সীতাকুন্ডের পরিচিত ঝর্ণা গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কমলদহ ট্রেইলের ঝর্ণা গুলো। মোটামুটি সহজ ট্রেইল এবং অল্প সময়ে কমলদহ ট্রেইলের ঝর্ণা গুলো দেখে আসা যায় বলে ভ্রমণপিয়াসু মানুষের কাছে জনপ্রিয় স্থান হয়ে উঠেছে। কমলদহ ট্রেইলে অনেক গুলো ঝর্ণা আছে। এই ট্রেইলের উপরের দিকে ডানে বায়ে ঝিরি পথ ভাগ হয়ে গেছে। ঝিরি পথ দিয়ে আগালেই দেখা মিলবে ছোট বড় ঝর্ণা আর ক্যাসকেডের।

কিভাবে যাবেন

বাস
যেখান থেকেই যান আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে চট্রগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার বড় দারোগাহাট বাজারে। ঢাকা থেকে গেলে চট্রগ্রাম গামী যে কোন বাসে করে যেতে পারবেন। এই জন্যে আপনাকে বড় দারোগাহাট নেমে যেতে হবে। ঢাকা থেকে সীতাকুণ্ড বাস ভাড়া মানভেদে ৮০০ টাকা।

ট্রেন
ঢাকা থেকে চাইলে ট্রেনে করেও যেতে পারবেন (ভাড়া মানভেদে ২২০-৫০৬ টাকা)। এইক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় ফেনীতে নেমে গেলে। ফেনী স্টেশন থেকে লোকাল বাসে করে বড় দারোগাহাট বাজারে চলে আসতে পারবেন।

চট্রগ্রাম থেকে
চট্রগ্রামের অলংকার মোড় থেকেও বাসে করে সীতাকুণ্ড আসা যায়। চট্টগ্রাম থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় চয়েসে বাসে যেতে পারেন।

বড় দারোগার হাট বাজার থেকে ঢাকার দিকে আগালে একটা ইট খোলার দেখা পাওয়া যাবে। এই ইট খোলা পার হয়ে ডানের মাটির রাস্তা ধরে কিছুদুর গেলে ঝিরি পথের দেখা পাওয়া যাবে। এটাই মূলত কমলদহের ঝিরি শুরু। এই ঝিরি ধরে আগালে কমলদহ ঝর্ণার দেখা পাওয়া যাবে। যদিও এটাকে অনেকেই ক্যাসকেড বলে থাকে। এই ঝর্ণা পার হয়ে ঝিরি ধরে উপরে গেলে এই ট্রেইলের অন্যান্য ঝর্ণার দেখা পাওয়া যাবে। যদি সব গুলো ঝর্ণা দেখতে চান তবে ইট খোলা দিয়ে প্রবেশ করে ফটিকছড়ি-বারৈয়াঢালা রুট হয়ে নারায়ন আশ্রম হয়ে বড় দারোগারহাটে বের হবেন।

কমলদহ ট্রেইল

কমলদহ ঝর্ণার উপরে উঠে ছোট একটি ক্যাসকেড পার হয়ে ঝিরি পথে কিছুটা এগিয়ে গেলে সামনে দেখতে পাবেন ঝিরিপথ দুভাগ হয়ে ডান ও বাম দিকে চলে গেছে। প্রথমে হাতের বাম দিকের ঝিরি পথ ধরে এগিয়ে যান। এই ঝিরিপথে গেলে কিছুটা দূর গেলে আবারো হাতের ডানদিকে আরেকটি ঝিরি পথ পাবেন (এইটায় এখোনি যাবেন না)। সোজা ঝিরিপথে একটু এগুলেই ছাগলকান্দা ঝর্ণা দেখতে পাবেন (এটার উপরে উঠতে চাইলে পাশের পাহাড়ে দিয়ে উঠার রাস্তা খুঁজে নিন)। ছাগলকান্দা ঝর্ণা দেখে ফিরার সময় হাতের ডানের ঝিরি কথা বলছিলাম এখন এই ঝিরিপথে এগিয়ে যান।

সামনে একটা ক্যাসকেড পাবেন, ক্যাসকেডের পাশ দিয়ে খুব সাবধানে ক্যাসকেডের উপরে উঠে যান। সামনে আবারো দুটি ঝিরিপথ পাবেন আর দু ঝিরিপথের শেষে আছে দুটি সুন্দর ঝর্ণা। ঐখান থেকে ফিরে কমলদহ ঝর্ণার কাছে প্রথম যেখানে ঝিরিপথ দুভাগ হয়ে ছিল সেখানে ফিরে আসুন।

এবার ঝিরি পথে এগিয়ে একটি ঝর্ণা পাবেন। এই ঝর্নার পাশের পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে উপরে উঠে ঝিরিপথ পাবেন, আরেকটু এগিয়ে আরেকটি ক্যাসকেড পাবেন। ক্যাসকেডের উপরে উঠে ঝিরিপথে একটু সামনে একটি ছোট ঝর্ণার দেখা পাবেন। এখানে না থেমে ছোট ঝর্ণাটির পাথর বেয়ে উপরে উঠলে মনে হবে আপনি অন্ধকার কোন সুরঙ্গে আছেন। হাল না ছেড়ে ২মিনিট হাটা পরই পাথরভাঙ্গা ঝর্ণার দেখা পাবেন।

পাথরভাঙ্গা ঝর্ণার দেখে ব্যাক করে ছোট ঝর্ণার পর ক্যাসকেড পার হওয়ার একটু পরই হাতের বাম দিকে পাহাড়ে উঠার একটি ছোট রাস্তা দেখতে পাবেন। ( মনে রাখবেন যখন পাথরভাঙ্গা ঝর্ণা দেখতে গিয়েছিলেন তখন হাতের ডান দিকে ছিল পাহাড়ি রাস্তাটি)

পাহাড়ে উঠে দেখতে পাবেন রাস্তা আবারো দুভাগ হয়ে গেছে। তখন পাহাড়ের উপরেরর দিকে যেই রাস্তা গেছে ঐ রাস্তায় এগিয়ে যান। কিছুটা এগিয়ে গেলেই তুলনামূলক বড় রাস্তায় তিন মোড়ে এসে পড়বেন। তখন হাতের ডান দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে যাবেন। একটু সামনেই ঝরঝরি ঝর্ণা দেখতে পাবেন।

সামনে এগিয়ে গেলে পাবেন পাকা রাস্তা। এই পাকা রাস্তা দিয়ে নায়নআশ্রম, ফরেস্ট অফিস হয়ে সোজা বড়দারোগারহাট স্টেশনে আসতে পারবেন।

থাকা ও খাওয়া

কোথায় থাকবেনঃ মিরসরাইতে পর্যটকদের থাকার জন্য তেমন কোন আবাসিক হোটেল এখনো গড়ে উঠেনি তাই আপনাকে সীতাকুন্ডে থাকতে হবে। যদিও সীতাকুন্ড বাজারের ভিতরে সাধারণ মানের কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। যোগাযোগ করতে পারেন হোটেল সাইমুনে, ভাড়া ৩০০-৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ ০১৮২৭৩৩৪০৮২, ০১৮২৫১২৮৭৬৭। অতি সম্প্রতি সীতাকুণ্ড পৌরসভার ডি টি রোডে হোটেল সৌদিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেল চালু হয়েছে। হোটেলটিতে ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকায় কয়েক ধরণের রুম পাওয়া যায়। বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন 01991-787979, 01816-518119 নাম্বারে।

এখানে সরকারী ডাকবাংলা আছে, থাকার জন্য চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এছাড়া বারৈয়ারহাটে গোল্ডেন নামে একটি আবাসিক হোটেল ও জাহেদ নামে একটি আবাসিক বোর্ডিং চালু আছে। একটু ভাল মানের হোটেলে থাকতে চাইলে ভাটিয়ারীতে দুইটি আবাসিক হোটেল আছে। এখানে সিঙ্গেল রুম নন এসি ৬০০ টাকা ও দুই বিছানার এসি রুম ১২০০ টাকায় পাওয়া যায়।

কোথায় খাবেনঃ সীতাকুন্ডে খাবার জন্য বেশ কয়েকটি হোটেল আছে। এদের মধ্যে আল আমীন হোটেলের খাবার মুটামুটি ভালো মানের।

সীতাকুন্ডের দর্শনীয় স্থান

কমলদহ ঝর্ণা ছাড়াও সীতাকুণ্ডে আছে দেখার মত অনেক কিছুই। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সীতাকুণ্ড পার্ক, চন্দ্রনাথ মন্দির, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত, কুমিরা ফেরী ঘাট, ঝরঝরি ঝর্ণা ট্রেইল ইত্যাদি।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

ম্যাপে কমলদহ ঝর্ণা

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।