করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী কিছুদিন কোথাও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন ও সচেতন থাকুন। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন

ফরিদপুর জেলা সদর থেকে ২৩ কিলোমিটার দূরে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রামে সুলতানী আমলের নয় গম্বুজ বিশিষ্ট সাতৈর মসজিদ (Satoir Mosque) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, প্রায় ৭০০ বছর আগে শের শাহের আমলে সাতৈর গ্রামের আওলিয়া হযরত শাহ সুফি শায়েফ ছতুরি (রাঃ) পীরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক ষোল শতকের দিকে আলা-উদ্দিন হুসাইন শাহ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদ নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যাওয়ায় মসজিদের চারপাশ জঙ্গলে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মসজিদটি সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করা হয়।

বর্গাকার সাতৈর মসজিদের বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ১৭.৮ মিটার ও ভিতরের দিকে ১৩.৮ মিটার এবং ভূমি থেকে উচ্চতা ০.৬ মিটার। পেন্ডেন্টিভ পদ্ধতিতে নির্মিত এই মসজিদে মোট ৯টি কন্দাকৃতির গম্বুজ রয়েছে। এছাড়াও মসজিদের ভেতরে পাথরের তৈরি ৪টি স্তম্ভ, দেয়াল সংলগ্ন ১২টি পিলার ও পশ্চিম দিকে বহুখাঁজ বিশিষ্ট খিলানযুক্ত ৩টি মেহরাব লক্ষ করা যায়। তবে নির্মাণের শুরুতে পশ্চিম দিক ছাড়া মসজিদের তিন দিকে প্রবেশ পথ থাকলেও বর্তমানে মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথগুলোকে জানালায় রুপান্তর করা হয়েছে। সাতৈর শাহী মসজিদের পাশে আরও আছে ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড, ১২ আউলিয়ার মাজার এবং একটি গভীর কূপ। মসজিদটি নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে মসজিদটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লোক-কথা প্রচলিত ছিল। আর তাই ধর্মীয় বিশ্বাস ও বিভিন্ন মানত নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে অনেকেই এই মসজিদ দর্শনে আসেন।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী থেকে আজমেরি, আনন্দ পরিবহণ, সাউদিয়া, সূর্যমুখী, বিকাশ পরিবহণ প্রভৃতি বাসে ফরিদপুর জেলায় যেতে পারবেন। ফরিদপুরের মাঝকান্দি লোকাল বাস স্ট্যান্ড থেকে ফরিদপুর- বোয়ালমারী মহাসড়ক হয়ে সাতৈর মসজিদে যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

ফরিদপুর শহরে হোটেল র‍্যাফেলস, হোটেল লাক্সারি, হোটেল পদ্মা, হোটেল পার্ক প্যালেস, হোটেল শ্যামলী ও হোটেল জোনাকি সহ বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।  

কোথায় খাবেন

সাতৈর মসজিদে যাওয়ার পথে মাঝকান্দি বাজারে খুচরা চা নাস্তার দোকান নজরে পড়বে। এছাড়া বোয়ালমারী উপজেলা ও ফরিদপুর জেলায় ভালমানের খাবারের রেস্তোরাঁর খোঁজ পেয়ে যাবেন।

ফরিদপুরের দর্শনীয় স্থান

ফরিদপুরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে মধুমতি নদী, মথুরাপুর দেউল, কানাইপুর জমিদার বাড়ি, পৌর শেখ রাসেল শিশু পার্ক, পাতরাইল মসজিদ ও পল্লী কবি জসীম উদ্দিনের বাড়ি উল্লেখযোগ্য।

ফিচার ইমেজ: এমদাদুল হাসান

ম্যাপে সাতৈর মসজিদ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।