নওগাঁ জেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছে ষাটের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পাহাড়পুর জাদুঘর (Paharpur Bihar Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। নওগাঁ থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত এই জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আগত দর্শনার্থীদের কাছে প্রধান আকর্ষণ।

১৯৯৮ সালে পাহাড়পুর বিহার জাদুঘরের পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। ৪ গ্যালারি বিশিষ্ট এই জাদুঘরে পাহাড়পুর বিহার এবং আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে সংগৃহীত নিদর্শনগুলো রাখা হয়েছে। পাহাড়পুর জাদুঘরে সংরক্ষিত নিদর্শনগুলোর মধ্যে ব্রোঞ্জের তৈরি বৌদ্ধের আবক্ষ মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, অলংকৃত ইট, পাথরের মূর্তি ও পোড়ামাটির তৈজসপত্র ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

প্রবেশমূল্য ও সময়যূচী

এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সপ্তাহের মঙ্গল থেকে শনিবার প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৬টা এবং সোমবার দুপুর ২টা ৩০মিনিট থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পাহাড়পুর জাদুঘর খোলা থাকে। আর অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত মঙ্গল থেকে শনিবার প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা এবং সোমবার দুপুর ২টা ৩০মিনিট থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পাহাড়পুর জাদুঘরে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুর থেকে এসআর, শ্যামলী, হানিফ বা মৌ এন্টারপ্রাইজের এসি/নন-এসি বাসে নওগাঁ যাওয়া যায়। নওগাঁ শহরের বালুডাংগা বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি বাসে পাহাড়পুর জাদুঘরে পৌঁছাতে পারবেন। আর জয়পুরহাট জেলা থেকে পাহাড়পুর জাদুঘরের দূরত্ব মাত্র ১২ কিলোমিটার। জয়পুরহাট বাস স্ট্যান্ড পৌঁছে সিএনজি বা অটো রিক্সা নিয়ে পাহাড়পুর জাদুঘরে যেতে পারবেন। এছাড়া ট্রেনে চড়ে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ ষ্টেশনে নামলে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা পাহাড়পুর জাদুঘরে সহজেই যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

পাহাড়পুরে রাতে থাকা তেমন ভাল কোনও আবাসন ব্যবস্থা নেই। তবে নওগাঁ জেলায় অবস্থিত হোটেল প্লাবন, হোটেল যমুনা, হোটেল অবকাশ, মল্লিকা ইন, হোটেল ফারিয়াল ও হোটেল রাজ প্রভৃতি আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

নওগাঁর গোস্তহাটির মোড়ে ভালমানের কিছু খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে।

নওগাঁর দর্শনীয় স্থান

নওগাঁতে অবস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আলতাদীঘি, ডানা পার্ক ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার অন্যতম।

ফিচার ইমেজ: আব্দুল্লাহ আল মারুফ

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

ম্যাপে পাহাড়পুর জাদুঘর

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।