পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমদ ১৬-০৪-২০১৯ ইং মঙ্গলবার পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘কক্সবাজারের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রতিদিন সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক। এছাড়া সেন্টমার্টিনের পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণে দ্বীপে রাত্রিযাপনের ওপরও বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করা হতে পারে। অনলাইনে নিবন্ধন করে সীমিত সংখ্যক পর্যটকের সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাওয়ার নিয়ম এ বছর থেকেই চালু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে তা কার্যকর করা যায়নি। তবে আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দাবী করছেন।

সুলতান আহমদ আরো বলেন, সেন্টমার্টিন আমাদের দেশের বড় সম্পদ। প্রকৃতি পরিবেশ সুরক্ষায় এখনি সচেতন না হলে অচিরেই সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ভয়াভহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই এখন থেকে ইচ্ছা করলেই যখন তখন পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন না এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ রক্ষায় নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে।

সেমিনারে আগত অতিথিদের বক্তব্যে ইসিএ এলাকা হিসেবে সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া ও সমুদ্র সৈকতের পরিবেশগত ঝুঁকির কথা আলোকপাত করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন অঞ্চলে পরিকল্পনা ছাড়া কোন স্থাপনা তৈরি রোধ এবং স্বাভাবিক প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতি জোর দেয়া হয়।

উল্লেখ্য কক্সবাজারের ৩২৫ টি আবাসিক হোটেলের মধ্যে মাত্র ৪৮ টি হোটেলের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে এবং এদের মধ্যে স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান (এসটিপি) বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ৬ টি হোটেল। কক্সবাজারে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ টন কঠিন ও তরল বর্জ্যের সৃষ্টি হলেও এখানে ১২ টন বর্জ্য শোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। আর শোধনাগারে বর্তমানে মাত্র ২ টন বর্জ্য শোধনের জন্য নিয়ে আসা হয়।

সেমিনারে কক্সবাজার এবং সেন্টমার্টিনের পানির অপচয়, পাহাড়ের মাটি কাটা, হ্যাচারি ও হোটেল-মোটেলের বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা এবং বাঁকখালী নদী ভরাট ও দখল হওয়ার কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপর্যয় এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।

সেমিনারে আরো বলা হয়, এখনি পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অচিরেই নানা ধরনের দূষণে ফলে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনে পর্যটকের সংখ্যা দ্রুতই কমে যাবে। সেই সাথে এই অঞ্চল স্থানীয় বাসীন্দাদের বসবাসের অনুপযোগী হবে এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধিত হবে। অতিথিদের বক্তব্যে পরিবেশ সুরক্ষার সরকারের দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করার কথা বলা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানব সম্পদ উন্নয়ন) এসএম সরওয়ার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমদ ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি লে. কর্নেল আনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবেদিল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও রিও প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম পরিচালক মো. ফেরদৌস হোসেন খান, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ও কক্সবাজার বন পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক দীপক শর্মা দীপু।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।