যশোর জেলা শহর থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরত্বে বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে জেস গার্ডেন পার্ক (Jess Garden Park) অবস্থিত। ১৯৯২ সালে মরহুম এ. এস. এম হাবিবুল হক চুনি প্রায় ১২ একর জমির উপর পার্কটি প্রতিষ্ঠা করেন।

চিত্তবিনোদনের জন্য জেস গার্ডেন পার্কে রয়েছে বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য প্লেগ্রাউন্ড, শিশু পার্ক, নাগরদোলা, চেয়ার চরকি, ঘোড় চরকি, মিনি ট্রেন, প্যাডেল বোট, নামাযের স্থান, ক্যান্টিন এবং আধুনিক সুবিধা সম্বলিত টয়লেট। আগত দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে পার্কে অবস্থিত পদ্মফুল ফোটা জলাশয়ে কুমির ও বকের ভাষ্কর্য তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া পার্কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রাখা আছে বিশালাকারের ঘোড়া, হাতি, বাঘ, সিংহ, ক্যাঙ্গারু, বনমানুষের খেলনা।

সুশীতল ছায়া ঘেরা জেস গার্ডেন পার্কের মিনি চিড়িয়াখানায় বাঘ, হরিণ, কুমির, ভল্লুক, ময়ুর, খরগোশ, অজগর সাপ সহ বিভিন্ন ধরনের পাখি রয়েছে। পিকনিক আয়োজনের জন্য ডেকোরেটার ও রান্না ব্যবস্থার পাশাপাশি জেস গার্ডেন পার্কে আছে ২৫টি পিকনিক ছাউনি, বিশ্রামের জন্য ১০টি গোলঘর, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা এবং গাড়ি পাকিংয়ের সুব্যবস্থা। এছাড়া ভিআইপিদের জন্য পার্কে বিশেষ রেস্ট হাউজ রয়েছে।

জেস গার্ডেন পার্কের খরচ

জেস গার্ডেন পার্ক সপ্তাহের ৭ দিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। পার্কে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ৪০ টাকা এবং মিনি চিড়িয়াখানার টিকেটের মূল্য ১০ টাকা। এছাড়া পার্কের বিভিন্ন রাইডে চড়তে রাইড ভেদে জনপ্রতি ১০ থেকে ৫০ টাকা লাগে।

জেস গার্ডেন পার্কে ৫০ থেকে ১০০ জনের পিকনিকের জন্য বনোরুপা বাংলো ভাড়া নিতে ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকা খরচ হবে। আর ৫০-১০০ জনের জন্য বনোবিলাশ বংলো ভাড়া নিতে লাগবে ৬০০০-৮০০০ টাকা।

যোগাযোগ
বাহাদুরপুর, যশোর
মোবাইল: 01711-385257
ওয়েবসাইট: jessgardenpark.com

কিভাবে পার্কে যাবেন

জেস গার্ডেন পার্কে যেতে চাইলে প্রথমে যশোর জেলা শহরের উপশহর বাসস্টান্ড এলাকায় আসতে হবে। উপশহর বাসস্ট্যান্ড হতে ইজিবাইজে বাহাদুরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নেমে মিনিট পাঁচেক হাটলেই জেস গার্ডেনে পৌঁছে যাবেন। ইজিবাইকের ভাড়া লাগবে ১০ থেকে ১৫ টাকা। আর যদি ইজি বাইক রিজার্ভ নিতে চান তবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হবে।

ঢাকা থেকে বাসে যশোর : রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে যশোর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ঢাকার কল্যাণপুর, গাবতলী এবং কলাবাগান থেকে সোহাগ, গ্রিন লাইন, শ্যামলী এবং ঈগল পরিবহণের বেশকিছু এসি ও নন-এসি বাস যশোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। মানভেদে যশোরগামী নন-এসি বাসে ভাড়া ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা।

ঢাকা থেকে ট্রেনে যশোর : ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশান থেকে শনিবার ছাড়া সপ্তাহের ৬ দিন সকাল ৬ টা ২০ মিনিটে আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন যশোর অভিমুখে যাত্রা করে। এছাড়া চিত্রা এক্সপ্রেস নামক আর একটি আন্তঃনগর ট্রেন সোমবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য ৬ দিন সন্ধ্যা ৭ টার সময় যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনে শ্রেণিভেদে টিকেটের মূল্য শোভন ৩৫০, শোভন চেয়ার ৪২০, প্রথম শ্রেণি চেয়ার ৫৬০, প্রথম শ্রেণি বার্থ ৮৪০, স্নিগ্ধা এসি চেয়ার ৭০০ এবং এসি বার্থ ১২৬০ টাকা।

এছাড়া ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ডোমেস্টিক টার্মিনাল থেকে রিজেন্ট এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও নভো এয়ারের বিমান যশোরের উদ্দেশ্যে নিয়মিত চলাচল করে।

কোথায় থাকবেন

যশোর শহরে থাকার হোটেল গুলোর মধ্যে উন্নতমানের হোটেল গুলোর মধ্যে আছে হোটেল সিটি প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেল, হোটেল আর.এস ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল শামস ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি। এছাড়া রাতে থাকার জন্য যশোরে বেশকিছু সরকারি রেস্ট হাউস এবং মোটামুটি মানের আরও বেশ কিছু হোটেল আছে।

কোথায় কি খাবেন

যশোর আসলে এখানকার বিখ্যাত জামতলার মিষ্টি, খেজুরের গুড়ের প্যারা সন্দেশ ও ভিজা পিঠা মিস করা মোটেও উচিত হবে না। এছাড়া চার খাম্বার মোড়ের ‘জনি কাবাব’ থেকে কাবাব, ফ্রাই, চাপ বা লুচি খেতে পারেন। সেই সাথে ধর্মতলার মালাই চা এবং চুক নগরের বিখ্যাত চুই ঝাল খাবারের স্বাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার কোন মানে নেই!

ফিচার ইমেজ : তৌকির আহমেদ

ম্যাপে জেস গার্ডেন পার্ক

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।