করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী কিছুদিন কোথাও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন ও সচেতন থাকুন। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন

গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে মুকসুদপুরে অবস্থিত উজানী রাজবাড়ী (Ujani Palace) একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। কালের বিবর্তনে রাজবাড়ীর প্রাচীন শিল্প নিদর্শনগুলো অনেকাংশে হারিয়ে গেছে। তবে জমিদারী প্রথার সাক্ষী হিসেবে রাজবাড়িটি টিকে থাকলেও যথাযথ সংস্কারের অভাবে এই স্থাপনার সৌন্দর্য বিলুপ্তির পথে। ব্রিটিশ শাসনামলে যশোর জেলা থেকে গোবিন্দ ও সুর নারায়ণ নামের দুই জমিদার গোপালগঞ্জের উজানী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তারা তেলিহাটি পরগনার প্রায় ৫০ হেক্টর এলাকা নিয়ে জমিদারী প্রথা চালু করেন এবং জমিদারী কাজের জন্য কয়েকটি দ্বিতল ও ত্রিতল প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সে পরিকল্পনার অংশ হিসাবে উজানিতে কারুকার্যখচিত জমিদার বাড়ি নির্মাণ করা হয়, যা বর্তমানে উজানী রাজবাড়ী হিসেবে পরিচিত।

প্রাসাদ ব্যতীত উজানী রাজবাড়ীতে আরও আছে বৈঠকখানা, পুকুরের ঘাট, মঠ ও মন্দির। জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির সাথে সাথে জমিদার ও তাদের উত্তরসূরিরা ভারতে চলে গেলেও সুর নারায়ণের বংশধররা এখনো এই উজানী জমিদার বাড়ীতে বসবাস করছেন। তৎকালীন সময়ে উজানী জমিদারের মোট ৭টি জমিদারী ছিল। বর্তমানে কারুকার্যখচিত উজানী রাজবাড়ীর পুরনো পাঁচিল, মন্দির ও টেরাকোটা ঘেরা মঠের ছাদ প্রায় ভেঙ্গে গিয়েছে এবং জমিদার বাড়ীর সাথে অবস্থিত কষ্টিপাথরের কালীমন্দির ও বিশাল দীঘি সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তপ্রায়। উজানী জমিদার বাড়ির অদূরে মহাটালি গ্রামে আরেকটি প্রাচীন জমিদার বাড়ি রয়েছে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পলাশ, ইমাদ, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, গোল্ডেন লাইন, গ্রিনলাইন, কমফর্ট, রাজধানী কিংবা বিআরটিসির বাসে গোপালগঞ্জ যাওয়া যায়। মুকসুদপুর উপজেলা থেকে উজানী রাজবাড়ীর দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। গোপালগঞ্জের পুলিশ লাইন বা ঘোনাপাড়ায় বাস থেকে নেমে অন্য আরেকটি বাস/ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে/ভ্যান/নসিমনে উজানী বাজারের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত উজানী রাজবাড়ী পৌঁছাতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

গোপালগঞ্জ শহরে হোটেল মধুমতি, হোটেল রানা, পলাশ গেস্ট হাউজ, হোটেল শিমুল, হোটেল সোহাগ, হোটেল রিফাত ও হোটেল জিমি সহ বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউস রয়েছে।

কোথায় খাবেন

গোপালগঞ্জ শহরে বাঙ্গালী খাবারের পাশাপাশি ফাস্টফুড ও চাইনিজ খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। শহরের বঙ্গবন্ধু রোডের কাছে লেক ভিউ ক্যাফে, ভুতের বাড়ি, বারবিকিউ টুনাইট বা এফএনএফ রেস্টুরেন্টে নিজের পছন্দের খাবার খেতে পারবেন।

গোপালগঞ্জের দর্শনীয় স্থান

গোপালগঞ্জের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ, বিট রুট ক্যানেল, আড়পাড়া মুন্সিবাড়ি, শেখ রাসেল শিশু পার্ক ও লাল শাপলার বিল প্রভৃতি।

ফিচার ইমেজ: মোঃ খালেক

ম্যাপে উজানী রাজবাড়ী

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।