সাগরের নীল জলরাশি, পাহাড়ের কোলঘেঁষা মেরিন ড্রাইভ কিংবা ইনানী ও হিমছড়ির চিরচেনা প্রাকৃত সৌন্দর্যের বাইরে কক্সবাজার ভ্রমণে এবার যোগ হয়েছে রোমাঞ্চকর এক নতুন মাত্রা। কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায় চালু হওয়া দ্য গ্লিচ গ্যালারি (The Glitch Gallery) পর্যটকদের জন্য এক কল্পনার মায়াজালের জগৎ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, দ্য গ্লিচ গ্যালারি কোনো আলাদা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি কক্সবাজারের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ভবনের ভেতরেই নির্মিত একটি নতুন এক্সটেনশন বা জোন।
এখানে মূলত অপটিক্যাল ইলিউশন, থ্রি-ডি আর্ট ও ক্রিয়েটিভ ফটোগ্রাফির মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের চোখ ও মস্তিষ্কের চিন্তা ভাবনাই বদলে দেয়। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা শিশুদের নিয়ে চমৎকার সব ছবি তোলা, সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ট্রেন্ডিং রিলস বানানো এবং দৃষ্টিভ্রম বা ইলিউশনের অদ্ভুত মজা নেওয়ার জন্য এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা গন্তব্য।
প্রধান আকর্ষণ ও গ্যালারি
দ্য গ্লিচ গ্যালারি মূলত ৩টি আলাদা ইনডোর গ্যালারিতে বিভক্ত। উজ্জ্বল নিয়ন লাইটিং, চোখের পলকে বিভ্রান্তি তৈরি করা ছবি ও জাদুকরি পোর্টালের ছোঁয়ায় প্রতিটি জোনে প্রবেশ করলেই মিলবে ভিন্ন ধরণের থ্রিল ও অভিজ্ঞতা।
১. মিরর মেজ (Mirror Maze)
প্রবেশের শুরুতেই হাতে ফোমের প্যাড ও পায়ে শু-কভার নিয়ে ঢুকতে হয় এই আয়নার গোলকধাঁধায়। চারপাশে আয়নার নিখুঁত দেয়াল ও প্রতিফলন থাকায় কোনটা আসল পথ আর কোনটা কেবলই প্রতিবিম্ব তা চেনা দায়! চমৎকার রঙিন লাইটিং ইফেক্টের কারণে এই মেজটি অত্যন্ত কালারফুল ও ফটোজেনিক। হাতড়ে হাতড়ে পথ খোঁজার এই অদ্ভুত দৃষ্টিভ্রম আপনার ব্রেনকেই কনফিউজড করে দেবে।
২. থ্রিডি আর্ট গ্যালারি (3D Art Gallery)
এখানে থাকা সুনিপুণ থ্রিডি পেইন্টিংগুলো এমনভাবে আঁকা যেন মনে হবে ক্যানভাস ছেড়ে দৃশ্যগুলো বাস্তব হয়ে বেরিয়ে আসছে। হিংস্র ডাইনোসর, বিশাল হাঙ্গর, জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি, বাঘের থাবা কিংবা হিমশীতল ঝরণার সামনে দাঁড়িয়ে ক্যানডিড ছবি তোলার চমৎকার সুযোগ রয়েছে। টাইটানিকের মাস্টারব্রিজ বা ভেনিস শহরের ব্যাকগ্রাউন্ডে আইকনিক ছবি তোলাসহ ফ্যামিলির সবার আনন্দঘন সময় কাটানোর জন্য এটি এক ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড।
৩. ইলিউশন মিউজিয়াম (Illusion Museum)
বিজ্ঞান ও কৌশলের সমন্বয়ে তৈরি এই জোনটিতে রয়েছে নানা রকম পারসেপশন গেম। এমস রুম-এ এক কোণে দাঁড়ালে নিজেকে ক্ষুদ্রকায় আর অন্য কোণে গেলে নিমেষেই বিশাল মনে হবে। এছাড়া ফ্লোটিং কর্নার (শূন্যে ভেসে থাকা), সিলিংয়ে আসবাব ঝুলে থাকা আপসাইড ডাউন কর্নার, কাটা মাথার ইলিউশন টেবিল, ক্যালাইডোস্কোপ এবং জটিল রিভারসপেক্টিভ শ্যাডো আর্ট আপনাকে বারবার অবাক করবে।
কিভাবে যাবেন
কক্সবাজারের ঝাউতলা মেইন রোডের পাশে রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড (Radiant Fish World) ভবনের ২য় তলায় দ্য গ্লিচ গ্যালারি অবস্থিত।
কক্সবাজার শহরের যেকোনো স্থান বা বীচ এলাকা থেকে সিএনজি, ইজিবাইক বা অটোরিকশা নিয়ে ঝাউতলা চলে আসতে পারবেন। কলাতলী বা সুগন্ধা বীচ পয়েন্ট থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ নিলে ভাড়া পড়বে আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০ টাকা। রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডের কথা বললে যেকোনো চালক সহজেই আপনাকে এখানে নিয়ে আসবে।
টিকিট মূল্য ও সময়সূচী
দ্য গ্লিচ গ্যালারি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।
- আলাদাভাবে যেকোনো একটি গ্যালারিতে (মিরর মেজ / থ্রিডি আর্ট / ইলিউশন মিউজিয়াম) ঢুকতে চাইলে প্রতিটির জন্য প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২০০ টাকা।
- একসাথে ৩টি গ্যালারিই উপভোগ করার জন্য কম্বো টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৪৫০ টাকা।
যোগাযোগ
দ্য গ্লিচ গ্যালারি (রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড ভবনের ২য় তলা)
ঝাউতলা, মেইন রোড, কক্সবাজার
মোবাইলঃ 01857-789234
ই-মেইলঃ theglitchgallery404@gmail.com
কোথায় খাবেন
গ্লিচ গ্যালারি ও রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড একই ভবনে অবস্থিত হওয়ায় খাবারের জন্য অন্য কোথাও যেতে হবে না। ভবনের ৩য় তলায় রয়েছে রিফ্রেশমেন্ট ও জুস বারসহ নানা ধরণের স্ন্যাক্স শপ এবং লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট। এছাড়া ঝাউতলার মেইন রোডের পাশেই রয়েছে কক্সবাজারের অত্যন্ত জনপ্রিয় পৌষি ও ঝাউবন রেস্টুরেন্ট, যেখানে অনেক রকমের সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই এবং সুস্বাদু দেশীয় ভর্তা-ভাত দিয়ে দুপুরের বা রাতের খাবার সেরে নিতে পারেন।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।
