ঝিনাইদহ জেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে বারোবাজার ইউনিয়নে ঐতিহাসিক গলাকাটা মসজিদ (Golakata Mosjid) অবস্থিত। কালিগঞ্জে মাটি খনন করে প্রাপ্ত ১৯টি সুলতানি আমলের মসজিদের মধ্যে এই মসজিদ অন্যতম। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মাটির ঢিবি খনন করে গলাকাটা মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ও সংস্কার করেন। ধারণা করা হয়, ১৬শ শতকে খান জাহান আলীর আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এই মসজিদটি গলাকাটা দীঘি ঢিবি মসজিদ হিসেবেও সুপরিচিত। ৬টি গম্বুজ বিশিষ্ট গলাকাটা মসজিদের দেয়ালগুলো ২৫ ফুট উঁচু এবং ৫ ফুট চওড়া। ৪টি ষষ্ঠকোণাকৃতির পিলারের উপর স্থাপিত বর্গাকৃতি মসজিদে সূচাল খিলান বিশিষ্ট ৩টি পোড়ামাটির প্রবেশদ্বার বিদ্যামান। আর মসজিদের ভিতরে রয়েছে টেরাকোটার অলংকৃত ৩টি অর্ধবৃত্তাকার সুসজ্জিত মেহরাব ও ৮ ফুট উচ্চতার দুইটি কষ্টিপাথরের মিনার।
মসজিদের পাশে প্রায় বারো বিঘা জায়গা জুড়ে গলাকাটা দীঘি অবস্থিত। কথিত আছে, বারোবাজারের একজন অত্যাচারী রাজা প্রজাদের বলী দিয়ে এই দীঘিতে ফেলে দিতেন। এ কারণে দিঘীটি গলাকাটা দীঘি হিসাবে পরিচিতি পায়। মসজিদ খনন কালে প্রাপ্ত পঞ্চাদশ শতাব্দীর কিছু নিদর্শন, হাতে লেখা কোরআন শরীফ ও একটি তলোয়ার মসজিদের ভিতরে সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের অধীনে থাকা সুলতানি আমলের বিশাল এই মসজিদটি দেখতে ও দীঘির মনোরম পরিবেশে সময় কাটাতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে বেড়াতে আসে। গলাকাটা মসজিদের কাছেই আছে জোড়বাংলা জামে মসজিদ, গোড়ার মসজিদ এবং পীর পুকুর জামে মসজিদ সহ আরো বেশকিছু ঐতিহাসিক মসজিদ।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে রয়েল, সোনার তরী, এসবি পরিবহণ, জেআর পরিবহণ, চুয়াডাঙ্গা, হানিফ, দর্শনা ও পূর্বাশা ডিলাক্স বাসে ঝিনাইদহ যাওয়া যায়। এসি বাসের ভাড়া লাগবে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা ও নন-এসি বাসের ভাড়া লাগবে ৫৫০ টাকা। ঝিনাইদহ থেকে বাস বা সিএনজি চড়ে কালীগঞ্জ হয়ে বারোবাজার থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে হাকিমপুর-বারোবাজার রাস্তার পাশে অবস্থিত গলাকাটা মসজিদে দেখতে যেতে পারবেন। এছাড়া যশোর থেকে ঝিনাইদহ মহাসড়ক দিয়ে ১৬ কিলোমিটার উত্তরে বারোবাজারে পৌঁছানো যায়।
কোথায় থাকবেন
ঝিনাইদহ শহরে হোটেল রাতুল, হোটেল রেডিয়েশন, হোটেল জামান, নয়ন হোটেল, হোটেল ড্রিম ইন ও ক্ষণিকা রেস্ট হাউজ সহ বেশকিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে।
কোথায় খাবেন
ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরের কাছে ভালো মানের কয়েকটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে।
ঝিনাইদহের দর্শনীয় স্থান
ঝিনাইদহের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে বারোবাজার, নলডাঙ্গা রাজবাড়ী রিসোর্ট, মিয়ার দালান ও জোহান ড্রিম ভ্যালী পার্ক উল্লেখযোগ্য।
ফিচার ইমেজ: শেখ শরীফুল ইসলাম
ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।