করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী কিছুদিন কোথাও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন ও সচেতন থাকুন। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর মধ্যে লালদীঘি (Lal Dighi) অন্যতম। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত জেল রোডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত লালদীঘির আশেপাশে আছে আন্দরকিল্লা, জেলা পরিষদ ভবন এবং স্থানীয় কিছু ব্যাংকের শাখাসমূহ। ১৭৬১ সালে চট্টগ্রামের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উপর অর্পিত হওয়ার পর জমি সংক্রান্ত তহসিল অফিসকে (বর্তমানে মেট্রোপলিটন পুলিশ অফিস) লাল রঙ করা হয়েছিল। সে সময় এটি “লালকুঠি” হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে। পরবর্তীতে লালকুঠির পুর্ব দিকে অবস্থিত জেলখানাকেও লাল রঙ করা ছিল এবং এটি “লালঘর” নামে পরিচিতি পায়। একই ঘটনাক্রমে লালঘর এবং লালকুঠির পাশে থাকা দীঘিটি লালদীঘি নামে পরিচিতি লাভ করে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের পাহাড়ের পাদদেশের সমগ্র ফাঁকা জায়গাটুকু একসময় মিউনিসিপাল ময়দান নামে পরিচিত ছিল। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে রাস্তা নির্মাণের ফলে দুই ভাগে বিভক্ত মিউনিসিপাল ময়দানের একপাশে ছিল সাধারন জনগনের খেলার মাঠ এবং অন্যপাশ ছিল মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের অন্তর্ভুক্ত। এই মাঠটিই বর্তমানে ঐতিহাসিক লালদীঘির মাঠ নামে পরিচিতি। রাউজান উপজেলার চিকদাইর গ্রামের জমিদার রায় বাহাদুর রাজকমল ঘোষ ছিলেন লালদিঘির অভিভাবক। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে লালদিঘির মালিকানা প্রদান করেন।

আবদুল জব্বার ১৯১০ সালে বৈশাখের ১২ তারিখ সর্বপ্রথম লালদিঘি পাড়ে বলীখেলার আয়োজন করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ একই স্থানে জব্বারের বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমানে লালদীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি মসজিদ এবঙ্গ একটি পার্ক আছে।

কিভাবে যাবেন

চট্টগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে বাস, সিএনজির মতো স্থানীয় পরিবহণে লালদীঘি ময়দান যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম: ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।

কোথায় থাকবেন

চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন মানের অসংখ্য আবাসিক হোটেল পাবেন। পছন্দমত ও বাজেট অনুযায়ী হোটেল নিতে কয়েকটি হোটেল যাচাই করে নিন। প‌্যারামাউন্ট, হোটেল অবকাশ, হোটেল লর্ডস ইন, হোটেল এশিয়ান এসআর, হোটেল ল্যান্ডমার্ক ইত্যাদি হোটেলে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

কোথায় খাবেন

চট্টগ্রামে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডির নাম, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

ফিচার ইমেজ: সৌম্য সমদ্দার

ম্যাপে লালদীঘি

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।