রূপসা জমিদার বাড়ি (Rupsha Jomidar Bari) চাঁদপুর জেলার প্রাচীন জনপদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা গ্রামে অবস্থিত। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে আহম্মদ রাজা ব্রিটিশদের কাছ থেকে জমিদারি কিনে এখানে জমিদার বাড়ি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে আহম্মদ রাজার পুত্র মোহাম্মদ গাজী উত্তরাধিকার সূত্রে জমিদারি লাভ করে। ঊনিশ শতকে মোহাম্মদ গাজীর সুযোগ্য পুত্র আহমেদ গাজী চৌধুরী হাত ধরে রূপসা গ্রামে জমিদার পরিবারের প্রসার লাভ করে। জমিদার আহমেদ গাজী ছিলেন প্রজাহিতৈষী একজন সমাজসেবক। দয়া ও দানশীলতা তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়।

রূপসা জমিদার বাড়ি গতানুগতিক অন্যান্য জমিদার বাড়ির মত জীর্ণশির্ণ নয়। জমিদার বাড়িতে মোট তিনটি আলাদা ভবন আছে। এছাড়াও আছে টিনের তৈরী ঘর, পুকুরঘাট, মসজিদ, কবরস্থান এবং সবুজ মাঠ। জমিদার আহমেদ গাজী জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য তাঁর বেশকিছু জমি ওয়াকফ করে যান এবং রূপসা আহমদিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং রূপসা আহমদিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে নিয়মিত বিরতিতে দিনব্যাপী চাঁদপুরের বাস ছেড়ে যায়। অথবা যেতে পারবেন ট্রেনে চড়ে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এসব লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া শ্রেনী ভেদে ১০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। লঞ্চে ঢাকা থেকে যেতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা লাগে।

চাঁদপুর সদর থেকে রূপসা জমিদার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ২১ কিলোমিটার। চাঁদপুর জেলা সদর থেকে সিএনজি/ইজিবাইকে চড়ে সহজেই রূপসা জমিদার বাড়ি দেখতে যেতে পারবেন। চাঁদপুর থেকে রূপসা জমিদার বাড়ি পর্যন্ত সিএনজি রিজার্ভ নিলে ৫০০ টাকার মত ভাড়া লাগে।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্যে মোটামুটি ভালো হোটেলের মধ্যে সদর হসপিটালের সামনে হোটেল গ্র্যান্ড হিলশা ভালো। এছাড়া চাঁদপুরে কোর্ট স্টেশনের কাছে বেশ মোটামুটি মানের হোটেল পাবেন। চৌধুরী ঘাট বা নতুন ব্রিজ এর কাছে নদীর পাড়ে বেশ কয়েকটি মোটামুটি মানের হোটেল আছে।

কোথায় খাবেন

খিদে মেটানোর জন্য চাঁদপুরে বিভিন্ন মানের বেশকিছু খাবার হোটেল রয়েছে। আপনার পছন্দমত যেকোন হোটেলে খাবার খেয়ে নিতে পারবেন। রিজেনেবল দামে খাবার খেতে চাইলে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালের ডান পাশে অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএ ক্যান্টিনে ঢু মারতে পারেন। অবশ্যই ফরিদগঞ্জের আউয়াল ভাইয়ের মিষ্টি এবং ওয়ান মিনিট আইসক্রিম এর স্বাদ নিতে পারেন। যেহেতু ইলিশের রাজধানী চাঁদপুরে এসেছেন, আর এখানে এসে ইলিশ মিস করা কি ঠিক হবে? তাজা ইলিশ খেতে হলে বড়স্টেশনের ঝুপড়ির হোটেল অথবা লঞ্চ ঘাটের হোটেল গুলোতে খেতে পারেন।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।