বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার ১ নং পাইন্দু ইউনিয়নে অবস্থিত সুংসাং পাড়া (Sunsang Para) বর্তমান সময়ের ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এক অপার বিস্ময়। কেওক্রাডং পাহাড়ের গা ঘেঁষে থাকা বম সম্প্রদায়ের এই গ্রামটি একই সাথে শান্ত, দুর্গম আর বৈচিত্র্যময়। পাসিং পাড়া থেকে রোমাঞ্চকর ও খাড়া ডাউনহিল রাস্তা (Downhill Road) ধরে নামলেই চোখে পড়বে আদিবাসীদের সুন্দর ঘরবাড়ি, সবুজ জুম খেত আর চারপাশের মেঘের খেলা।

বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু ও নির্জন এই জনপদটি সম্পূর্ণ নিরিবিলি আর শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। ট্রেকার ও বাইকারদের কাছে এই দুর্গম রুটটি এখন অন্যতম আকর্ষণীয় এক চ্যালেঞ্জ। তবে সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি পাহাড়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি, কড়া প্রশাসনিক নিয়ম এবং পিচ্ছিল রাস্তার কঠিন বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই এখানে পা বাড়ানো উচিত।

কি দেখবেন সুংসাং পাড়ায়

মুনলাই পাড়া, বগালেক, দার্জিলিং পাড়া ও দেশের অন্যতম উঁচু পাহাড় কেওক্রাডং পেরিয়ে সুংসাং পাড়ার দিকে এগিয়ে চলার অনুভুতি এককথায় অতুলনীয়। এখানে শেষ গন্তব্য যতটা সুন্দর, পুরো যাত্রাপথটি ঠিক ততটাই রোমাঞ্চে ভরা। পাহাড়ের আবহাওয়া একেবারেই অনিশ্চিত। হঠাৎ করে ঘন মেঘে চারপাশ ঢেকে যাওয়া, আবার কয়েক সেকেন্ডেই রোদ ওঠা এই পথের নিত্যদিনের খেলা। মেঘ-রোদের এই বৈচিত্র্যময় আবহাওয়াই ভ্রমণকারীদের দীর্ঘ পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।

সুংসাং পাড়া হচ্ছে বম সম্প্রদায়ের একটি বৈচিত্র্যময় পাহাড়ী জনপদ। এখানকার বেশিরভাগ অধিবাসী খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। পাড়ার মাঝখান দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পথ চলে গেছে, যার দুই প্রান্তে স্থানীয়দের নান্দনিক ঘরবাড়ি বিস্তৃত। নিজেদের ঐতিহ্যবাহী জুম খেতের কাজের পাশাপাশি স্থানীয়রা রাস্তার ধারে ছোট ছোট দোকানে পাহাড়ি ফল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করে থাকেন।

সুংসাং পাড়ায় প্রবেশের ঠিক আগেই উঁচু একটা সুন্দর পাহাড়ী ভিউ-পয়েন্ট রয়েছে। সেখান থেকে নিচের আঁকাবাঁকা সড়কটির চমৎকার প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়। বিশেষ করে হালকা বৃষ্টির পর সেখানে দাঁড়ালে প্রকৃতির স্নিগ্ধ রূপ দেখে নিমেষেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।

কিভাবে যাবেন

সুংসাং পাড়া দেখতে হলে আপনাকে প্রথমে বান্দরবান আসতে হবে। সুংসাং পাড়া দেখতে যাওয়ার রুট:

ঢাকা > বান্দরবান > রুমা বাজার > মুনলাই পাড়া-বগালেক-দার্জিলিং পাড়া-কেওক্রাডং (সড়কপথ, বাইক/চাঁদের গাড়ি) > পাসিং পাড়া > সুংসাং পাড়া

আরও পড়ুনঃ ঢাকা থেকে বান্দরবান যাওয়ার বিস্তারিত উপায়

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে সরাসরি বান্দরবানের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৮৭০ থেকে ৯৫০ টাকা এবং এসি বাসের (যেমন: শ্যামলী, সেন্টমার্টিন ট্রাভেলস, সৌদিয়া) ভাড়া ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে বান্দরবান পৌঁছাতে সময় লাগে সাত থেকে আট ঘণ্টার মতো।

বান্দরবান থেকে রুমা বাজার: বান্দরবান বাস স্ট্যান্ডে নেমে অটোতে (ভাড়া প্রায় ২০ টাকা) চলে যেতে হবে রুমা বাস স্ট্যান্ডে। সেখান থেকে লোকাল বাসে জনপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকা ভাড়ায় রুমা বাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বাস ছাড়া শুরু হয় এবং দিনভর কয়েকটি বাস চলাচল করে। বাসে যাওয়ার পথে ওয়াই জংশন বাজারে আর্মি চেকপোস্টে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হয়, তাই ভ্রমণের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি সঙ্গে রাখুন। সকাল সকাল রওনা দিতে পারলে দিনের আলোয় পুরো পথটা ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

রুমা বাজারে নিবন্ধন ও গাইড সংগ্রহ: রুমা বাজারে পৌঁছানোর আগেই যাত্রা পথে ট্যুরিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেন্টারে একটি রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হয় এবং বিকাশের মাধ্যমে ৫০ টাকা ফি জমা দিয়ে একটি প্রিন্ট করা এন্ট্রি স্লিপ নিতে হয়, যা সামনের চেকপোস্টগুলোতে দেখাতে হয়। এরপর রুমা বাজারের উপজেলা পর্যটন সেবা কেন্দ্র থেকে গাইড নিয়ে নিবেন। নিবন্ধিত গাইড ছাড়া প্রশাসনের ঘোষিত এলাকার বাইরে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। একজন গাইড চাঁদের গাড়িতে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং বাইকে গেলে সর্বোচ্চ ছয়টি বাইকের সঙ্গী হতে পারেন। রুমা বাজার থেকে সুংসাং পাড়া শুধু যাওয়ার ভাড়া ৭,০০০ টাকা, যাওয়া-আসা ভাড়া ১০,০০০ টাকা ও সুংসাং পাড়ায় ১ রাত থেকে ফিরে আসার ভাড়া ১১,০০০ টাকা। একের অধিক রাত্রীযাপন করলে প্রতি রাতের জন্য ভাড়া ২,০০০ টাকা করে যোগ হবে।

রুমা বাজার থেকে সুংসাং পাড়া: গাইড বুকিংয়ের পর বাইক বা চাঁদের গাড়িতে সুংসাং পাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে ধারাবাহিকভাবে মুনলাই পাড়া, বগালেক, দার্জিলিং পাড়া, কেউক্রাডং ও পাসিং পাড়ার দেখা মিলবে।

মুনলাই পাড়া: এটি বাংলাদেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন পাড়া হিসেবে বিখ্যাত। মূলত বম সম্প্রদায়ের প্রায় ৫৪টি পরিবারের বসবাস এখানে, যাদের জীবিকা জুম চাষ ও ফলের বাগান।

বগালেক: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতায় থাকা প্রাকৃতিক হ্রদগুলোর একটি। এখানে সরকারি চেকপোস্টে এন্ট্রি করতে হয় এবং থাকা-খাওয়ার জন্য রিসোর্ট ও হোটেল ব্যবস্থা রয়েছে।

দার্জিলিং পাড়া: কেওক্রাডংয়ের পাদদেশে অবস্থিত ২২টিরও বেশি বম পরিবারের শান্ত একটি গ্রাম। এখানে একটি ছোট চার্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

কেওক্রাডং ও পাসিং পাড়া: দার্জিলিং পাড়া পার হলেই কেওক্রাডং পাহাড় চূড়া ও এর পাশেই অবস্থিত পাসিং পাড়া (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ম্রো জনগোষ্ঠীর জনবসতি)। পাসিং পাড়া পার হয়ে খাড়া ডাউনহিল পথ ধরে পৌঁছাতে হয় সুংসাং পাড়ায়।

টিপস ও সতর্কতা 

  • সময় বাঁচাতে আগে থেকেই ট্যুরিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেন্টার (Tourist Assistant Center) ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ ও পেমেন্ট করে রাখা ভালো। অনলাইনে আগেই পেমেন্ট করে PDF প্রিন্ট সাথে রাখলে সেন্টারে মাত্র কয়েক মিনিটেই কাজ শেষ হয়ে যায়। অন-স্পটে গিয়ে করতে চাইলে অনেক সময় নেটওয়ার্ক না থাকায় দীর্ঘ সময় নষ্ট হতে পারে।
  • সুংসাং পাড়ায় বাইকে এক রাত দুই দিনের ট্রিপে গাইড ফি প্রায় ২,০০০ টাকা এবং বাইক ভাড়া ২৫০০ টাকা (মোট প্রায় ৪,৫০০ টাকা) পড়তে পারে। তবে এটি সিজন, জ্বালানির দাম ও প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তনশীল।
  • ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সতর্কতা: সুংসাং পাড়ার পাহাড়ি রাস্তাকে অনেক অভিজ্ঞ ভ্রমণকারী বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন ও রোমাঞ্চকর সড়কগুলোর একটি বলে মনে করেন। খাড়া চড়াই-উৎরাই, সরু বাঁক ও বর্ষায় পিচ্ছিল রাস্তার কারণে এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তাই শুধুমাত্র অভিজ্ঞ স্থানীয় চালকের বাইক বা গাড়িতে ভ্রমণ করুন এবং পুরো যাত্রাপথে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখুন।

কোথায় থাকবেন

বান্দরবানের সুংসাং পাড়া ও এর আশপাশের অঞ্চলগুলো যেমন রূপসী, তেমনই রোমাঞ্চকর। তবে নিরাপত্তার কারণে দার্জিলিং পাড়া বা পাসিং পাড়ার মূল জনবসতির ভেতরে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি নেই। সেনাক্যাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হয়। রাতে থাকার জন্য নিচের সুবিধাজনক উপায়ে থাকতে পারেন।

  • বগালেক পাড়া: সুংসাং পাড়া বা কেউক্রাডং ট্রেইলে ওঠার আগেই প্রথম রাতের থাকার জন্য বগালেক বেশ জনপ্রিয় এবং পছন্দের প্রধান কেন্দ্র। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত প্রাকৃতিক এই লেকের পাড়েই রয়েছে স্থানীয় আদিবাসীদের পরিচালিত বেশ কিছু পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাঠের বা টিনের কটেজ/রিসোর্ট সুবিধা। যাত্রার ক্লান্তি দূর করতে বা সুংসাং পাড়ার অতি দুর্গম খাড়া আপহিল-ডাউনহিল জোন পাড়ি দেওয়ার আগে বা পরে বগালেকে রাত কাটানো সবচেয়ে সুবিধাজনক ও আরামদায়ক সমাধান।
  • সুংসাং পাড়া ও কটেজ এলাকা: পাহাড়ি খাড়া ও চ্যালেঞ্জিং পথ পেরিয়ে সুংসাং পাড়ায় পৌঁছালে পাড়ার লাগোয়া সেনাক্যাম্প সংলগ্ন স্থানে নিরাপদ রিসোর্ট বা কটেজের সুব্যবস্থা পাবেন। বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেও কটেজে বিশ্রাম ও নিরাপদে রাত্রিযাপনের ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে মূল পাহাড়ি পাড়ার অভ্যন্তরে নিরাপত্তার নিয়মাবলী মেনে রাতে থাকা ও চলাচলে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়।

    যোগাযোগ
    আলা মি ত্ল্যাং লা রিসোর্ট
    মোবাইলঃ 01575809315 (লাংওয়ালাংলিয়ান বম), 01572342822 (লালপাক সাং)

  • কেউক্রাডং চূড়া: হঠাৎ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টি কিংবা সেনাবাহিনীর নির্দেশনার কারণে কেউক্রাডং অতিক্রম করতে না পারলে সেখানকার জিরো কিলোমিটার ও ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় মৌলিক সুবিধাযুক্ত ছোটখাটো আবাসন ও সাধারণ কটেজে থাকার ব্যবস্থা মিলবে।

কোথায় খাবেন

পাহাড়ের দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা রাইডিং বা ট্রেকিংয়ের সময় সুষম খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি এলাকায় আগাম অর্ডার দেওয়া ছাড়া হুট করে রেডিমেড অতিরিক্ত খাবার পাওয়া যায় না, তাই স্থানীয় আদিবাসী পাড়া বা রিসোর্টে গাইড দিয়ে আগেই অর্ডারের ব্যবস্থা করাতে হয়।

  • মুনলাই পাড়া: বাংলাদেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পরিচিত মুনলাই পাড়াতে ভ্রমণের মাঝপথে বিরতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এখানকার ছোট দোকান বা স্টলগুলোতে সুস্বাদু ও বিশেষ স্বাদের পাহাড়ি অপরাজিতা বা ‘হারবাল চা’ পাওয়া যায়। মোটরসাইকেল রাইডিং বা ট্রেকিংয়ের দীর্ঘ ক্লান্তি দূর করতে মুনলাই পাড়ার চা অত্যন্ত জনপ্রিয়।
  • সুংসাং পাড়া ও মধ্যবর্তী পাহাড়ি পাড়া: সুংসাং পাড়া কিংবা তার সংলগ্ন পাহাড়ি পাড়াগুলোতে দুপুরের খাবার বা রাতের খাবারের জন্য গাইডকে আগেই জানিয়ে খাবার অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। এখানে সাধারণত জুমের চালের ভাত, পাহাড়ি মুরগির মাংস, ঘন ডাল ও আলু ভর্তার তৃপ্তিদায়ক খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: সুংসাং পাড়া কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার ১ নং পাইন্দু ইউনিয়নে, কেওক্রাডং পাহাড়ের কাছে। কিছু সরকারি ও সংবাদ সোর্সে জায়গাটি “সুংসুয়াং পাড়া” নামেও লেখা হয়।

প্রশ্ন: সুংসাং পাড়া ভ্রমণে কি নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে?

উত্তর: হ্যাঁ। এই এলাকা মাঝেমধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বা বর্ষা মৌসুমে বন্যা/ভূমিধসের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে বা প্রবেশে শর্ত আরোপ হয়। যাত্রার আগে অবশ্যই রুমা বাজারের ট্যুরিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেন্টার বা স্থানীয় সেনাক্যাম্পে হালনাগাদ পরিস্থিতি জেনে নিন।

প্রশ্ন: সুংসাং পাড়া যেতে গাইড বাধ্যতামূলক কি?

উত্তর: হ্যাঁ, নিবন্ধিত গাইড ছাড়া প্রশাসন-ঘোষিত এলাকার বাইরে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। রুমা বাজারের উপজেলা পর্যটন সেবা কেন্দ্র থেকে গাইড নিতে হয়।

প্রশ্ন: ঢাকা থেকে সুংসাং পাড়া যেতে কত সময় লাগে?

উত্তর:ঢাকা থেকে বান্দরবান বাসে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা, এরপর রুমা বাজার হয়ে বাইক/চাঁদের গাড়িতে মুনলাই পাড়া-বগালেক-দার্জিলিং পাড়া-কেওক্রাডং-পাসিং পাড়া পেরিয়ে সুংসাং পাড়া পৌঁছাতে পুরো একদিন সময় লাগতে পারে।

প্রশ্ন: সুংসাং পাড়ায় থাকার ব্যবস্থা আছে কি?

উত্তর: সীমিত আকারে আছে, তবে নিরাপত্তার কারণে মূল জনবসতির ভেতরে রাত্রিযাপনে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। বেশিরভাগ ভ্রমণকারী বগালেকে রাত কাটানো পছন্দ করেন। থাকার সুবিধা ও শর্ত সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়, তাই আগে থেকে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

প্রশ্ন: সুংসাং পাড়া ভ্রমণের সেরা সময় কখন?

উত্তর: শুকনো মৌসুম (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ বর্ষায় (জুন-সেপ্টেম্বর) পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং প্রশাসন প্রায়ই সাময়িক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

ম্যাপে সুংসাং পাড়া, বান্দরবান

শেয়ার করুন সবার সাথে

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

মন্তব্য জানান

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।