১৯৮৫ সালে ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের অভ্যন্তরীন যাতায়াতকে সহজ করার উদ্দেশ্যে লুক্সেমবার্গের সেনজেন শহরে একটি চুক্তি সাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোকে সেনজেন এলাকা এবং প্রদানকৃত ভিসাকে সেনজেন ভিসা (Schengen Visa) বলা হয়ে থাকে। ইউরোপের ২৬টি দেশ সেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ৯০ দিনের সেনজেন ভিসা নিয়ে ঝামেলা ছাড়াই ইউরোপের ২৬ টি দেশে ব্যবসা সংক্রান্ত কাজ কিংবা ভ্রমণে যাওয়া যায়।

সেনজেন ভিসার অন্তর্ভুক্ত ২৬ টি দেশের নাম
অস্ট্রিয়াআইসল্যান্ডইতালিএস্তোনিয়া
গ্রিসচেক রিপাবলিকজার্মানিডেনমার্ক
নেদারল্যান্ডনরওয়েপোল্যান্ডপর্তুগাল
ফ্রান্সফিনল্যান্ডবেলজিয়ামমাল্টা
লিখটেনস্টাইনলুক্সেমবার্গলাটভিয়ালিথুয়ানিয়া
স্পেনস্লোভাকিয়াস্লোভেনিয়াসুইজারল্যান্ড
সুইডেনহাঙ্গেরি

বাংলাদেশি থেকে সেনজেন ভিসা নিয়ে সর্বোচ্চ ৯০ দিন ইউরোপে অবস্থান করতে পারবেন এক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ হবে ৬ মাস। নির্দিষ্ট মেয়াদে সেনজেন ভিসা ব্যবহার করে একাধিকবার সেনজেন এলাকায় প্রবেশ করা গেলেও কোন অবস্থাতেই সর্বমোট ৯০ দিনের বেশি সেখানে অবস্থান করা যাবে না। সেনজেন ভিসা নেয়ার ক্ষেত্রে গন্তব্য উল্লেখ করে দিতে হবে। আর যে দেশে যাবেন সেই দেশের দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।

যেভাবে ভিসা আবেদন করবেন

ভিসা আবেদন ফরমের প্রতিটি তথ্যের ঘর পূরণ করতে হবে। কোন তথ্যের ঘর খালি থাকলে কিংবা ভুল তথ্য দিলে ভিসা আবেদন গ্রহনযোগ্য নয়। ১ কপি আবেদন ফরম অবশ্যই তারিখ ও সাক্ষর সহযোগে জমা করতে হবে। আবেদন ফরম কিভাবে পূরণ করবেন তা এই লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন।

ভিসা আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ভ্রমণ শেষ হওয়ার পরও অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকবে এমন পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
  • সাদা পটভূমিতে সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ছবিতে অবশ্যই পুরো মুখমণ্ডল আসতে হবে। সেনজেন ভিসা আবেদনের জন্য ছবি জমা দেয়ার সকল শর্ত সম্পর্কে এই লিংক থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
  • পাসপোর্টের ব্যক্তিগত তথ্যের পৃষ্ঠাগুলোর পরিষ্কার ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
  • প্রতিটি কাগজের মূল কপির সাথে একটি করে ফটোকপিও জমা দিতে হবে।
  • কোন ডক্যুমেন্ট বাংলায় থাকলে বাংলার সাথে সাথে সেই ডক্যুমেন্টের ইংরেজি অথবা জার্মান অনুবাদও যুক্ত করতে হবে।
  • স্বাস্থ্য বীমা করতে হবে (নূন্যতম ৩০ হাজার ইউরো মূল্যমানের)।

ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন –
www.axa-schengen.com
www.swisscare.com
www.worldnomads.com

ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • কোন কোন জায়গায় ভ্রমণ করবেন সেগুলোর বিস্তারিত তথ্য।
  • বিগত তিন মাসের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বিবরণ।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হোটেল বুকিং তথ্য (হোটেল বুকিং কনফার্মেশনের ই-মেইল প্রিন্ট আউট গৃহীত হয় না।)
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট এবং সন্তান সন্ততির তথ্য।

বিজনেস ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • বাংলাদেশের যে প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষ থেকে ভ্রমণে যাচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠানের তরফে ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে লিখা চিঠি জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
  • কোম্পানির পাঠানো আমন্ত্রণপত্রের মূলকপি এবং আমন্ত্রণপত্র অবশ্যই ইংরেজি বা জার্মান ভাষায় হতে হবে।
  • ট্রেড লাইসেন্স এবং কোম্পানির বিগত তিন মাসের ব্যাংক হিসাব বিবরণী।
  • কোম্পানির সার্টিফিকেট অফ ইনকর্পোরেশন অথবা মেমোরেন্ডাম এন্ড আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে লেনদেনের তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়)।
  • ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট এবং সন্তান সন্ততির তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়)।

সেনজেন দেশগুলো আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরও কিছু অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ে। যেমন: হোটেলের ঠিকানাসহ হোটেল রিজার্ভেশনের তথ্য এবং স্টল বরাদ্দ হয়ে থাকলে তার এক্সিবিটর পাস।

কারও সাথে দেখা করতে হলে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন

  • যার সাথে দেখা করতে যাওয়া হবে তার সাক্ষরিত গ্যারান্টর ফরম
  • অন্তত বিগত তিন মাসের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব বিবরণ
  • যার সাথে দেখা করতে যাবেন তার সাথে সম্পর্কের প্রমাণপত্র
  • ফ্লাইট রিজার্ভেশন কপি।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ম্যারেজ সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট এবং সন্তান সন্ততির তথ্য।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হোটেল বুকিং তথ্য (হোটেল বুকিং কনফার্মেশনের ই-মেইল প্রিন্ট আউট গৃহীত হয় না।)

শিশুদের ক্ষেত্রে
বাবা-মা বা বৈধ অভিভাবকের অনুমতিপত্র এবং শিশুদের ভিসা আবেদনের সময় অভিভাবকে অবশ্যই দূতাবাসে উপস্থিত হতে হবে।

এয়ারপোর্ট ট্রানজিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সেনজেন এলাকা থেকে যে দেশে যাবেন সে দেশের ভিসা, ফ্লাইট রিজার্ভেশন

বি: দ্র: ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবীমা প্রয়োজন হয় না।

আরও কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

  • সেনজেন ভিসা ইস্যু হতে সাধারণত ৭ কর্মদিবস লাগে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে কাগজপত্র যাচাইজনিত কারণে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই চেষ্টা করুন ভ্রমণের নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ আগে ভিসা আবেদনপত্র জমা দেয়ার।
  • প্রতিটি ভিসার জন্য সাক্ষাৎকারের পরপরই এডমিনিস্ট্রেশন ফি জমা দিতে হয়।
  • ভিসা ইস্যু হওয়ার পর পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় ভিসার তথ্যগুলো দেখে নিন।
  • যারা বাংলাদেশে কোন ব্যক্তির কাছে আমন্তণপত্র পাঠাতে চান তারা ভিসা আবেদনকারীর কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে দিন এবং ভ্রমণকারী ভিসা আবেদনের সঙ্গে আপনার পাঠানো আমন্ত্রণপত্র দূতাবাসে জমা দেবেন।
  • সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা পেতে এই লিংক দেখুন।

সেনজেন ভিসা সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত খুঁটিনাটি তথ্য জানতে এই লিংকে প্রবেশ করুন।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।