শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জন্মস্থান ময়মনসিংহ জেলা শহরের সাহেব কোয়ার্টার এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে তাঁর কালজয়ী চিত্রকর্ম ও ব্যবহার্য নানান রকম জিনিস নিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা (Shilpacharya Zainul Abedin Sangrahashala) গড়ে তোলা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ এপ্রিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিজের ৭০টি চিত্রকর্ম নিয়ে তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের মাধ্যমে এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালাটি একটি দ্বিতল ভবনের রূপ লাভ করে।

এছাড়া শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে বাঁধ দিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যান গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা অসংখ্য দর্শনার্থী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা এবং উদ্যান পরিদর্শনে আসেন। বর্তমানে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কতৃক পরিচালিত হচ্ছে।

টিকেট মূল্য ও সময়সূচী

১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা, দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য জনপ্রতি ২০ টাকা, সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য প্রবেশ ফি ৩০০ টাকা এবং অন্য সকল দেশের বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রবেশ টিকেটের মূল্য ৫০০ টাকা।

এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সংগ্রহশালাটি খোলা থাকে। আর অক্টোবর হতে মার্চ মাস পর্যন্ত শনিবার থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন জাদুঘর পরিদর্শন করা যায়। এছাড়া সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার দুপর ৩ টা থেকে সন্ধ্যা ৮ পর্যন্ত সংরহশালায় প্রবেশ করা যায়। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা সকলের জন্য বন্ধ থাকে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে এনা, আলম এশিয়া, শামীম এন্টারপ্রাইজ, শৌখিন কিংবা নিরাপদ পরিবহনের বাসে করে ৩২০ টাকা ভাড়ায় ময়মনসিংহ যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে ময়মনসিংহ ভ্রমণ করতে চাইলে তিস্তা এক্সপ্রেস (সকাল ৭ঃ৩০), মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস (দুপুর ০১ঃ১৫), যমুনা এক্সপ্রেস (বিকেল ০৪ঃ৪৫), ব্রহ্মপুত্র (সন্ধ্যা ০৬ঃ১৫) এবং হাওর এক্সপ্রেস (রাত ১০ঃ১৫) এইসব ট্রেনের যে কোনটায় আপনার সময় ও পছন্দমত ট্রেনে সরাসরি ময়মনসিংহ যেতে পারবেন। শ্রেণীভেদে ভাড়া ১২০ থেকে ৫০১ টাকা। যেতে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে ষ্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে রিকশা, সিএনজি কিংবা ইজিবাইক যোগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালায় যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

ঢাকা ও আশেপাশের জেলা থেকে ময়মনসিংহ গেলে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রয়োজনে রাতে থাকতে চাইলে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল আল হেরা, হোটেল মোস্তাফিজ, সিলভার ক্যাসেল, রিভার প্যালেস, হোটেল আসাদ, ঈশা খাঁ এবং হোটেল নিরালায় যোগাযোগ করতে পারেন।

কোথায় খাবেন

ময়মনসিংহের ভালো মানের খাবার হোটেলের মধ্যে সারিন্দা, হোটেল খন্দকার, ধান সিড়ি, সেভেন ইলেবেন, হোটেল মিনার, রোম থ্রি এবং ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব কেন্টিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সময় সুযোগ থাকলে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী মালাইকারী, গুড়ের সন্দেশ, মুক্তাগাছার মন্ডা এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাঁটি দই খেয়ে দেখতে পারেন।

ময়মনসিংহের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা ও পার্ক ছাড়াও হাতে সময় থাকলে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত শশী লজ, আলেকজান্ডার ক্যাসেল, ময়না দ্বীপ, ময়মনসিংহ জাদুঘর এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখতে পারেন।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

ম্যাপে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালা

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।