সাজেক ভ্যালি (Sajek Valley), বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হিসাবে খ্যাত, যার আয়তন প্রায় ৭০২ বর্গমাইল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ১৮০০ ফুট। সাজেকের অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। খাগড়াছড়ি জেলা থেকে সাজেকের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার আর দীঘিনালা থেকে ৪০ কিলোমিটার। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লঙ্গদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।

কি দেখবেন

চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন চমৎকৃত। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।

কংলাক পাহাড় হচ্ছে সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। এটি সাজেকের সর্বোচ্চ দর্শনীয় স্থান। আগে এই পাহাড়ে ওঠা বেশ কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও বর্তমানে সেখানে চমৎকার সিঁড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন খুব সহজে মাত্র ২০ মিনিটে পাহাড়ের চূড়ায় ওঠা যায়। আর সাজেক ভ্যালির শেষ গ্রাম কংলাক পাড়া লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকা। কংলাক পাড়া থেকেই কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়। চাইলে রুইলুই পাড়া থেকে দুই ঘন্টা ট্রেকিং করে কমলক ঝর্ণা দেখে আসতে পারবেন। সুন্দর এই ঝর্ণাটি অনেকের কাছে পিদাম তৈসা ঝর্ণা বা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামেও পরিচিত।

সাজেক এর সূর্যোদয়
সাজেক এর সূর্যোদয়, ছবি – শিহাব ইমাম

দিন কিংবা রাত সাজেক যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মত, সময় গড়ায় তবু সাজেক পুরাতন হয় না। সাজেকে গেলে অবশ্যই সকালে ভোরের সময়টা মিস করবেন না। মেঘের খেলা আর সূর্যোদয়ের আলোর মেলা এই সময়েই বসে। এই জন্যে আপনাকে খুব ভোরে উঠে চলে যেতে হবে হ্যালিপ্যাডে, সেখান থেকেই সবচেয়ে সুন্দর সূর্যোদয় দেখা যায়। হ্যালিপ্যাডের একদম পূর্ব দিকে নজর দিলে দেখা মিলবে বিখ্যাত ‘সাজেক জিরো কিলোমিটার পয়েন্ট’-এর। বিকেলের কোন উঁচু জায়গা থেকে সূর্যাস্তের রঙ্গিন রূপ আপনাকে বিমোহিত করবেই। আর সন্ধ্যার পর আকাশের কোটি কোটি তারার মেলা আপনার প্রাণ জুড়িয়ে দিবে নিমিষেই। আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখা পাবেন মিল্কিওয়ে বা ছায়াপথের।

লুসাই গ্রাম ও আশেপাশের স্পট

সাজেকে রয়েছে চমৎকার ‘লুসাই গ্রাম’। মাত্র ৩০ টাকা প্রবেশ মূল্য (ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরাসহ ১৩০ টাকা) দিয়ে এই গ্রামে প্রবেশ করা যায়। এখানে দেখতে পাবেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সততার প্রতীক ‘দোকানদার ছাড়া দোকান’, যেখানে ক্রেতারা পণ্য দেখে গায়ের দাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট বাক্সে টাকা রেখে যান। এছাড়া এখানে লুসাই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঝুম ঘর এবং একটি চমৎকার ‘ট্রি হাউস’ বা গাছবাড়ি রয়েছে।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার পথে বা সাজেক থেকে ফেরার পথে ঘুরে দেখতে পারেন স্টোন গার্ডেন (প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা), বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত শ্বেতশুভ্র ‘সাজেক দারুসসালাম জামে মসজিদ’, হাজাছড়া ঝর্ণা, দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার। এছাড়া রাতে মনটানা রেস্টুরেন্টের সামনের উন্মুক্ত চত্বরে উপভোগ করতে পারেন চমৎকার লাইভ মিউজিক।

কখন যাবেন

সাজেকের রূপের আসলে তুলনা হয় না। সারা বছরই বর্ণিল সাজে সেজে থাকে সাজেক। বছরের যে কোন সময় আপনি সাজেক ভ্রমণ করতে পারেন। তবে জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে সাজেকের চারপাশে মেঘের খেলা দেখা যায় বেশি। তাই এই সময়টাই সাজেক ভ্রমণের জন্যে সবচেয়ে ভালো।

সাজেক যাবার উপায়

সাজেকের অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা হয়ে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। তাই প্রথমেই আপনাকে খাগড়াছড়ি আসতে হবে।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িঃ ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, কলাবাগান ইত্যাদি কাউন্টার থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন হুন্দাই, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস, দেশ ট্রাভেলস, শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, এস আলম, ঈগল, ইকোনো সার্ভিস ইত্যাদি বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন। নন-এসি বাস ভাড়া সাধারণত ৮০০-৮৫০ টাকা। এসি বাসে যেতে চাইলে সেন্টমার্টিন হুন্দাই রবি এক্সপ্রেস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, রিলাক্স ট্রান্সপোর্ট, শ্যামলী, দেশ ট্র্যাভেলস, ইকোনো সার্ভিস ইত্যাদিতে ১,০০০ থেকে ১,৬০০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন। বাসগুলো সাধারণত রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। খাগড়াছড়ি পৌঁছাতে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের মতো বেজে যায়। এছাড়া শান্তি পরিবহনের বাস সরাসরি দীঘিনালা যায়, ভাড়া ৮৭০ টাকা। ছুটির দিন গুলোতে যেতে চাইলে আগে থেকেই টিকেট কেটে রাখা ভালো।

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকঃ খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর বা কলেজ গেট থেকে জীপগাড়ি/চাঁন্দের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসতে পারবেন। যাতায়াতসহ দুইদিনের জন্যে চাঁন্দের গাড়ির ভাড়া সাধারণত ১০,৫০০ থেকে ১২,০০০ টাকা। এক গাড়িতে ১২-১৫ জন যেতে পারবেন। তবে আপনারা যদি একা বা ২-৩ জন হন, তাহলে খাগড়াছড়ি শাপলা চত্বর থেকে অনেক গ্রুপ পাওয়া যায়, সেখানে অন্য গ্রুপের সাথে কথা বলে তাদের সাথে শেয়ার করে যেতে পারবেন অথবা জিপ সমিতির অফিসে গেলে ওরা অন্য কোন গ্রুপের সাথে ম্যানেজ করে দিবে। লোক কম থাকলে সিএনজি, মহিন্দ্রা বা ছাদখোলা সাফারি সিএনজি দিয়েও সাজেক যেতে পারবেন, রিজার্ভ ভাড়া ৪০০০-৫০০০ টাকা। তবে পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা বলে সিএনজি দিয়ে সতর্কতার সাথে ভ্রমণ করা উচিত।

খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। বাসে দীঘিনালা যেতে ভাড়া লাগে ৪৫ টাকা, মোটর সাইকেলে জনপ্রতি ভাড়া লাগে ১০০ টাকা।

আর্মি এসকর্টঃ আপনি যে বাহনেই যান না কেন, আপনাকে বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্পে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে হবে। সাজেকে নিরাপদে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দিনে দুইবার এসকর্ট (Escort) দেওয়া হয়। সকালের এসকর্ট সাধারণত সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে এবং বিকেলের এসকর্ট দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যায়। সকালের এসকর্ট মিস করলে বিকেল পর্যন্ত এবং বিকেলের এসকর্ট মিস করলে পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এসকর্ট ছাড়া সাজেক যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয় না। বাঘাইহাট থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার এবং পৌঁছাতে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা সময় লাগে।

জীপ সমিতি ও পার্বত্য যানবাহন মালিক কল্যান সমিতি কর্তৃক চান্দের গারি/জীপ গাড়িতে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার ভাড়ার তালিকা

স্থান সমূহভাড়াযাত্রার ধরন 
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৭,৫০০ টাকাসকালে গিয়ে বিকেলে আসা
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৯,০০০ টাকাআসা-যাওয়া ও সাজেক ১ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক১১,০০০ টাকা সাজেক ১ রাত্রি যাপন, আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক১২,০০০ টাকা আসা-যাওয়া ও সাজেক ২ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক১৪,০০০ টাকা সাজেক ২ রাত্রি যাপন, আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ
খাগড়াছড়ি থেকে দেবতা পুকুর, আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ৬,০০০ টাকা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত
খাগড়াছড়ি থেকে পানছড়ি, অরণ্য কুঠির, মায়াবিনী লেক৫,০০০ টাকা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত
খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি (যাওয়া-আসা)৭,০০০ টাকা১ রাত্রি যাপন (২,০০০ টাকা যুক্ত হবে)
খাগড়াছড়ি থেকে বান্দরবান (যাওয়া-আসা)১২,০০০ টাকা১ রাত্রি যাপন (৩,০০০ টাকা যুক্ত হবে)

সাজেকে শুধু এক ও দুই রাত্রি যাপন এর ক্ষেত্রে যদি রাতে না থেকে বিকেলেই চলে আসতে হয় সেক্ষেত্রে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া যোগ হবে। এছারা সাজেকে জনপ্রতি ২০ টাকা ও গাড়ির জন্য ১০০ টাকা পর্যটককে বহন করতে হবে।

খাগড়াছড়ি শ্রমযান সমিতি কর্তৃক সিএনজি তে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার ভাড়ার তালিকা

স্থান সমূহভাড়াযাত্রার ধরন 
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক ৩,২০০ টাকাশুধু যাওয়া 
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৪,২০০ টাকা সকালে গিয়ে বিকেলে আসা
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৫,২০০ টাকা সাজেক ১ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৬,২০০ টাকা সাজেক ২ রাত্রি যাপন
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৬,২০০ টাকা সাজেক ১ রাত্রি যাপন, আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ
খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক৭,২০০ টাকাসাজেক ২ রাত্রি যাপন, আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ
আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ১,৫০০ টাকা রিজার্ভ

এছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে দিঘীনালায় গিয়ে সেখান থেকে সাজেক যেতে পারবেন। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা বাস ভাড়া ৪৫ টাকা, মোটর সাইকেল জনপ্রতি ভাড়া ১০০ টাকা। আবার চাইলে মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে সাজেক ঘুরে আসা যায়। যে কোন গাড়ি ঠিক করার আগে কি দেখবেন, কি করবেন এইসব ভালো মত কথা বলে নিবেন।

দিঘীনালা পৌঁছে বা এসকর্টের অপেক্ষায় থাকার সময় হাতে সময় থাকলে হাজাছড়া ঝর্ণা ঘুরে দেখে আসতে পারবেন। দিঘীনালা থেকে যাবার পথে বাঘাইহাট, মাচালং বাজার, তারপর রুইলুই পাড়া হয়ে পৌঁছে যাবেন সাজেকে। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেক যেতে সময় লাগবে দুই থেকে তিন ঘন্টা। এই সময় আঁকাবাঁকা উঁচু নিচু পাহাড়ি রাস্তা ধরে চলার সময়টুকু আপনার জন্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চারদিকে সারি সারি পাহাড় আর সবুজের সমারোহ আপনাকে ভুলিয়ে দেবে পথের সব ক্লান্তি।

চট্টগ্রাম থেকে সাজেক ভ্রমণ: চট্টগ্রামের কদমতলী থেকে বিআরটিসি এসি বাস চলাচল করে, ভাড়া ২০০ টাকা। এছাড়া অক্সিজেন মোড় থেকে ১ ঘণ্টা পর পর শান্তি পরিবহনের বাস চলাচল করে, ভাড়া ১৯0 টাকা। চট্টগ্রাম থেকে বাসে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে ৪-৫ ঘন্টা।

রাঙ্গামাটি থেকে সাজেক ভ্রমণ: রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথ এবং সড়কপথ উভয়ভাবেই বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ থেকে ১০টা ৩০ এর মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে, সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা, ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। রাঙ্গামাটি বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭টা ৩০ থেকে ৮টা ৩০ ঘটিকার মধ্যে বাস ছাড়ে, ভাড়া ২০০ টাকা, সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। বাঘাইছড়ি থেকে জীপ (চাঁদের গাড়ি) অথবা মোটর সাইকেলে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায়, এতে জনপ্রতি ভাড়া লাগে প্রায় ৩০০ টাকা।

কক্সবাজার থেকে সাজেক ভ্রমণ: কক্সবাজার থেকে খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক যাওয়া যায়। শান্তি পরিবহনের বাস কক্সবাজার – খাগড়াছড়ি রুটে চলাচল করে। কক্সবাজার থেকে রাত ৯ টা ও ১০টায় বাস খাগড়াছড়ির উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়, নন এসি এই বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

সাজেকে থাকার জন্যে প্রায় শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ আছে। এক রাতের জন্যে রুম নিতে রিসোর্ট ভেদে ১৫০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া লাগবে। ছুটির দিনে যেতে চাইলে মাসখানেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো, নয়তো ভালো রুম পাবার নিশ্চিয়তা কম। আর কম দামে থাকতে চাইলে আদিবাসী কটেজ গুলোতে থাকতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন অনেক কটেজ হয়েছে। সাজেকের সব কটেজ থেকেই মোটামুটি সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়।

সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ

সাজেক রিসোর্ট (Sajek Resort) : বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট সাজেক রিসোর্ট। নন এসি রুম গুলোর ভাড়া ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা। আছে খাবারে ব্যবস্থা। সেনাবাহিনিতে কর্মরত বা প্রথম শ্রেনীর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে ডিসকাউন্ট রয়েছে। যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারেঃ 01859-025694 / 01847-070395 / 01769-302370

রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Resort) : মোট ৫ টি রুম আছে। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। নিচ তলার রুম ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। যোগাযোগ: 0186547688

মেঘমায়া রিসোর্ট (Meghmaya Resort): রুইলুই পাড়ায় মিজোরাম সাইডে মুখ করা একটি চমৎকার ডুপ্লেক্স ও রাউন্ড কটেজ সমৃদ্ধ রিসোর্ট। এর চমৎকার বারান্দা, কাপল লাভ-শেপ ও পার্সোনাল দোলনা পর্যটকদের দারুণ পছন্দ। রুমের ধরন অনুযায়ী কাপল রেগুলার রুম ৫৫০০ টাকা, কাপল প্রিমিয়াম ৬৫০০ টাকা, রাউন্ড কটেজ ৭৫০০ টাকা, ডুপ্লেক্স রুম ৭৫০০ টাকা এবং ফ্যামিলি সুইট ৮০০০ টাকা।
যোগাযোগঃ 01611-934793
Facebook Page

মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট (Meghpunji Resort) : সাজেকের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ও জনপ্রিয় রিসোর্ট। সুন্দর ইকো ফ্রেন্ডলি ডেকোরেশন ও আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপ ভিউ সহ মেঘপুঞ্জি রিসোর্টে তারাশা, পূর্বাশা, রোদেলা, মেঘলা, নীলিমা ও রোদেলা নামের ৬টি কটেজ আছে। ভাড়া ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা।
যোগাযোগঃ 01815-761065,
Website | Facebook Page

মেঘ মাচাং (Megh Machang) : সুন্দর ভিউ ও তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্যে মেঘ মাচাং রিসোর্ট অনেকের পছন্দ। আছে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। মেঘ মাচাং-এ পাঁচটি কটেজ আছে । ভাড়া ৩৫০০-৪৫০০ টাকা।
যোগাযোগঃ 01822-16887
Facebook Page

জুমঘর ইকো রিসোর্ট (Jumghor Eco Resort) : থাকার জন্যে এই রিসোর্টে পৃথক কটেজে মোট ৬টি কাপল রুম রয়েছে। প্রতিটি রুমে সর্বোচ্চ ৪ থাকার ব্যবস্থা আছে। কটেজ প্রতি ভাড়া ৫,০০০ টাকা।
যোগাযোগঃ 01884-208060
Facebook Page

আলো রিসোর্ট (Alo Resort) : সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়ায়। ৬ টি রুমের মধ্যে ডাবল রুম ৪ টি (২টি বেড)। ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা।
যোগাযোগঃ 01841-000645

আদিবাসী ঘর: এ ছাড়া আরও কম খরচে থাকতে চাইলে আদিবাসিদের ঘরেও থাকতে পারবেন। জনপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকায় থাকা যাবে। ফ্যামিলি বা কাপল থাকার জন্যে আদর্শ না হলেও বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে থাকা যাবে।

সাজেকের জনপ্রিয় সকল রিসোর্ট ও কটেজের আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের স্পেশাল আর্টিকেলঃ সাজেকের সকল রিসোর্টের তথ্য গাইড।

সাজেক এর খাওয়া দাওয়া

সাজেকের প্রায় সব রিসোর্ট ও মারুয়াটি রেস্টুরেন্টের মতো স্থানীয় খাবারের দোকানগুলোতে দুপুর, রাত ও সকালের খাবারের কম্বো বা প্যাকেজ সিস্টেম রয়েছে (যেমন: ৭০০ টাকার ৩ বেলার প্যাকেজ)। মেনু হিসেবে পাবেন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি ব্যাম্বু চিকেন (বাঁশের ভেতর রান্না করা মুরগি), ব্যাম্বু বিরিয়ানি, ধোয়া ওঠা গরম ভাত, পাহাড়ি মিক্স সবজি, আলু ভর্তা ও ডাল। এছাড়া রাতে বারবিকিউ করার চমৎকার ব্যবস্থা থাকে। খাগড়াছড়ি বা বাঘাইহাটে সস্তায় তরতাজা ডাব (প্রায় ৮০ টাকা), পেঁপে, আনারস ও পাহাড়ি ফল পাবেন। বিকেলে বা রাতে হেলিপ্যাডের পাশের স্ট্রিট ফুড কর্নার থেকে বাঁশের চোঙ্গায় তৈরি বিশেষ চাও ট্রাই করতে পারেন।

সাজেক ভ্রমণ টিপস

  • সাজেকে প্রধান বিদ্যুৎ নেই, কটেজগুলো সোলার পাওয়ার বা জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাথে অবশ্যই ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংক রাখুন।
  • সাজেকে শুধুমাত্র রবি, এয়ারটেল ও টেলিটকের নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায়। অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক বেশ দুর্বল।
  • যাবার পথ অনেক আঁকাবাঁকা ও উঁচু নিচু। চাঁন্দের গাড়ি বা জীপের ছাদে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ভেতরে বসাই শ্রেয়।
  • আদিবাসীদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে এবং তাদের জীবনযাপনের ভিডিও করার আগে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে নিন। তাদের সংস্কৃতির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করুন।
  • যাবার পথে কয়েক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প (যেমন বাঘাইহাট) আছে। সেখানে ভ্রমণকারী সদস্যদের তথ্য জমা দিতে হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) কয়েকটি কপি ও ছবির ফটোকপি সাথে রাখুন।
  • হাইওয়ে হোটেল বা পাহাড়ি রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডারের আগে অবশ্যই দাম ও মেনু ভালোমতো যাচাই করে নেবেন।
  • প্রকৃতির ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। প্লাস্টিক বা ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন এবং পর্যটন এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।

ফিচার ইমেজ : আব্দুল মোমিন/উইকিমিডিয়া

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

ম্যাপে সাজেক ভ্যালি

শেয়ার করুন সবার সাথে

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

মন্তব্য জানান

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।