পটুয়াখালী জেলার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ৫ কিলোমিটার পূর্বে লেবুর চর (Lebur Char) অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে লেবুর চর নেম্বুর চর হিসেবেও পরিচিত। ১০০০ একর আয়তনের লেবুর চরে কেওড়া, গেওয়া, গোরান, কড়ই, গোলপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে। অতীতে এটি সুন্দরবনের অংশ হিসাবে থাকলেও বর্তমানে এই চর সুন্দরবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

লেবুর চরের শেষ প্রান্তে দাঁড়ালে সুন্দরবনের সবুজ গাছের সারি দেখা যায়। সূর্যাস্তের সময় বিস্তীর্ণ চরে আছড়ে পড়া সূর্যের সোনালি আভা চারপাশে এক মনোমুগ্ধকর অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণ করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত লেবুর চর পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীর স্থান হিসেবে পরিচিত।

কিভাবে যাবেন

সড়ক ও নৌ পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। ঢাকার সদরঘাট নৌ টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন কোম্পানির লঞ্চ পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটায় গমন করে। সাধারনত সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত এই লঞ্চগুলো কুয়াকাটার উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে যায়। আবার পটুয়াখালী থেকে বাসে চড়েও কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

এছাড়া সায়েদাবাদ ও গাবতলী থেকে সাকুরা, দ্রুতি বা সুরভি পরিবহনের বাস সরাসরি কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারবেন। কুয়াকাটা থেকে সাইকেল ও ভ্যানে লেবুর চর যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আর লেবুর চরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কুয়াকাটা হতে সকাল সকাল রওনা দিলে বিকেলের মধ্যে ঘুরে দেখে কুয়াকাটায় ফিরে আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

কুয়াকাটায় থাকার জন্য সরকারী আবাসনের মধ্যে রয়েছে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথের রেস্ট হাউজ, রাখাইন কালচার একাডেমীর রেস্ট হাউজ। এছাড়া বেসরকারী আবাসনের মধ্যে সাগর কন্যা পর্যটন হলিডে হোমস, ইয়ুথ ইন হোটেল, হোটেল গ্রেভার ইন, সি ভিউ হোটেল, সিকদার রিসোর্ট, কুয়াকাটা গ্র্যান্ড হোটেল, ম্যানগ্রোভ হোটেল, পর্যটন মোটেল, হোটেল বীচ হ্যাভেন ও সিগার্ল প্রভৃতি আবাসিক হোটেল রয়েছে।  

কোথায় খাবেন

লেবুর চরের পাশে গড়ে উঠা ছোট ছোট ফুড শপ গুলোতে বিভিন্ন ধরণের তাজা সামুদ্রিক মাছ ও কাঁকড়া ভাজি পাওয়া যায়। কুয়াকাটায়  জিরো পয়েন্টে জয়, হোটেল সানরাইজ, বার্মা হোটেল, রামজান রেস্তোরা, অতিথি ও বৈশাখী সহ বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট আছে।

পটুয়াখালী জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

পটুয়াখালীর অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, পানি জাদুঘর, সোনারচর ও ফাতরার চর উল্লেখযোগ্য।

ফিচার ইমেজ: কাজী আকাশ

ম্যাপে লেবুর চর

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।