শিমুল বাগান (Shimul Bagan) সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর নিকটবর্তী মানিগাঁও গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এক শিমুল গাছের বাগান। ২০০৩ সালের দিকে অর্থাৎ প্রায় ১৪ বছর আগে ২ হাজার ৪০০ শতক জমিতে তিন হাজার শিমুল গাছ লাগানোর মাধ্যমে জয়নাল আবেদীন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এই বাগান শুরু করেন। শিমুল গাছের পাশাপাশি এই বাগানে অনেক লেবু গাছও রয়েছে। বসন্তকালে শিমুল বাগানের দিকে তাকালে গাছের ডালে ডালে লেগে থাকা লাল আগুনের ঝলখানি চোখে এসে লাগে। শিমুল ফুলের রক্ত লাল পাপড়িগুলো এই সৌন্দর্য্য এখানে আসা সমস্ত মানুষের মনকেই রাঙিয়ে দেয়। এক দিকে মেঘালয়ের পাহাড় সারির অকৃত্রিম সৌন্দর্য্য অন্য দিকে রূপবতী যাদুকাটা নদীর তীরের শিমুল বাগানের তিন হাজার গাছে লাল ফুলের সমাহার শরীরে ভাল লাগার শিহরণ ধরিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট।

যাবার সময়

বছরের মাত্র একটি মাস শিমুল বাগানের সমস্ত গাছগুলো রক্ত লাল ফুলে ভরে থাকে। শিমুলের ডালে আগুন দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই ফাল্গুন মাসের শুরুর দিকে যেতে হবে।

কীভাবে যাবেন

শিমুল বাগান দেখতে চাইলে প্রথমে সুনামগঞ্জ আসতে হবে। প্রতিদিন ঢাকার সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন ও শ্যামলী পরিবহণের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং মহাখালী থেকে ছেড়ে যায় এনা পরিবহণের বাস। এসব নন-এসি বাসে জনপ্রতি টিকেট কাটতে ৫৫০ টাকা লাগে আর সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় লাগে।

সুনামগঞ্জ থেকে সিএনজি কিংবা মোটরসাইকেল ভাড়া করে সরাসরি বারিক্কা টিলায় আসতে পারবেন। বারিক্কা টিলা থেকে নেমে পাশে কিছু চায়ের দোকান পাবেন এখানে যে কাউকে জিজ্ঞাস করলেই শিমুল বাগান দেখিয়ে দেবে।

শিমুল বাগান ও আশেপাশের অন্যান্য স্থান

শিমুল বাগান ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীরা সাধারণত সুনামগঞ্জ জেলার আরও কিছু দর্শনীয় স্থান একসাথেই ঘুরে দেখার জন্যে যায়। আপনি চাইলে একদিনে আরও কিছু স্থান ঘুরে দেখতে পারবেন। আপনার হাতে সময় কেমন আছে ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে পারবেন। যেমন একদিনে আশেপাশে ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন তাহলে এইভাবে পরিকল্পনা করতে পারনে।

সুনামগঞ্জ থেকে লাউরের গড় হয়ে যাদুকাটা নদীর সৌন্দর্য দেখে ঐপাড়ে বারিক টিলার চূড়ায় সময় কাটিয়ে সেখান থেকে শিমুল বাগান দেখে টেকেরঘাটের শহীদ সিরাজ লেক (নীলাদ্রি লেক) ঘুরে ফিরে আসতে পারেন। আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে নিচের ভ্রমণ স্থান গুলোর বিস্তারিত পড়ে নিতে পারেন।

শিমুল বাগানের কাছাকাছি আরো কিছু ভ্রমণের স্থান
যাদুকাটা নদী
শহীদ সিরাজ লেক বা নিলাদ্রী লেক
বারিক্কা টিলা
টাংগুয়ার হাওড়

কোথায় থাকবেন

বারেক টিলার কাছেই বড়ছড়া বাজার। সেখানে সাধারণ মানের কয়েকটি রেস্ট হাউজ আছে। থাকতে হলে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ করতে হবে। তাহিরপুর বাজারেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে আর যদি খালি থাকে তবে নীলাদ্রী লেকের কাছে পুরাতন চুনা পাথরের কারখানার গেস্ট হাউজে রাত কাটাতে পারবেন। এছাড়া সুনামগঞ্জ শহরে ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল পাবেন।

কয়েকটি হোটেলের নাম ও ঠিকানা
হোটেল সারপিনিয়া – জগন্নাথবাড়ী রোড, সুনামগঞ্জ
হোটেল নূর – পূর্ব বাজার স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ
হোটেল মিজান, পূর্ব বাজার, সুনামগঞ্জ
সুরমা ভ্যালী আবাসিক রিসোর্ট
হোটেল নূরানী, পুরাতন বাস স্ট্যান্ড , সুনামগঞ্জ
হোটেল প্যালেস, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন রোড

কোথায় খাবেন

বারিক্কা টিলাতে খাবারের হোটেল রয়েছে। এছাড়া বড়ছড়া বাজার কিংবা যাদুকাটার পাশের টেকেরঘাটের ছোট বাজারে মোটামুটি মানের দুইটি রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন। খুব ভালো খাবার আশা করা ঠিক হবে না। তবে স্থানীয় তাজা সবজী, হাওরের নানা মাছ, ভর্তা ভাজির নানা পদের খাবারের স্বাদ না নিয়ে ভুল করবেন না।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।