করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী কিছুদিন কোথাও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন ও সচেতন থাকুন। করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সকল তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন

সিলেটের শেখঘাটে কাজীরবাজার সেতুর উত্তরে ঐতিহাসিক জিতু মিয়ার বাড়ী (Jitu Miah’r Bari) অবস্থিত। ১ দশমিক ৩৬৫ একর জায়গা জুড়ে খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওরফে জিতু মিয়া সাব রেজিস্টার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করলেও ১৮৯৭ থেকে ১৯০৩ সাল পযর্ন্ত সিলেট পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এবং অনারারী ম্যাজিস্টেট ছিলেন। তৎকালীন সময়ে জিতু মিয়ার পরিবারের জাকঁজমকপূর্ণ বিলাসী জীবনযাপন সিলেটে ব্যাপকভাবে আলোচিত হত। কথিত আছে, সে সময় এই বাড়ীর ড্রয়িংরুমে তুরস্কের পাশা, রুশ তুরস্কের যুদ্ধ, ব্রিটিশ রাজ পরিবারের রাজপুরুষদের বিভিন্ন আলোকচিত্র শোভা পেত। আর প্রতিদিন সিলেটে আগত শত শত লোক জিতু মিয়ার বাড়িতে আতিথেয়তা গ্রহণ করতেন।

আসামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার সাদ উল্লাহ ভারতের, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন, সাবেক আইসিএস খান বাহাদুর গজনফর আলী খান, পল্লী কবি জসীমউদ্দিন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীসহ অনেক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে জিতু মিয়ার বাড়ীতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন।

জিতু মিয়া তার জমিদারির অস্তিত্ব চিরদিন অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্যে ১৯২৪ সালে নিজেকে সন্তানহীন হিসেবে উল্লেখকরে যাবতীয় সম্পত্তি ওয়াকফ করে রেখে যান। তৎকালীন জেলা প্রশাসক কে বি এহিয়া ওয়াকফ এস্টেট এর মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত হন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকার বলে এ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি নিযুক্ত থাকেন।

জিতু মিয়ার বাড়িতে তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাপত্র ছাড়াও ক্যালিওগ্রাফি করা পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বাণী, কালো টেবিল ও ২০টি চেয়ারে সাজানো তৎকালীন সময়ের সভা কক্ষ নজরে আসে। বর্তমানে বাড়ির ভিতরে ৮টি বসত ঘরে জমিদার বংশের উত্তরসূরীরা বসবাস করেন।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলি, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পরিবহণের বাস ছেড়ে যায়। তাদের মধ্যে এনা, গ্রিন লাইন, সৌদিয়া, এস আলম, শ্যামলী, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব পরিবহণের এসি/নন-এসি প্রতিটি আসনের ভাড়া ৪০০ থেকে ১১০০ টাকা।

এছাড়া কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর পারাবত, জয়ন্তিকা কিংবা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েও সিলেট যাওয়া যায়। ট্রেনে চড়ে সিলেট যেতে ৭-৮ ঘন্টা সময় লাগে।

সিলেট শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে রিকশা বা সিএনজিতে চড়ে জিতু মিয়ার বাড়ী যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

কদমতলী ও দরগা রোডে কম ভাড়ায় অনেক মানসম্মত আবাসিক হোটেল আছে৷ যেখানে ৪০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাবেন। এছাড়া হোটেল হিল টাউন, গুলশান, দরগা গেইট, সুরমা, কায়কোবাদ ইত্যাদি হোটেলে প্রয়োজন ও সামর্থ অনুযায়ী রাত্রিযাপনের জন্য রুম পাবেন।

কোথায় খাবেন

সিলেটর জিন্দাবাজার এলাকার পানসী, পাঁচ ভাই এবং পালকি রেস্টুরেন্টে কম খরচে নানা রকম দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া সিলেট শহরে বিভিন্ন মানের অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অনায়াসে আপনার পছন্দ মত কোন একটিকে বেছে নিতে পারেন।

সিলেট জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

সিলেট জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে হযরত শাহজালালের মাজার, হযরত শাহপরাণের মাজার, ক্বীন ব্রীজ, মালনীছড়া চা বাগান, জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, লোভাছড়া, লালাখাল, পান্থুমাই ঝর্ণা, সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা, হাকালুকি হাওর, ভোলাগঞ্জ, ড্রিমল্যান্ড পার্ক এবং জাকারিয়া সিটি।

ফিচার ইমেজ: মাহমুদুল মুন্না

ম্যাপে জিতু মিয়ার বাড়ী

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।