চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত খনিয়াদিঘি মসজিদ (Khoniadighi Mosque) বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য নিদর্শন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হতে খনিয়াদিঘি মসজিদের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। স্থানীয় মানুষের কাছে প্রাচীন এই মসজিদটি রাজবিবি মসজিদ এবং চামচিকা মসজিদ নামে সুপরিচিত। ১৪৫০ থেকে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে গৌড় রাজধানী থাকাকালীন সময়ে খনিয়াদীঘি মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

খনিয়াদিঘি মসজিদের দৈর্ঘ ৬২ ফুট এবং প্রস্থ ৪২ ফুট। টেরাকোটা ও ইটের নকশায় অলংকৃত মসজিদের পিলার ও কার্নিশে পাথরের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত খনিয়াদিঘি মসজিদের মূল বর্গাকৃতির কক্ষের প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭ ফুট চওড়া ফলে প্রচন্ড গরমেও মসজিদের ভিতরের পরিবেশ শীতল থাকে। মূল মসজিদের ছাদের একটি বিশালাকার গম্বুজ এবং বারান্দার ছাদে ৩ টি ছোট আকৃতির গম্বুজ রয়েছে। আর মসজিদের পাশে অবস্থিত বিশালাকারের দিঘীর নাম খনিয়া দিঘি।

যাওয়ার উপায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাবার সহজ উপায় বাসে করে যাওয়া। ঢাকার কল্যানপুর ও গাবতলী থেকে দেশ ট্রাভেলস, ন্যশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীন ট্রাভেলস, তুহিন এলিট এর এসি ও নন এসি বাস সরাসরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ যায়। এসি/নন এসি এসব বাসের ভাড়া মানভেদে ৮৩০-১৫০০ টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর হতে মাহেন্দ্র বা সিএনজি ভাড়া নিয়ে সহজেই খনিয়াদিঘি মসজিদ যাওয়া যায়।

এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনে রাজশাহী গিয়ে সেখান থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় যাওয়ার বাসে করে যেতে পারবেন। তবে একদিনের ভ্রমণ করতে চাইলে সরাসরি বাসে যাওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে আগের দিন রাতে রওনা হয়ে পরিদিন সকালে পৌঁছে যাবেন, সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যার বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

আপনার যদি রাতে থাকার প্রয়োজন হয় সেইক্ষেত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে থাকার জন্যে মোটামুটি মানের বেশকিছু হোটেল আছে। উল্লেখযোগ্য হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল রোজ, হোটেল আল নাহিদ, হোটেল স্বপ্নপুরী, নবাবগঞ্জ বোডিং এবং হোটেল রংধনু। তবে পরিবেশ তেমন ভাল না। ভালো কোথাও থাকতে চাইলে আপনার রাজশাহী শহরে চলে আসতে হবে। রাজশাহী শহরে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেলে ১৯০০ থেকে ৪৬০০ টাকায় বিভিন্ন মানের রুম পাবেন। অন্যান্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল হক্স ইন, নাইস ইন্টারন্যাশনাল, মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল, ডালাস ইন্টারন্যাশনাল শুকরান ইত্যাদি হোটেলে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় রুম পাবেন।

ফিচার ইমেজ: সৈয়দ সাজ্জাদুল ইসলাম

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

ম্যাপে খনিয়াদিঘি মসজিদ

শেয়ার করুন সবার সাথে

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

মন্তব্য জানান

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।