ফয়েজ লেক (Foys Lake) একটি কৃত্রিম হ্রদ। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন খুলশি এলাকায় প্রায় ৩৩৬ একর জায়গা জুড়ে ফয়েজ লেকের অবস্থান। চট্টগ্রামের জিরো পয়েন্ট থেকে এই লেকের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার। ১৯২৪ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কতৃপক্ষ এই লেকটি খনন করেন। তৎকালীন সময়ে লেকটি পাহারতলী লেক নামে পরিচিতি পেলেও পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রকৌশলীর নামানুসারে লেকটির নামকরণ করা হয় ফয়েজ লেক। আর এই ব্রিটিশ প্রকৌশলী ফয়েজ লেকের নকশা তৈরি করেছিলেন।

চারিদিকে ছোটবড় পাহাড় ঘেরা ফয়েস লেকের কাছে আছে চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় বাটালি হিল। এছাড়া এখানে গোধূলী, অরুনাময়ী, মন্দাকিনী, আকাশমনি, অলকানন্দা এবং দক্ষিনী নামের হৃদ রয়েছে। আর হ্রদের পানির শোভা বাড়িয়েছে সারি সারি ভাসমান নৌকা।

২০০৫ সালে ফয়’স লেকে একটি আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এবং বেশকিছু রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, সার্কাস সুইং, রোলার কোষ্টার, বাম্পার কার, জায়ান্ট ফেরিস হুইল, ড্রাই স্লাইড, ফ্যামিলি ট্রেন, প্যাডেল বোট, ফ্লোটিং ওয়াটার প্লে, পাইরেট শিপ, বোট রাইডিং, ল্যান্ডস্কেপিং সহ বেশকিছু আকর্ষনীয় রাইড। আরও আছে পিকনিক স্পট, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং ‘সী ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি ওয়াটার থিম পার্ক। যেখানে সী ওয়ার্ল্ডে স্প্লাশ পুল, ওয়াটার কোষ্টার রাইডারসহ আরো কিছু রোমাঞ্চকর রাইড উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। ফয়েজ লেকের অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের আহ্বানে প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এখানে ছুটে আসেন।

ফয়েজ লেকে প্রবেশ টিকেটের মূল্য

ফয়েজ লেকের প্রবেশের টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা। আর সকল রাইড এবং আইসক্রিমসহ প্রবেশ টিকেটের মূল্য জনপ্রতি ৩৫০ টাকা (বোট রাইড ও বাম্পার কার ব্যতীত)। সী ওয়ার্ল্ডে প্রবেশের জন্য ৪০০, ৫০০ এবং ৬০০ টাকার ৩ টি প্যাকেজ রয়েছে।

সময়সূচী

ফয়ে’স লেক প্রতিদিন সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। আর শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় ফয়েজ লেকের প্রবেশ পথ বন্ধ করা হয়। তবে সম্পূর্ন ফয়েস লেক ঘুরে দেখতে চাইলে সকাল বেলা যাওয়া উচিত।

যোগাযোগ:
ঢাকা অফিস: 8833786, 9896482, 01913-531386
চট্টগ্রাম অফিস: 031-2566080, 01913-531554, 01913-531480
ওয়েবসাইট: www.foyslake.com

ফয়েজ লেক যাওয়ার উপায়

চট্টগ্রাম শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে সিএনজি বা রিকশায় চড়ে সহজেই ফয়েজ লেক যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া ঢাকা থেকে বেশকিছু এয়ারলাইন্স সরাসরি চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।

কোথায় থাকবেন

রাত্রিযাপনের জন্য ফয়েজ লেক কতৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু বিলাসবহুল কটেজ ও রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। নবদম্পতিদের মধুচন্দ্রিমা উপভোগের জন্য আছে আলাদা হানিমুন কটেজের ব্যবস্থা। পাহাড় কিংবা হ্রদমুখী রিসোর্ট অথবা কটেজে একরাত থাকতে হলে ৪০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হবে।

এছাড়া থাকতে পারবেন চট্টগ্রাম শহরে। চট্টগ্রামে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। আপনার বাজেটের মধ্যে পেয়ে যাবেন অনেক হোটেল। বুকিং করে নিন আপনার পছন্দমত।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।