নিভৃতে নিসর্গ পার্ক (Nivrite Nishorgo Park) একসাথে নীল জলরাশি, সবুজ পাহাড় আর সাদা মেঘ মালার মিলনমেলায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন কক্সবাজারের ‘অচেনা দার্জিলিংয়ে’। নিভৃতে নিসর্গ পার্ক কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায় সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নে মাতামুহুরি নদীর কোলঘেঁষে অবস্থিত। কক্সবাজার থেকে এই পার্কের দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার এবং চকরিয়া থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার। এর দক্ষিণে পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলা। পার্কটি প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।

দুইপাশে পাহাড়ের মাঝ দিয়ে চলে গেছে মাতামুহুরী নদী। পাহাড় ও নদীর অপরূপ সান্নিধ্য এখানে। নদীতে নৌকা ভ্রমণে পাহাড় নদীর মিতালি দেখার সাথে সাথে দেখা যায় বিভিন্ন বন্য প্রাণী, পাহাড় বেয়ে ঝরে পড়া ঝরনা, নানা পাখির কলরব মন পুলকিত করবে। নীল জলরাশি দিয়ে যেতে যেতে দেখা মিলবে একাধিক সুউচ্চ সাদা পাথরের পাহাড়ের। এই শ্বেতপাথরের পাহাড়ে পৌঁছানোর জন্য পার্কে ৮-১০টি নৌকা সদা প্রস্তুত থাকে।

দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য বেশ কয়েকটি পাহাড়ের মাঝখানে মাটি কেটে লেক সৃষ্টি করা হয়েছে। এই লেকে রাখা হয়েছে ছোট ছোট বোট এবং রয়েছে কায়াকিংয়ের ব্যবস্থাও। এছাড়া পার্কের সাথে যুক্ত হচ্ছে মানিকপুর সড়কের গুহা, রাখাইন সম্প্রদায়ের মন্দির, লম্বা মোড়া পর্যটন এলাকা, কিউকের প্রাচীনতম গম্বুজ মসজিদ এবং নদীপথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মোহনা।

সবুজ পাহাড় ঘেরা দৃষ্টিনন্দন এই জায়গাটি এতদিন পর্যটকের দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিল। অচেনা এই পর্যটন স্পটের নামকরণ জেলা প্রশাসকের দেওয়া ‘নিভৃতে নিসর্গ পার্ক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নদীভ্রমণ সবার জন্য উন্মুক্ত। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এই পার্ক পরিদর্শন করেছেন এবং আধুনিক মানের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। এই পার্ককে কেন্দ্র করে পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম উপজেলায় যাতায়াতের সুবিধার্থে নতুন প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিনই হাজারো পর্যটক ভিড় করে এই পার্কে।

নিভৃতে নিসর্গ যাওয়ার উপায়

ঢাকা বা অন্য যে জায়গা থেকেই আসেন কক্সবাজারগামী গাড়িতে করে গিয়ে চকরিয়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে যেতে হবে। চকরিয়া সিটি সেন্টারের সামনে থেকে সিএনজি বা জীপ রিজার্ভ করে সরাসরি এই পার্কে যেতে পারবেন। এই পদ্ধতিই সবচেয়ে সহজ উপায়। সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া ২০০ টাকা। এছাড়া লোকাল ওয়েতে মানিকপুর হয়ে ৪০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যায় এই পার্কে।

কক্সবাজার থেকে নিভৃতে নিসর্গ পার্ক: কক্সবাজার থেকে যেতে চাইলে চকরিয়া বাস স্ট্যান্ড হয়ে উপরের পথে যেতে পারবেন অথবা কক্সবাজার থেকে চকরিয়া যাবার পথে ফাঁসিয়াখালী স্টেশন থেকে বান্দরবানের লামা সড়ক ধরে ইয়াংছাবাজারে। ইয়াংছাবাজার থেকে অটোরিকশা অথবা ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ে আড়াই কিলোমিটার গেলেই ‘নিভৃতে নিসর্গ’। চকরিয়া জিদ্দাবাজার থেকে পূর্বদিকে ১০ কিলোমিটার গেলেও এই পার্কে পৌঁছানো যায়। কক্সবাজার থেকে প্রাইভেট কারেও যাতায়াত করা যায়। এছাড়া চাইলে আগে এই পার্ক ঘুরে তারপর কক্সবাজার যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

পার্কের আশেপাশে থাকার কোন জায়গা নেই। রাতে থাকতে চাইলে আপনাকে চকরিয়া শহরে চলে আসতে হবে। সেখানে মোটামুটি মানের হোটেল আছে। আর আপনার পরিকল্পনা যদি থাকে কক্সবাজার যাওয়ার তাহলে চকরিয়া থেকে দেড় ঘন্টা পথ দূরত্বে কক্সবাজার চলে যেতে পারেন।

কোথায় খাবেন

পার্কে খাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তবে হালকা নাস্তা খাবার জন্যে দোকান আছে। মানিকপুর বাজারে খাবারের জন্যে দেশী হোটেল আছে। এছাড়া চকরিয়া বাজারে কয়েকটি মোটামুটি মানের খাবার হোটেল আছে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

ম্যাপে নিভৃতে নিসর্গ পার্ক

শেয়ার করুন সবার সাথে

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

মন্তব্য জানান

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।