এই ব্যস্ত জীবন একটু অবসর সময় কাটানোর জন্যে ভ্রমণের চেয়ে সুন্দর আর কিছু হতে পারেনা। কিন্তু নাগরিক এই জীবনে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইলে এই অবসর সময়টুকু বের করা কঠিন হয়ে পরে। আমরা যারা চাকরী করি বা ছাত্র তাদের জন্যে সবচেয়ে বড় সুযোগ সাপ্তাহিক ও সরকারী ছুটির দিন গুলো এবং তার সাথে আনুষঙ্গিক আরও কিছু ছুটির দিন। দেখা যায় দুই ছুটির মাঝে একদিন কর্মদিবস থাকে, সেইক্ষেত্রে সেইদিন ছুটি নিলে একসাথে ৩-৪-৫ দিনের ছুটি মিলে যায়। চলুন তবে দেখি ২০১৯ সালের সরকারি ছুটির দিন গুলো। আর সেই সাথে সেই দিন গুলো যেখানে আমরা চাইলে একটু আগে থেকে পরিকল্পণা করলে বেশ কয়েকদিনের টানা ছুটির দিন বানিয়ে ফেলতে পারি।

২০১৯ সালে সর্বমোট ২২ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। তার মধ্যে তিনদিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার। জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসে ১৪ দিন সাধারণ ছুটি থাকবে। সাধারণ ছুটির মধ্যে ৩দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) পড়েছে। এ ছাড়া বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসে ৮ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। তবে কোনো শুক্র ও শনিবার নির্বাহী আদেশের ছুটিতে পড়েনি।

২০১৯ সালের সাধারণ ছুটি

২১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার – শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
১৭ মার্চ, রবিবার – জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন
২৬ মার্চ, মঙ্গলবার – স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস
১ মে, বুধবার – মে দিবস
১৮ মে, শনিবার – বুদ্ধপূর্ণিমা
৩১ মে, শুক্রবার – জুমাতুল বিদা
৫ জুন, বুধবার – ঈদুল ফিতর
১২ আগস্ট, সোমবার – ঈদুল আজহা
১৫ আগস্ট, বৃহস্পতিবার – জাতীয় শোক দিবস
২৩ আগস্ট, শুক্রবার – শুভ জন্মাষ্টমী
৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার – দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী)
১০ নভেম্বর, রবিবার – ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
১৬ ডিসেম্বর, সোমবার – বিজয় দিবস
২৫ ডিসেম্বর, বুধবার – যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন (বড়দিন)

২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাহী আদেশে ছুটি

১৪ এপ্রিল, রবিবার – বাংলা নববর্ষ
২১ এপ্রিল, রবিবার – শবেবরাত
২ জুন, রবিবার – শবেকদর
৪ জুন, মঙ্গলবার – ঈদুল ফিতরের আগের দিন
৬ জুন, বৃহস্পতিবার – ঈদুল ফিতরের পরের দিন
১১ আগস্ট, রবিবার – ঈদুল আজহার আগে
১৩ আগস্ট, মঙ্গলবার – ঈদুল আজহার পরের দিন
১০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার – আশুরা

এবার দেখি আমরা কিভাবে এই ছুটির দিন গুলো কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু লম্বা ছুটির ব্যবস্থা করা যায়।

যাদের শুধু শুক্রবার ছুটির দিন তাদের জন্যে

  • ২১,২২ ফেব্রুয়ারী (মাতৃভাষা দিবস + শুক্রবার)
    – টানা ২ দিন ছুটি, একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৩ দিন
  • ১২,১৪ এপ্রিল (শুক্রবার + বাংলা নববর্ষ)
    – মাঝে একদিন ছুটি নিলে টানা ৩দিনের ছুটি
  • ১৯,২১ এপ্রিল (শুক্রবার + শবেবরাত)
    – মাঝে একদিন ছুটি নিলে টানা ৩দিনের ছুটি
  • ১৭,১৮ মে (শুক্রবার + বুদ্ধপূর্ণিমা)
    – টানা ২দিন, একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৩দিন
  • ৪,৫্‌,৬,৭ জুন (ঈদুল ফিতর + শুক্রবার)
    – টানা ৪দিন, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৫ দিনের ছুটি
  • ১৫, ১৬ আগস্ট (জাতীয় শোক দিবস + শুক্রবার)
    – সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৩ দিনের ছুটি হয়ে যাবে
  • ১১,১২,১৩ আগস্ট (ঈদুল আজহা)
    – টানা ৩দিনের ছুটি, তবে ১৪ তারিখ ছুটি নিলে টানা ৬ দিনের ছুটি হবে
  • ১৫,১৬ আগস্ট (জাতীয় শোক দিবস + শুক্রবার)
    – টানা ২ দিনের ছুটি, তবে ১৪ তারিখ ছুটি নিলে টানা ৬দিনের ছুটি হবে
  • ৮,১০ নভেম্বর (শুক্রবার + ঈদে মিলাদুন্নবী)
    – মাঝে একদিন ছুটি নিলে টানা ৩দিনের ছুটি
  • ২৫,২৭ ডিসেম্বর (বড়দিন + শুক্রবার)
    – মাঝে একদিন ছুটি নিলে টানা ৩ দিনের ছুটি

যাদের শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন তাদের জন্যে

  • ২১,২২,২৩ ফেব্রুয়ারী (মাতৃভাষা দিবস + শুক্র ও শনি)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৪ দিন
  • ১২,১৩,১৪ এপ্রিল (শুক্র ও শনি + বাংলা নববর্ষ)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৪ দিন
  • ১৯,২০,২১ এপ্রিল (শুক্র ও শনি + শবেবরাত)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৪ দিন
  • ১৫,১৬,১৭ মার্চ(শুক্র ও শনি + জাতির পিতার জন্মদিন)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৪ দিন
  • ১,৩,৪ মে (মে দিবস + শুক্র ও শনি)
    – ২তারিখ ছুটি নিলে ৪ দিনের টানা ছুটি
  • ৪,৫্‌,৬,৭,৮ জুন (ঈদুল ফিতর + শুক্র ও শনি)
    – টানা ৫ দিনের ছুটি
  • ১৫,১৬,১৭ আগস্ট (জাতীয় শোক দিবস + শুক্র ও শনি)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৪ দিন
  • ৯,১০,১১,১২,১৩ আগস্ট (শুক্র ও শনি + ঈদুল আজহা)
    – টানা ৫ দিনের ছুটি, তবে ১৪ তারিখ ছুটি নিলে টানা ৯ দিনের ছুটি হবে
  • ১৫,১৬,১৭ আগস্ট (জাতীয় শোক দিবস + শুক্র ও শনি)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, তবে ১৪ তারিখ ছুটি নিলে টানা ৯ দিনের ছুটি হবে
  • ৮,৯,১০ নভেম্বর(শুক্র ও শনি + ঈদে মিলাদুন্নবী)
    – টানা ৩ দিনের ছুটি, সাথে একদিন আগে বা পিছে ছুটি নিলে ৪ দিন
  • ১৩,১৪,১৬ ডিসেম্বর (শুক্র ও শনি + বিজয় দিবস)
    – ১৫ তারিখ ছুটি নিলে টানা ৪ দিনের ছুটি হবে
  • ২৫,২৭,২৮ ডিসেম্বর (বড়দিন + শুক্র ও শনি)
    – ২৬ তারিখ ছুটি নিলে টানা ৪দিনের ছুটি হবে

এছাড়া ঐচ্ছিক ছুটির (মুসলিম পর্ব) মধ্যে রয়েছে-
৪ এপ্রিল শবেমেরাজ, ৭ জুন ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন, ১৪ আগস্ট ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন, ২৩ অক্টোবর আখেরি চাহার সোম্বা এবং ৯ ডিসেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।

হিন্দু পর্বের ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে-
১০ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা, ৪ মার্চ শিবরাত্রী ব্রত, ২১ মার্চ দোলযাত্রা, ৩ এপ্রিল হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়া, ৭ অক্টোবর দুর্গাপূজা (নবমী), ১৩ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা এবং ২৭ অক্টোবর শ্যামাপূজা।

খ্রিস্টান পর্বের ঐচ্ছিক ছুটিঃ
১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ৬ মার্চ ভস্ম বুধবার, ১৮ এপ্রিল পুণ্য বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল পুণ্য শুক্রবার, ২০ এপ্রিল পুণ্য শনিবার, ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডে এবং ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মোৎসব (বড়দিনের আগে ও পরের দিন)

ঐচ্ছিক ছুটির (বৌদ্ধ পর্ব) মধ্যে রয়েছে-
১৯ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা, ১৩ এপ্রিল চৈত্রসংক্রান্তি, ১৬ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ১৩ সেপ্টেম্বর মধু পূর্ণিমা এবং ১৩ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা ও এর বাইরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির মধ্যে রয়েছে – ১২ ও ১৫ এপ্রিল বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অনুরূপ সামাজিক উৎসব।

এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ফেলুন কোন কোন ছুটির দিন গুলোতে কোথায় ঘুরতে যাবেন। কোন একদিন ছুটির দরকার হলে আগে থেকেই সেইভাবে প্রস্তুত রাখুন নিজেকে যেন সেইদিন ছুটি নিয়ে আমাদের এই ছুটির ক্যালেন্ডার কাজে লাগিয়ে একসাথে টানা বেশ কয়েকদিন ছুটির ব্যবস্থা করে ফেলতে পারবেন।

আশা করি আমাদের এই ভ্রমণ টিপস আপনাদের অনেক কাজে লাগবে। ভালো লাগবে শেয়ার করুন ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে, আর আপনার কোন মন্তব্য থকালে জানিয়ে দিন আমাদের মন্তব্যের ঘরে। আর ভ্রমণের সকল কিছুর জন্যে সবসময় সাথে থাকুন আমাদের ভ্রমণ গাইড এর সাথে।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।