জিন্দা পার্ক (Zinda Park) নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত। জিন্দা পার্কে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারের বেশী গাছ, ৫ টি জলাধার ও অসংখ্য পাখি রয়েছে। চারপাশে সবুজের আচ্ছাদন। যেদিকেই তাকাবেন এখানে সবুজ গাছপালা তার সাথে রয়েছে নানা রকমের ফুল ও ফল। গাছের উপর রয়েছে টং ঘর, বড় সান বাধানো পুকুর, পুকুরের উপর সাঁকো, রয়েছে মাটির ঘর। এছাড়া পার্কের ভেতরে আছে মার্কেট, একটি অতি সুন্দর স্থাপত্যশৈলীর লাইব্রেরী, ক্যান্টিন ও মিনি চিড়িয়াখানা। আর নৌবিহারের জন্য পার্কের লেকে আছে ৮ টি সুসজ্জিত নৌকা। জিন্দা পার্কের বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণশৈলী আপনাকে মুগ্ধ করবে। এই পার্কটির বিশেষত্ব হল এটি এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। ১৯৮০ সালে ৫০০০ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা অগ্রপথিক পল্লী সমিতির দীর্ঘ ৩৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হচ্ছে এই জিন্দা পার্ক। অগ্রপথিক পল্লী সমিতির একাগ্রতা ও কর্মনিষ্ঠার জন্য জিন্দা গ্রামটিকে আদর্শ গ্রাম বলা হয়৷ জিন্দা পার্ক নিয়ে ভিডিও রিভিউ ভ্রমণ গাইড ইউটিউব চ্যানেলে দেখতে এইখানে ক্লিক করুন।

ঢাকা থেকে জিন্দা পার্কের দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার। পিকনিক কিংবা ডে আউট করতে চাইলে নিশ্চিন্তে বেছে নিতে পারেন জিন্দা পার্কটিকে। একদিকে যেমন সবুজে ঢাকা পার্কটি আপনার মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে অন্য দিকে পার্কটি যে কোন উটকো ঝামেলা থেকে সম্পূর্ন নিরাপদ। তবে এখানে পিকনিক করতে চাইলে কতৃপক্ষকে দুই তিন দিন আগে থেকে জানিয়ে রাখা ভালো। ঢাকা থেকে দিনে গিয়ে দিনে ঘুরে আসার জন্যে এইরকম সবুজ খোলেমেলা গুছানো গ্রাম্য নান্দনিক পরিবেশ আপনার ভালো লাগবেই।

জিন্দা পার্ক যাবার উপায়

জিন্দা পার্ক যাবার সবচেয়ে সহজ ও সুন্দর রাস্তা হল কুড়িল বিশ্বরোডে পুর্বাচল হাইওয়ে অর্থাৎ ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে জিন্দা পার্ক গেলে৷ ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড চলে আসুন। কুড়িল রেল লাইনের পাশে বিআরটিসি কাউন্টার থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যাওয়ার টিকিট কিনবেন দাম নিবে ২৫ টাকা। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাম পাশে ঢাকা সিটি বাইপাস ধরে ৪ কিলোমিটার দূরেই জিন্দা পার্ক। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাইপাসের মোড়ে থেকে জিন্দাপার্ক অটোরিক্সা ভাড়া প্রতিজন ৩০ টাক। আর রিসার্ভ নিলে ১০০/১২০ টাকায় পেয়ে যাবেন।

৩০০ ফিট এর রাস্তার মাথায় লোকাল সিএনজি বা লোকাল প্রাইভেট কার বা লেগুনা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত যেতে পারবেন, ভাড়া জনপ্রতি ৪০-৫০ টাকা। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাইপাসের মোড়ে লোকাল অটোতে জিন্দা পার্ক যেতে ২৫-৩০ টাকা ভাড়া লাগবে জনপ্রতি।

এছাড়া চাইলে কুড়িল ৩০০ ফিট রাস্তা থেকে রিজার্ভ সিএনজি বা অটোরিক্সাও ভাড়া করে সরাসরি জিন্দা পার্ক যেতে পারবেন। সাধারণত সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা আর অটোরিক্সা দিয়ে গেলে একটু সময় লাগলেও চারপাশের সুন্দর দৃশ্য দেখতে দেখতে চলে যেতে পারবেন আরামে, ভাড়া নিবে ২০০-২৫০ টাকা। তবে দরদাম করে নিতে হবে। ফিরে আসার সময় গাড়ি না পেলে লোকাল গাড়িতে জিন্দা পার্ক থেকে কাঞ্চন ব্রিজ চলে আসুন। সেখান থেকে কুড়িল আসার অনেক ধরণের গাড়ি পাবেন।

অথবা চাইলে ঢাকা থেকে বাসে করে কাঁচপুর ব্রীজ পাড়ি দিয়ে ভূলতা। ভুলতা থেকে মহানগর বাইপাস হয়ে জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়। ভুলতা থেকে দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। চাইলে সিএনজি/অটো রিজার্ভ করে যেতে পারবেন। অথবা লোকাল সিএনজি/কার/অটো দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ এসে সেখান থেকে রিজার্ভ/লোকাল অটো দিয়ে জিন্দা পার্ক।

ঢাকা থেকে টঙ্গী মিরের বাজার দিয়ে বাইপাস রাস্তা ধরে জিন্দা পার্ক যেতে পারবেন। এই পথে টঙ্গী থেকে জিন্দা পার্কের দূরত্ব মাত্র ২৮ কিলোমিটার। এছাড়া চাইলে আপনার নিজের ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়েও উল্লেখিত কোন পথে জিন্দা পার্ক যেতে পারবেন। সপ্তাহের প্রতিদিনই জিন্দা পার্ক খোলা থাকে।

খোলার সময় : সকাল ৯টা।
প্রবেশ মূল্য : জিন্দা পার্কে প্রবেশের টিকিট মূল্য ১০০ টাকা, বাচ্চাদের জন্যে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।
লাইব্রেরী ফিঃ ১০ টাকা
পার্কিং ভাড়া : ৫০-১০০ টাকা।
পার্ক বন্ধের দিন: জিন্দা পার্ক সপ্তাহের সাতদিনই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। যদি কোন বিশেষ কারণে পার্ক বন্ধ থাকে তবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সেই সম্পর্কে নোটিশ দিয়ে দেয়া হয়।
কোথায় থাকবেন: জিন্দা পার্কে থাকার কোন ব্যবস্থা নেই।

জিন্দা পার্কে খাওয়ার ব্যবস্থা

জিন্দা পার্কের ভিতরেই রেস্টুরেন্ট আছে। চাইলে আপনি প্যাকেজ আকারে খেতে পারবেন। দেশি খাবারের বিভিন্ন আইটেম যেমন মুরগি/গরু/খাসি সবজী, ডাল ও ভাত খেতে খরচ পরবে ২০০-২৮০ টাকার মধ্যে। আপনি চাইলে বাইরে থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারবেন। তবে সেইক্ষেত্রে ২৫ টাকা ফী দিতে হবে।

জিন্দা পার্কের যোগাযোগের ঠিকানা

ফোন : ১৭১৬ ২৬০৯০৮, ০১৭২১ ২৬৬৬১০, ০১৭১৫ ০২৫০৮৩
ওয়েবসাইট : www.zindapark.com
ই-মেইল : shahin.swd007@gmail.com

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।