ব্যস্ত এই ঢাকা শহরের যান্ত্রিকতার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নগরবাসী ক্রমেই চিত্তবিনোদন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। সময়ের সাথে সাথে বড় হয়ে উঠা এই জাদুর শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের শিকড়ের টান। ছুটির দিন গুলোতে পরিবার বা প্রিয়জন নিয়ে ঢাকার দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ দিতে পারে একটু প্রাণ। ভ্রমণ গাইডের এই আয়োজনে রাজধানী ঢাকায় সময় কাটানো বা ঘুরে দেখা যায় এমন কিছু স্থান সম্পর্কে জানবো। আজ প্রথম পর্বে থাকছে রাজধানী ঢাকার ৮টি ঐতিহাসিক ও সুন্দর দর্শনীয় স্থান।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

shaheed-minar-dhaka-vromon-guide

শহীদ মিনার বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জল স্মৃতির ধারক। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অবস্থিত। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” দাবীতে শহীদ হওয়া সালাম, জব্বার, রফিক সহ নাম না জানা শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। সময় পেলেই একটি বিকেলে ঘুরে আসতে পারেন ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ থেকে।

রোজ গার্ডেন প্যালেস

rose-garden-dhaka-vromon-guide

হৃষিকেস দাস নামের এক হিন্দু জমিদার ১৯ শতকে রাজধানী ঢাকার টিকাটুলিতে রোজ গার্ডেন প্যালেসটি নির্মাণ করেন। রোজ গার্ডেন প্যালেসের নয়নাভিরাম সাজঘর ছিল তৎকালীন সময়ের মূল আকর্ষণ। প্রাসাদের সামনে বাগানে রয়েছে মার্বেলের তৈরি কয়েকটি সুদৃশ্য মূর্তি। ছুটির দিন ছাড়া অন্য সকল দিনই রোজ গার্ডেন দেখতে পারবেন। তবে মূল ভবনের ভেতরে ঢুকার ক্ষেত্রে আপনার পূর্ব অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

তারা মসজিদ

star-mosque-dhaka-vromon-guide

পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় আবুল খয়রাত সড়কে তারা মসজিদটি অবস্থিত। ১৮ শতকের শুরুর দিকে তৎকালীন ঢাকার জমিদার মির্জা গোলাম পীর তারা মসজিদ নির্মাণ করেন। মোঘল স্থাপত্য কৌশলে নির্মিত মসজিদটি অনেকের কাছে সিতারা মসজিদ বা মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ নামে পরিচিত। সমস্ত মসজিদের নকশায় তারার ‘মোটিফ’ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এই বিশেষ নকশার জন্যই মসজিদটি তারা মসজিদ নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

লালবাগ কেল্লা

lalbagh-fort-dhaka-vromon-guide

সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ শাহজাদা আজম ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে লালবাগ দূর্গের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বর্তমানে লালবাগ কেল্লার সুবেদার শায়েস্তা খাঁনের বাসভবন ও দরবার হল জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে আরো দেখতে পাবেন মনোরম বাগান, পরীবিবির সমাধি সৌধ, লালবাগ কেল্লা মসজিদ, ফোয়ারা, আরো কিছু সমাধি এবং তৎকালীন সময় যুদ্ধে ব্যবহৃত কামান ইত্যাদি। সপ্তাহের রবি ও সোমবার যথাক্রমে পূর্ণ ও অর্ধ দিবস এবং সকল সরকারী ছুটির দিনে লালবাগ কেল্লা বন্ধ থাকে।

আহসান মঞ্জিল

ahsan-manzil-dhaka-vromon-guide

আহসান মঞ্জিল পুরান ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঢাকা শহরের প্রথম ইট-পাথরের তৈরি স্থাপত্য নিদর্শন। মার্বেল পাথরের এই প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে খাবার ঘর, লাইব্রেরি, জলসাঘর, দরবার হল এবং বিলিয়ার্ড খেলার জায়গা। আর দোতলায় রয়েছে অথিতিদের থাকার কক্ষ, বৈঠকখানা, নাচঘর, গ্রন্থাগার এবং আরো কিছু বসবাসের কক্ষ। প্রসাদের ঠিক সামনে রয়েছে চমৎকার ফুলের বাগান ও সবুজ মাঠ। ১৯৯২ সালে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আহসান মঞ্জিলের রংমহলের ২৩ টি কক্ষে ৪ হাজার ৭৭ নিদর্শন রয়েছে।

জাতীয় জাদুঘর

bangladesh-national-museum-dhaka-vromon-guide

জাতীয় জাদুঘর বাংলাদেশের যুগ যুগ ধরে বেড়ে উঠার সমস্ত স্মৃতি চিহ্ন ধারাবাহিকতার সাথে আগলে রেখে চলেছে। ১৯১৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের একটি কক্ষে ঢাকা জাদুঘর নামে পথ চলা শুরু করে আজকের এই জাতীয় জাদুঘর। শাহবাগ এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এই জাদুঘরে ৪৬টি গ্যালারিতে রয়েছে প্রায় ৮৩ হাজারের বেশি নিদর্শন। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এ জাদুঘর প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও সরকারির ছুটির দিন জাতীয় জাদুঘর বন্ধ থাকে। তবে একুশে ফেব্রুয়ারী, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি বিশেষ দিনে জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত থাকে।

মৈনট ঘাট

moinot-ghat-dhaka-vromon-guide

দোহার উপজেলার মৈনট ঘাট বর্তমানে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে সোজা একটি রাস্তা এসে মিলেছে দোহারের মৈনট ঘাটে। পদ্মার এক পাড়ে দোহার আর অপর পাড়ে ফরিদপুর। ঘাটের পূর্ব পাশে বিশাল চর মানুষকে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে করিয়ে দেয় আর সামনের বিস্তীর্ণ পদ্মা হয়ে যায় সাগর। আর চাইলে এখান থেকে নৌকায় করে পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়ানো যায় কিংবা পাড় ধরে হাটা যায় ইচ্ছে মত। ঢাকার কাছে হওয়ার এবং দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় বিধায় মৈনট ঘাট ভ্রমণ পাগল মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

গোলাপ গ্রাম সাদুল্লাহপুর

golap-gram-savar-vromon-guide

সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে তুরাগ নদীর তীরের অবস্থিত সাদুল্লাপুর গ্রামটিই বর্তমানে গোলাপ গ্রাম হিসাবে পরিচিত। নানা রঙের গোলাপ ফুল দিয়ে ঘেরা সমস্ত সাদুল্লাহপুর গ্রামটিকে একটি বাগান মনে হয়। গ্রামের বুকের উপর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার দুপাশের বিস্তীর্ণ গোলাপের বাগান সারাক্ষণ মোহিত করে রাখে। গোলাপ হিসাবে পরিচিতি পেলেও সাদুল্লাহপুর গ্রামে জারভারা, গ্লাডিওলাস এবং রজনীগন্ধা ফুলের চাষ করা হয়। ঢাকার শাহবাগসহ অন্যান্য ফুলের বাজারের চাহিদা মেটানোর প্রধান যোগানদাতা হচ্ছে সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রাম।

ঢাকার বেড়ানোর জায়গা গুলো নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন – ঢাকায় বেড়ানোর জায়গা (২)

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।