মুপ্পোছড়া ঝর্ণা (Muppochora Jhorna) প্রস্থের দিক থেকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় একটি ঝর্ণা। অনিন্দ্য সুন্দর মুপ্পোছড়া ঝর্ণা দেখতে হলে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটায় যেতে হবে। কাপ্তাই লেক পাড়ের এই উপজেলা সাথে সড়ক পথে কোন সংযোগ নেই। কাপ্তাই উপজেলা হতে শুধুমাত্র নৌ-পথে এই উপজেলায় যাওয়া যায়। দূর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ায় এখানে অসংখ্য ছোট বড় পাহাড়ে আছে প্রচুর ঝর্ণা। চাকমা শব্দ বিলাই অর্থ বিড়াল এবং ছড়ি অর্থ পাহাড় হতে প্রাবাহিত ঝর্ণা। মুপ্পোছড়া ঝর্ণা বিলাইছড়িতে অবস্থিত বৃহত্তম ঝর্ণাগুলোর একটি। বিলাইছড়ি হতে শুধুমাত্র নৌপথে বাঙ্গালকাটাতে যাওয়া গেলেও বাঙ্গালকাটা হতে ট্রেকিং করে মুপ্পোছড়া ঝর্ণায় যেতে হয়।

মুপ্পোছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি কাপ্তাই পর্যন্ত আসতে পারবেন। কাপ্তাইয়ের লঞ্চঘাট থেকে বিলাইছড়ি যাওয়ার ট্রলার পাওয়া যায়। ট্রলার রিজার্ভ নিলে ১০০০ থেকে ১৫০০ ভাড়া লাগবে। আর লোকালে গেলে জনপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাগবে। কাপ্তাই হতে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটে প্রথম ট্রলার এবং পরবর্তীতে দুপুর ১ টা এবং ১ টা ৩০ মিনিটে পর পর দুইটি লোকাল ট্রলার বিলাইছড়ি উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কাপ্তাই থেকে ট্রলারে বিলাইছড়ি যেতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মত সময় লাগে। পথে বিলাইছড়ি বাজারে প্রয়োজনীয় খাবার খেয়ে আরো কিছু শুকনো খাবার সাথে নিয়ে নিন। বিলাইছড়ির হাসপাতাল ঘাট থেকে অন্য একটি ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে বাঙ্গালকাটা যেতে হবে। বিলাইছড়ি হতে বাঙ্গালকাটা পর্যন্ত ৬০০-৮০০ টাকা ভাড়া লাগবে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর বাঙ্গালকাটায় নেমে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় গাইড ঠিক করে বেড়িয়ে পড়ুন মুপ্পোছড়ার পথে। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘন্টা ট্রেকিং শেষে পৌঁছে যাবেন মনোমুগ্ধ মুপ্পোছড়া ঝর্ণার পাদদেশে।

থাকার ব্যবস্থা

বিলাইছড়ির হাসপাতাল ঘাটের কাছে নিরিবিলি বোর্ডিং নামে একটি আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে সিঙ্গেল এবং ডাবল বেডের ভাড়া যথাক্রমে ৩০০ ও ৫০০ টাকা। যোগাযোগ: সঞ্জয় তালুকদার – ০১৫৫৩-১২৮৬৭৩/০১৮২৭-৭২২৯০৫। আর যদি বিলাইছড়িতে থাকার ইচ্ছা না থাকে তবে অবশ্যই কাপ্তাই থেকে সকাল ৬ টার আগে মুপ্পোছড়া ঝর্ণার উদ্দেশ্যে রওনা দিন।

কোথায় খাবেন

বিলাইছড়িতে বকুলের দোকানে আপনার প্রয়োজনীয় খাবারের চাহিদা মেটাতে পারেন। এছাড়া কাপ্তাইয়ে খাবারের জন্য অসংখ্য হোটেল ও রেস্টুরেন্ট পাবেন।

পরামর্শ

পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশের অন্য স্থানের সবার এখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্টের ফটোকপি/যেকোন পরিচয়পত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে অবশ্যই আপনাকে কোন একটি পরিচয়পত্র দেখাতেই হবে।

ফিচার ইমেজ: আহমেদ প্রবুদ্ধ হাসান নিনাদ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।