পাবনা জেলার রাঘবপুর উপজেলায় অবস্থিত জোড় বাংলা মন্দির (Jor Bangla Mandir) বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কোন শিলালিপি না থাকায় জোড় বাংলা মন্দিরের নির্মাতা এবং নির্মাণকাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। জনশ্রুতি আছে, ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রজমোহন ক্রোড়ী নামের মুর্শিদাবাদের নবাবের এক তহসিলদার এই জোড় বাংলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন।

ইটের বেদীর উপর নির্মিত মন্দিরের সামনে অংশে তিনটি প্রবেশ পথ এবং পথের দুই পাশে দুটি বিশাল স্তম্ভ রয়েছে। এই প্রবেশপথ এক সময় মন্দিরের অন্য অংশের মত টেরাকোটার কারুকার্য্যে পূর্ণ ছিল। জোড় বাংলা মন্দিরের দেয়ালের নকশা এবং টেরাকোটার কাজ দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত কান্তজীউ মন্দিরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। মন্দিরের পেছন অংশে মন্দির থেকে বের হবার রাস্তা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পাবনা জোড় বাংলা মন্দিরের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করছে।

কিভাবে যাবেন

জোড় বাংলা মন্দিরটি পাবনা শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটারের দূরে রাঘবপুর উপজেলায় অবস্থিত। দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে পাবনা এসে ২০ থেকে ২৫ টাকা রিকশা ভাড়ায় করে ঘুরে জোড় বাংলা মন্দির আসতে পারবেন।

এছাড়া রাজধানী ঢাকার গাবতলি টেকনিক্যাল মোড় থেকে পাবনা আসার বেশকিছু বাস ছেড়ে যায়। এসমস্ত পাবনাগামী নন-এসি এবং এসি বাসের মানভেদে জনপ্রতি ভাড়া ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

পাবনায় থাকার জন্য বেশকিছু বিভিন্ন মানের এসি, নন-এসি আবাসিক হোটেল পাবেন। প্রয়োজনে নিচের হোটেলগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন:
হোটেল প্রবাসী ইন্টার ন্যাশনাল (01749-148685), হোটেল শিলটন (0731-62006, 1712-433249), হোটেল পার্ক (0731-64096), প্রাইম গেস্ট হাউস (0731-65701, 0731-66901), স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট (0731-64029, 0731-65861), ছায়ানীড় হোটেল (0731-66100, 0731-65390), মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট (0731-65787)

কোথায় খাবেন

পাবনা আব্দুল হামিদ রোডে বেশ কিছু খাবার হোটেল রয়েছে এর মধ্যে স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, ছায়ানীড়, মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।