মহামায়া লেক (Mohamaya Lake) চট্রগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম কৃত্রিম হৃদ। মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ১১ বর্গ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে মহামায়া লেক গড়ে উঠেছে। লেকের টলটলে পানি আর পাহাড়ের মিতালী ছাড়াও এখানে পাহাড়ি গুহা, রাবার ড্যাম ও অনিন্দ্য সুন্দর ঝর্ণা রয়েছে। বোটে চড়ে লেকে ঘুরার পাশাপাশি চাইলে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার শীতল পানিতে ভিজে শরীর ও মনকে অপার্থিব প্রশান্তি দিতে পারেন। মহামায়া লেকে আছে কায়াকিং করার সুবিধা এবং চাইলে তাবুতে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতেও পারবেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা মহামায়া লেকটির পানির কিছু অংশ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সেঁচের কাজে ব্যবহৃত হয়।

মহামায়া লেক
https://www.youtube.com/watch?v=WdDByGnDA88

মহামায়া লেক যাওয়ার উপায়

মহামায়া লেক মিরসরাই এর ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত। তাই দেশের যে জায়গা থেকেই আসতে চান আপনাকে প্রথমে চট্রগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার এর ঠাকুরদিঘী বাজার আসতে হবে।

ঢাকা থেকে মহামায়া লেক

ঢাকা থেকে বাসে : ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে করেই যেতে পারবেন মিরসরাই এর ঠাকুরদিঘী বাজার। এস আলম, শ্যামলি, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাস ভাড়া ৪২০- ৪৮০ টাকা। এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, টি আর এইসব বাস ভাড়া ৮০০-১১০০ টাকা। আপনার পছন্দ মত বাসে এসে মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজারে নেমে যেতে হবে। এছাড়া সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে স্টার লাইন পরিবহনে ফেনী (ভাড়া ২৮০ টাকা) এসে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজার যেতে হবে।
ঠাকুরদিঘী থেকে জনপ্রতি ১৫ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ৮০ -১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক। এই ইকো পার্কের ভিতরেই মাহামায়া লেকের অবস্থান।

ঢাকা থেকে ট্রেনে : ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম গামী যে কোন আন্তঃনগর ট্রেনে এসে ফেনী স্টেশনে নামতে হবে। শ্রেনী ভেদে ট্রেন ভাড়া জন প্রতি ২৬৫-৮০০ টাকা। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিক্সা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজার নেমে যেতে হবে। অথবা ৯০-১২০ টাকা ভাড়ায় মেইল ট্রেনে আসলে “চিনকি আস্তানা” স্টেশনে নেমে যেতে পারবেন। সেখান থেকে অটো/লেগুনা/সিএনজি দিয়ে ২০-২৫ টাকা ভাড়ায় ঠাকুরদিঘী যেতে পারবেন। ঠাকুরদিঘী থেকে জন প্রতি ১৫-২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ৮০ -১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক। এই ইকো পার্কের ভিতরেই মাহামায়া লেকের অবস্থান।

চট্রগ্রাম থেকে মহামায়া লেক

মাদারবাড়ী ও কদমতলী বাস স্টপ থেকে মিরসরাই যাওয়ার বাস, সিএনজি, অটোরিক্সা ও মাইক্রোবাস পাবেন। এছাড়া চট্রগ্রাম শহরের মাদার বাড়ি থেকে সরাসরি “চয়েস” বাসে ৮০ টাকা ভাড়ায় ঠাকুরদিঘী বাজারে আসতে পারবেন। আবার চট্টগ্রাম নগরের অলংকার সিটি গেইট থেকে কিছু লোকাল বাসে করে ৪০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই থানার ঠাকুর দিঘী যাওয়া যায়। ঠাকুরদিঘী থেকে জন প্রতি ১৫-২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ৮০ -১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক। এই ইকো পার্কের ভিতরেই মাহামায়া লেকের অবস্থান।

সিলেট থেকে

সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেনে আসতে পারবেন। চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে উঠে নেমে যেতে হবে মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজারে। ট্রেনে আসতে চাইলে আন্তঃনগর ট্রেন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেসে কিংবা মেইল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেসে ফেনী স্টেশন পর্যন্ত এসে নেমে যেতে হবে। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিক্সা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজার নেমে যেতে হবে। অথবা ৯০-১২০ টাকা ভাড়ায় মেইল ট্রেনে আসলে “চিনকি আস্তানা” স্টেশনে নেমে যেতে পারবেন। সেখান থেকে অটো/লেগুনা/সিএনজি দিয়ে ২০-২৫ টাকা ভাড়ায় ঠাকুরদিঘী যেতে পারবেন। ঠাকুরদিঘী থেকে জন প্রতি ১৫-২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ১০০ -১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক। এই ইকো পার্কের ভিতরেই মাহামায়া লেকের অবস্থান।

টিকেট মূল্য : মহামায়া ইকো পার্কে প্রবেশের জন্যে জনপ্রতি ১০ টাকা দিতে হয়।

কায়াকিং ও নৌ ভ্রমণ খরচ

লেকে কায়াকিং করতে পারবেন। একটা কায়াকে দুইজন বসতে পারবেন। প্রতি ঘন্টার কায়াকিং ভাড়া ৩০০ টাকা, ৩০ মিনিটের জন্যে ভাড়া ২০০ টাকা। শিক্ষার্থী হলে ডিসকাউন্ট পাবেন সেক্ষেত্রে এক ঘন্টার জন্যে দিতে হবে ২০০ টাকা এবং ৩০ মিনিটের জন্যে ১৫০ টাকা। কায়াকিং করা যায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫ঃ৩০ পর্যন্ত যে কোন সময়। লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ইঞ্জিন বোট আছে। ৮-১০ জন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে সক্ষম নৌকা এক ঘন্টা ঘুরিয়ে দেখাবে আশেপাশে ঝর্ণা সহ ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা। ১৫-২০ জন নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে সক্ষম ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করতে এক ঘন্টার জন্যে লাগবে ১২০০-১৫০০ টাকা।

খাওয়া দাওয়া

পার্কে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা নেই। নিজ থেকে খাবার নিয়ে যেতে হবে। ঠাকুরদিঘী বাজারে ছোট হোটেল আছে দেশী খাবার খেতে পারবেন। মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড বাজারে গেলে মোটামুটি মানের আরো কিছু খাওয়ার হোটেল পাবেন সেখান থেকে খেয়ে নিতে পারবেন। সীতাকুন্ডের পৌরসভার সামনে আল আমিন হোটেলের বেশ সুনাম রয়েছে।

কোথায় থাকবেন

মিরসরাই এ থাকার মত তেমন ভালো কোন আবাসিক হোটেল নেই। থাকতে চাইলে মিরসরাই এর কাছে সীতাকুণ্ডে কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারবেন। হোটেল সৌদিয়ায় ৬০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিভিন্ন মানের রুম পাবেন এবং সাইমুন ও অন্য আবাসিক হোটেলে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় থাকতে পারবেন। হোটেল সৌদিয়ায় বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন 01991-787979, 01816-518119 নাম্বারে। তবে আরো ভালো কোথাও থাকতে চাইলে আপনাকে চট্রগ্রাম শহরে চলে যাওয়াই উত্তম। মিরসরাই থেকে চট্রগ্রাম যেতে ১ঘন্টা ৩০মিনিটের মত লাগবে। অংলকার মোড়ে মোটামুটি মানের থাকার মত হোটেল পাবেন। অথবা চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এর স্টেশন রোড এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল আছে, পছন্দ মতো কোন এক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারেন।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

মহামায়া লেক ভ্রমণ করেও মিরসরাই ও সীতাকুন্ডের আশেপাশে যে সকল স্থান দেখতে পারেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু দর্শনীয় স্থান হলোঃ

ম্যাপে মহামায়া লেক

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।