে হবে না।

প্রশ্ন: কোন হোটেলে কম খরচে এসি রুম নিতে পারবো?
উত্তর: কম খরচের এসি হোটেলগুলোতে না থাকা থাকাই ভালো কারণ বিদ্যুৎ চলে গেলে এদের ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকে না। এছাড়া বর্ষাকালে ভ্রমণে আসবেন আর বৃষ্টি হলে হোটেল রুমগুলো এমনিতেই আরামদায়ক মনে হবে। উল্লেখ্য দিনের তুলনায় রাতে সিলেটে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।

প্রশ্ন: সিলেটের রিসোর্টগুলো কেমন?
উত্তর: টাকা পয়সার সমস্যা না থাকলে রিসোর্টগুলো অবশ্যই ভাল। আর বাজেট সমস্যা হলে রিসোর্টের কথা চোখ বন্ধ করে এড়িয়ে যান।

খাবার সম্পর্কিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: তালতলায় হোটেল নিলে কোথায় খাবো?
উত্তর: তালতলা থেকে জিন্দাবাজার যেতে পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগে। আর রিক্সা ভাড়া দুইজন ১০টাকা ভাড়া।

প্রশ্ন: জিন্দাবাজারের কোথায় খাব?
উত্তর: সিলেটের নামকরা হোটেল পানসী, পাঁচ ভাই সহ অনেক হোটেল আছে জিন্দাবাজারে।

প্রশ্ন: এসব হোটেলে কি সবসময় খাবার পাওয়া যায়?
উত্তর: ভোর থেকে রাত এক টা পযর্ন্ত খাবার পাবেন পাবেন। তবে মনে রাখবেন রাত যত বাড়বে খাবারের আইটেম তত কমতে থাকবে।

প্রশ্ন: হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য কোন আলাদা ব্যবস্থা?
উত্তর: হিন্দু অথবা এইসব হোটেলে খাবার খেতে না চাইলে ওসমানী মেডিকেলের কাছে ইসকন পরিচালিত রেস্টুরেন্টে যেতে পারেন। এখানে খাবারের মান বেশ ভাল।

লালাখাল সম্পর্কিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: কখন লালাখাল যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়?
উত্তর: শীতকাল লালাখাল যাওয়ার উপযুক্ত সময়। শীতে পানির রং দেখতে চমৎকার লাগে।

প্রশ্ন: সিলেট শহর থেকে লালাখাল যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: যানবাহন ভেদে সাধারনত ১ ঘন্টার মত সময় লাগে।

প্রশ্ন: সিলেট শহর থেকে লালাখাল যাওয়ার উপায়
উত্তর: সিলেট শহর থেকে সিএনজি, লেগুনা, প্রাইভেট কার এবং বাসে চড়ে লালাখাল যেতে পারবেন।

প্রশ্ন: লালাখাল যাবার সিএনজি, লেগুনা, বাস কোথায় পাব?
উত্তর: বন্দরবাজারের শিশুপার্কের সামনে লালাখাল যাওয়ার সিএনজি ও লেগুনা পাওয়া যায়। সিএনজি চড়ে যেতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই রিজার্ভ নিতে হবে। আর লেগুনা দিয়ে লোকালে জনপ্রতি হারে যেতে পারবেন। কদমতলী থেকে লালাখালের বাস ছাড়ে। তবে সোবহানীগাট থেকেও লালাখালের বাসে উঠতে পারবেন।

প্রশ্ন: সোবহানীগাট জায়গাটা কোথায়?
উত্তর: বন্দরবাজার শিশুপার্ক থেকে একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেলেই সোবহানীগাট। বন্দরবাজার থেকে সোবহানীগাট যেতে ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া লাগে। আর সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৫/১০ টাকা।

প্রশ্ন: লালাখালে কথায় নৌকা পাওয়া যায়?
উত্তর: বাস বা সিএনজি থেকে সারিঘাট নামক স্থানে নামতে হবে আর সেখানেই নৌকা পাবেন।

প্রশ্ন: কত ঘন্টা নৌকা ভাড়া করবে?
উত্তর: এটা আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে তবে লালাখালের সাথে সাথে যদি জাফলং দেখতে চান তবে নূন্যতম ৩ থেকে ৪ ঘন্টার জন্য নৌকা ঠিক করুন।

প্রশ্ন: নৌকা ভাড়া করতে কেমন খরচ হতে পারে?
উত্তর: নৌকা ভাড়া সিজন এবং মাঝিদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে তাই আশেপাশে মানুষকে জিজ্ঞাসা করে নিন।

প্রশ্ন: একা থাকলে কিংবা নৌকা রিজার্ভ না করলে কি লালাখালে যাওয়া যাবে?
উত্তর: নৌকা রিজার্ভ ছাড়া কোন উপায় নেই। তবে অন্য কোন গ্রুপের সাথে কথা বলে তাদের সাথে যেতে পারেন।

প্রশ্ন: বাসে লালাখাল গেলে ফিরে আসার সময় গাড়ি পাওয়া যাবে তো?
উত্তর: হ্যাঁ, পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: লালাখাল থেকে জাফলং যেতে কতক্ষণ সময় লাগে?
উত্তর: প্রায় ১ ঘন্টা।

প্রশ্ন: লালাখালে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কি?
উত্তর: লালাখালে খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই।

প্রশ্ন: লালাখালে কি চা বাগান আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, লালাখালে চা বাগান আছে। মাঝিকে বললে নিয়ে যাবে।

প্রশ্ন: লালাখাল কি নিরাপদ?
উত্তর: নিশ্চিন্তে লালাখাল ভ্রমণ করতে পারেন।

প্রশ্ন: লালাখালে কি কেনাকাটা করা যায়?
উত্তর: না।

প্রশ্ন: লালাখাল ভ্রমণের বিশেষ কোন সতর্কতা?
উত্তর: চোরাবালী সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। আর অবশ্যই নৌকার মাঝির সাথে আপনাদের ভ্রমণ সম্পর্কে ভালোভাবে কথা বলে ঠিক করে নিন তা না হলে আশেপাশে কথাও নিয়ে গিয়ে লালাখাল বলে চালিয়ে দিবে। সাথে খাবার পানি নিতে ভুলবেন না।

জাফলং সম্পর্কিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: জাফলং যাওয়ার সবচেয়ে ভাল সময় কখন?
উত্তর: বর্ষার মাঝামাঝি অথবা বর্ষার শেষে জাফলং যেতে পারেন। তবে শীতের শেষের দিকে জাফলং না যাওয়াই সবচেয়ে ভাল।

প্রশ্ন: সিলেট থেকে জাফলং যেতে কত সময় লাগে?
উত্তর: জাফলং যেতে ২ ঘন্টার মত সময় লাগে।

প্রশ্ন: সিলেট শহর থেকে জাফলং যাওয়ার উপায়?
উত্তর: সিলেট থেকে সিএনজি, লেগুনা, প্রাইভেট কার অথবা বাসে জাফলং যেতে পারবেন। আপনার সাথে যদি পরিবার না থাকে তবে জাফলংগামী বিরতিহীন বাসে যাওয়া সবচেয়ে ভাল হবে।

প্রশ্ন: জাফলং যাওয়ার গাড়ি কোথায় থেকে ঠিক করবো?
উত্তর: বন্দরবাজার শিশুপার্কের সামনে জাফলং যাওয়ার জন্য সিএনজি ও লেগুনা পাওয়া যায়। সিএনজি নিতে চাইলে আপনাকে রিজার্ভ নিতে হবে। আর লেগুনায় জনপ্রতি হারে যাওয়া যায়। কদমতলী থেকে জাফলংগামী বাসগুলো ছেড়ে যায়, চাইলে সোবহানীগাট থেকে জাফলং যাওয়ার বাসে চড়তে পারবেন।

প্রশ্ন: সোবহানীগাট জায়গাটা কোথায়?
উত্তর: বন্দরবাজার শিশুপার্ক থেকে একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেলেই সোবহানীগাট। বন্দরবাজার থেকে সোবহানীগাট যেতে ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া লাগে। আর সিএনজি ভাড়া জনপ্রতি ৫/১০ টাকা।

প্রশ্ন: জাফলং যাওয়ার জনপ্রতি বাস ভাড়া কত?
উত্তর: যেহেতু পরিবহণ ভাড়া সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় তাই ভ্রমণের সময় আপনাকে এই বেপারটা খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমানে জাফলং যাওয়ার জনপ্রতি বাস ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

প্রশ্ন: জাফলং কি রাত্রিযাপন করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, জাফলংয়ে রাতে থাকার জন্য অনেক হোটেল রয়েছে। সিলেটের তুলনায় জাফলংয়ের হোটেলগুলোর খরচ তুলনামূলক বেশি। প্রয়োজনে মামার দোকানের আশেপাশে খোঁজ নিতে পারেন। তবে সিলেট ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রশ্ন: জাফলংয়ে কোথায় খাবো?
উত্তর: জাফলংয়ের খাবার ব্যবস্থা তেমন ভাল নয়। মামার দোকানের আশেপাশে হোটেলগুলোতে খাওয়া কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন।

প্রশ্ন: জাফলং কি নৌকা পাওয়া যায়?
উত্তর: জাফলংয়ের মেইন স্পটে নৌকা ভাড়া করতে পারবেন।

প্রশ্ন: কত সময়ের জন্য কিভাবে নৌকা ভাড়া করবো?
উত্তর: নৌকা কত সময়ের জন্য ভাড়া করবেন সেটা আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। তবে নৌকা ভ্রমণ, শীতল জলে গা ভেজানো সহ সব মিলিয়ে জাফলংয়ে দুই ঘন্টা অতিবাহিত করা যেতে পারে।

প্রশ্ন: নৌকা ভাড়া করতে কত টাকা লাগবে?
উত্তর: নৌকা ভাড়া সিজন এবং মাঝিদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে তাই আশেপাশে মানুষকে জিজ্ঞাসা করে দরদাম করে নৌকা ঠিক করুন।

প্রশ্ন: একা অথবা নৌকা রিজার্ভ না করে যাওয়া কি সম্ভব?
উত্তর: হ্যাঁ, সম্ভব। আবার চাইলে অন্য গ্রুপের সাথে কথা বলে শেয়ারে নৌকা রিজার্ভ নিতে পারবেন।

প্রশ্ন: জাফলং থেকে সন্ধ্যার পর বা রাতে ফিরে আসা যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ।

প্রশ্ন: জাফলং রুট আর কোন দর্শনীয় স্থান আছে কি?
উত্তর: সিলেট শহর থেকে জাফলং যাওয়ার পথে পর্যায়ক্রমে শাহ পরানের মাজার, লালাখাল, তামাবিল দেখে যেতে পারবেন। তবে সকল জায়গা দেখতে চাইলে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে যেতে হবে।

প্রশ্ন: জাফলংয়ে কি ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, এখান থেকে ভারতীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

প্রশ্ন: জাফলং ভ্রমণে কোন বিষয়ে কি বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন আছে?
উত্তর: মামার দোকান থেকে জাফলং মেইন স্পটে যাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ড্রাইভার ঘিরে ধরবে। ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে ভুলেও গাড়ি ভাড়া করবেন না। মাত্র কয়েক মিনিট পায়ে হাটলে অনায়াসে মেইন স্পটে পৌঁছে যাবেন।

সন্ধ্যার দিকে অনেকেই ভারতীয় মদ কেনার প্রস্তাব দিতে পারে। এসব মদ খেয়ে প্রাণ নাশ হতে পারে তাই সামান্য শখের বশে জীবনকে সংশয়ের মধ্যে ফেলে দিবেন না।

চোরাবালী থেকে সাবধান। বালির সমারোহ দেখে আনন্দে এখানে সেখানে লাফালাফি করবেন না।

সাতার না জানলে পানিতে না নামাই উত্তম। পানিতে নামার ক্ষেত্রে পানির নিচের স্রোত ও পিচ্ছিল পাথর সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।

পযর্টন স্পটের আশেপাশে যেকোন হোটেলে খাবার খাওয়ার আগে দাম যাচাই করে নিন। বলে রাখা ভাল জাফলংয়ের মাছ, মাংস সহ প্রায় সব কিছুই সিলেট থেকে কিনে আনা হয়।

কেনাকাটা

প্রশ্ন: আদিবাসী মনিপুরিদের তৈরী কাপড় কোথা থেকে কিনবো?
উত্তর: লামাবাজার পয়েন্টে বেশকিছু মনিপুরি মার্কেট আছে। তবে কিনার সময় দরদাম করে নিন।

প্রশ্ন: বন্দরবাজার থেকে লামাবাজার কিভাবে যাবো?
উত্তর: বন্দরবাজার থেকে লামাবাজার পায়ে হেঁটে যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। রিক্সা ভাড়া ১৫ টাকা, সিএনজি ভাড়া ১০ টাকা (জনপ্রতি)।

প্রশ্ন: সিলেটি সাতকরা, কমলা, আনারস, লেবু ইত্যাদি কোথায় থেকে কিনবো?
উত্তর: বন্দরবাজারে সব কিছুই পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: ভাল সিলেটি চা পাতা কোথায় হতে কিনবো?
উত্তর: যদি কোন চা বাগানের ম্যানেজার বা কর্মচারী পরিচিত থেকে তবে তাদের মাধ্যমে চা-পাতা সংগ্রহ করতে পারেন। তবে লোকাল মার্কেটে যে চা-পাতা পাওয়া যায় সেগুলো বেশ নিন্মমানের চা-পাতা পাওয়া যায়।

অন্যান্য

প্রশ্ন: সিলেটে মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক নিয়ে কোন সমস্যা আছে কি ?
উত্তর: না নেই, তবে ইন্টারনেটের জন্য গ্রামীনফোন তুলনামূলক ভাল।

প্রশ্ন: পাওয়ার ব্যাংক কি সাথে রাখা কি জরুরী?
উত্তর: সিলেটে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বেশ ভালই। তাই পাওয়ার ব্যাংক রাখবেন কিনা সেটা ভ্রমনকারীর ব্যক্তিগত পছন্দ।

প্রশ্ন: কেমন জুতা ভাল হবে?
উত্তর: সিলেট ভ্রমণে ভাল গ্রীপের রাবারের জুতা সঙ্গে নিন।

প্রশ্ন: বর্ষাকালে কি ছাতা বা রেইনকোর্ট সাথে নিতে হবে?
উত্তর: অবশ্যই। সেই সঙ্গে যদি ব্যাকপ্যাকটাও ওয়াটারপ্রুফ হয় তবে সোনায় সোহাগা।

প্রশ্ন: সিলেটে রেইনকোর্ট বা ছাতা কোথায় থেকে কিনবো?
উত্তর: বন্দরবাজারে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলে মহাজনপট্টি দেখিয়ে দেবে। মহাজনপট্টিতে সব পাবেন।

প্রশ্ন: পাহাড়ি অঞ্চলে মশা অর্থাৎ ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর প্রকোপ কেমন?
উত্তর: মশা আছে, তবে ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গুর তেমন প্রকোপ নেই।

ফিচার ইমেজ: Murshed
তথ্যসুত্র: Abdullah Al Amran

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।