সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ পানির নদী হচ্ছে লোভাছড়া। সবুজ পাহাড় আর লোভাছড়ার স্বচ্ছ পানি এখানকার পরিবেশকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। সাথে রয়েছে ব্রিটিশ আমলে চালু হওয়া লোভাছড়া চা বাগান, ১৯২৫ সালে নির্মিত পুরনো ঝুলন্ত সেতু ও খাসিয়া গ্রাম। পাহাড়, নদী ও নীল আকাশের অপূর্ব মায়াজালে প্রাকৃতিকে এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য্য উপহার দিয়েছে রুপে অনন্যা লোভাছড়া।

সকালে লোভাছড়া চা বাগানে খরগোশ, হরিন ও বন মোরগ দেখা যায়। এছাড়া লোভাছড়া নদীতে শ্রমিকদের পাথর উত্তোলন করার কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মত। চা বাগান ও ঝুলন্ত সেতু ছাড়া লোভাছড়ায় আরো রয়েছে প্রাকৃতিক লেক ও ঝরনা, খাসিয়া পল্লী, মীরাপিং শাহর মাজার, মোঘল রাজা-রানির পুরাকীর্তি, প্রাচীন দীঘি, পাথর কোয়ারি ও বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন। বছরের যেকোন সময়ই লোভাছড়ায় যেতে পারবেন। বর্ষায় এখানকার চা বাগান সবুজময় হয়ে উঠে আর শীতকালে পাহাড় আর কুয়াশা তৈরি করে ভিন্ন এক জগত।

লোভাছড়া কিভাবে যাবেন

লোভাছড়া যেতে হলে আপনাকে সিলেট জেলা সদর হয়ে কানাইঘাট উপজেলায় যেতে হবে। কানাইঘাট থেকে নদী বা সড়ক পথে যেতে হয় লোভাছড়া।

ঢাকা থেকে বাসে সিলেট
ঢাকার গাবতলী, ফকিরাপুল, সায়দাবাদ এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল হতে সকাল থেকে রাত ১২ টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় পরপর গ্রীন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলি, এনা ইত্যাদি পরিবহণের বিভিন্ন এসি/ নন-এসি বাস সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এসি ও নন-এসি এসব বাসের ভাড়া ৪০০ থেকে ১১০০ টাকার পর্যন্ত।

ঢাকা থেকে ট্রেনে সিলেট
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন এবং কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন দিনের বিভিন্ন সময়ে সিলেট অভিমুখে যাত্রা করে। শ্রেণীভেদে এসব ট্রেনে টিকেটের ভাড়া জনপ্রতি ১৫০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে সিলেট
চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়িকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেস নামে দুইটি ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এই দুই ট্রেনের শ্রেণীভেদে জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ১৪৫ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।

ট্রেন ছাড়ার সময়, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন জানতে এবং অনলাইনে টিকেট বুকিং দিতে ভিজিট করতে পারেন www.railway.gov.bd ঠিকানায়।

সিলেট থেকে লোভাছড়া
সিলেট থেকে তিনটি রাস্তায় সিএনজি, অটোরিক্সা ও বাসে করে কানাইঘাট উপজেলা সদরে যাওয়া যায়। সিলেট থেকে কানাইঘাট যাবার জনপ্রতি বাস ভাড়া ৬০-৭০ টাকা, আর সিএনজি ও অটোরিকশার ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা। সিএনজি রিজার্ভ নিলে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা লাগতে পারে। কানাইঘাট থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বের লোভাছড়ায় সড়ক ও নদী পথে যাওয়া যায়। তবে আধা-কাঁচা রাস্তা হওয়ায় দূর্ভোগ এড়াতে নদী পথে লোভাছড়ায় যাওয়া উত্তম। কানাইঘাট নৌকা ঘাট থেকে জনপ্রতি ৩০-৫০ টাকা ভাড়ায় লোভাছড়া যাওয়া যায়। রিজার্ভ নিতে চাইলে নৌকা ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা লাগবে।

কোথায় থাকবেন

লোভাছড়া বা কানাইঘাটে থাকার ভাল ব্যবস্থা নেই। আপনাকে সিলেট শহরে এসেই থাকতে হবে। দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসা যায় বলে পর্যটকগন সিলেট শহরে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সিলেট শহরে প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের হোটেল পাওয়া যায়। সিলেটে উল্লেখযোগ্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা,কায়কোবাদ ইত্যাদি। এছাড়া শহরের লালবাজার এলাকায় বেশ কিছু মানসম্মত রেস্ট হাউস আছে৷ এখানকার হোটেলগুলোতে ৪০০ থেকে ৩০০০ টাকায় সহজেই রাত্রি যাপন করতে পারবেন।

কি খাবেন

লোভাছড়ায় খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। কানাইঘাট সদরে কিছু মোটামুটি মানের হোটেল পাবেন সেখানে খেয়ে নিতে পারেন। আর সাথে করে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে যেতে পারেন। এছাড়া সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকার পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টের সুলভ মূল্যে পছন্দমত দেশী খাবার খেতে পারেন। এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে প্রায় নান রকম ভর্তা সহ রকমারি খাবার পাওয়া যায়।

ম্যাপে লোভাছড়া

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।