চা বাগানের কথা আসলেই সর্ব প্রথমেই আমাদের চোখে ভেসে উঠে সিলেটের শ্রীমঙ্গলের ছবি কিন্তু দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সমতল ভূমিতেও যে বাণিজ্যিক ভাবে চা চাষ সম্ভব তা এখানে না আসলে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রায় ১৫০ বছর আগে বাংলাদেশে চায়ের উৎপাদন শুরু হলেও পঞ্চগড়ে ১৯৯৮ সালে প্রথম চা চাষ শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে পঞ্চগড়ের জমি পতিত থাকতে দেখে শিল্পপতি কাজী শাহেদ আহমদ ভারতের চা বাগান (Tea Garden) দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে চায়ের চাষ শুরু করেন।

অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষের ক্ষেত্রে কাজী টি এস্টেটই অগ্রপথিক রুপে প্রতিষ্ঠিত। কাজী টি এস্টেট ছাড়াও পঞ্চগড়ে ডাহুক টি এস্টেট, স্যালিলেন টি এস্টেট ও তেঁতুলিয়া চা করপোরেশন লিমিটেড বেশকিছু প্রতিষ্ঠান চা উৎপাদন করছে। বর্তমানে পঞ্চগড়ে দুই শতাধিক চা বাগান রয়েছে এবং চা চাষের মোট জমির পরিমাণ ২২৫৫ দশমিক ৫৪ একর।

পঞ্চগড় জেলা (Panchagarh) সদর থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। যাত্রা পথে চোখ জুড়িয়ে যাওয়া সবুজ, সুন্দর রাস্তা চা বাগানে যাওয়ার আগেই যেন অন্য রকম এক ভালো লাগার রাজ্যে নিয়ে যায়। আর তাই পঞ্চগড় বেড়াতে আসলে সাধারণত কেউই চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভুল করেন না।

কিভাবে যাবেন

শুধুমাত্র সড়ক পথে তেতুলিয়া যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথমে ঢাকা হতে বাসে পঞ্চগড়ে এসে সেখান থেকে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধাগামী লোকাল বাসে চড়ে ৪৫ টাকা ভাড়ায় তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়। তেঁতুলিয়া বাস স্টপ থেকে রিকশাযোগে জেলা পরিষদ ডাকবাংলো যেতে পারবেন। তেঁতুলিয়া বাস স্টপ হতে লোকাল পরিবহণে কমলা ও চা বাগান দেখতে যেতে পারবেন।

ঢাকা হতে পঞ্চগড়
ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী বেশকিছু ডে-নাইট বাস সার্ভিস চালু আছে। নন-এসি হানিফ অথবা নাবিল পরিবহনণের বাসে সরাসরি পঞ্চগড় যেতে জনপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা ভাড়া লাগবে। আর হানিফ পরিবহণের ভলভো বাসের বিজনেস ক্লাসের ভাড়া ১৫০০ টাকা, আর ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ১২০০ টাকা। এছাড়া নাবিলের স্কেনিয়া বাসের বিজনেস ক্লাসের টিকেট কাটতে ১৬০০ এবং ইকোনমি ক্লাসের টিকেট কাটতে ১০০০ টাকা লাগে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি পঞ্চগড় যাবার সুযোগ নেই, এক্ষেত্রে সন্ধ্যায় দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে দিনাজপুর বা পার্বতীপুর যেতে হবে। দিনাজপুর যেতে প্রায় ভোর ৬ টা বাজবে, এরপর ৩ ঘন্টার বাস জার্নিতে চলে যান পঞ্চগড়। এছাড়া দিনাজপুর কিংবা পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশান থেকে লোকাল ট্রেন ও ডেমু ট্রেন পঞ্চগড় যায়। সময় মিলে গেলে এসব ট্রেনে পঞ্চগড় চলে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

তেঁতুলিয়ায় (Tetulia or Tentulia) তেমন ভাল কোন আবাসিক হোটেল নেই। থাকতে চাইলে জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডাকবাংলো কিংবা তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারে রাত্রিযাপন করতে হবে। বাংলোতে রাতে থাকতে গেলে আবার অফিস চলাকালীন সময়ে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ সচিব অথবা তেতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করে অগ্রিম বুকিং দিতে হয়। এমন জটিলতার জন্য পর্যটকেরা পঞ্চগড় জেলা শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতেই রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে ফিরে যায়। পঞ্চগড়ে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলের ধরন অনুযায়ী ২০০ থেকে ১০০০ টাকা ভাড়ায় থাকতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

যদি ট্রেনে যাত্রা করেন তবে দিনাজপুরে রুস্তম কিংবা ফাইভ স্টার হোটেলের গরুর ভুনা মাংস মিস করা ঠিক হবে না। এছাড়া দিলশাদ হোটেল আর রোলেক্স ফুডের খাবার চেখে দেখতে পারেন। পঞ্চগড় শহরে খাবার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল পাবেন তবে মৌচাক হোটেলের খাবার খেয়ে দেখতে পারেন।

আশেপাশের আরো কিছু দর্শনীয় স্থান

  • মহারাজার দিঘী
  • মির্জাপুর শাহী মসজিদ
  • ভিতরগড় দুর্গনগরী
  • গোলকধাম মন্দির
  • বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট
  • বার আউলিয়া মাজার শরীফ
  • তেঁতুলিয়া ডাক-বাংলো

ফিচার ইমেজ : ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশ

ম্যাপে চা বাগান

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।