ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল বাংলাদেশের অন্যতম জমিদার বাড়ি ও একমাত্র ঐতিহ্যবাহী রিসোর্ট। এই রিসোর্টটির অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে ধনবাড়ি মসজিদ (Dhanbari Masjid) বা নবাব মসজিদ। ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিলের রয়েল রিসোর্টের পাশে শোভা বৃদ্ধি করে আছে প্রায় ৭০০ বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি। মোগল স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত ধনবাড়ি মসজিদের মোজাইক ও মেঝের মার্বেল পাথরে নিপুণ কারুকার্য স্থান পেয়েছে। প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপরে নির্মিত এই ধনবাড়ি মসজিদ আগে দেখতে আয়তকার হলেও বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের পর বর্তমানে এটি দেখতে বর্গাকৃতির রুপ লাভ করেছে। মসজিদের পূর্বদিকে খাঁজবিশিষ্ট খিলানযুক্ত ৩ টি এবং উত্তর-দক্ষিণে আরো একটি করে মোট ৫ টি প্রবেশপথ রয়েছে। নবাব মসজিদ এর পাশের কক্ষে নবাব বাহাদুর সৈদয় নওয়াব আলী চৌধুরীর মাজার রয়েছে। ১৯২৯ সালে নবাবের মৃত্যুর পর থেকে এই মাজারে ২৪ ঘণ্টাই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হচ্ছে হচ্ছে, যা আজ অবধি ১ মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়নি। বর্তমানে সাত জন কারি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর কোরআন তিলাওয়াত করেন।

ধনবাড়ি মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবের কুলুঙ্গিটি অষ্টভুজাকৃতির ও বহু খাঁজবিশিষ্ট খিলানযুক্ত এবং ফুলের নকশায় অলংকৃত রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় মিহরাবের দুইপাশে আরো দুটি অলংকারহীন মিহরাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবের পাশে চীনামাটির মোজাইক নকশায় অলংকৃত একটি মিম্বার রয়েছে। মসজিদের পাশে একটি প্রাচীন কবরস্থান লক্ষ করা যায়। মসজিদ ভেতরে এখনো মোগল আমলের তিনটি সুদৃশ্য ঝাড়বাতি শোভা বর্ধন করে আছে। ধনবাড়ি মসজিদে তিন গম্বুজ ও সুদৃশ্য একটি মিনার রয়েছে। এই মসজিদকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে মানত-প্রথাও চালু আছে।
ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিলে প্রবেশ করতে ৩০ টাকা দিয়ে টিকেট কাটতে হয়, যা নবাব মঞ্জিলে প্রবেশ পরবর্তী দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

ধনবাড়ি মসজিদ কিভাবে যাবেন

ঢাকার মহাখালি বাস টার্মিনাল থেকে বিনিময় পরিবহন ধনবাড়িতে ঠিক রাজবাড়ির সামনেই থামে। তবে লোকাল সার্ভিস হওয়ার কারণে ধনবাড়ি পৌছাঁতে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া মহাখালি থেকে নিরালা পরিবহণের বাসে ১৬০ টাকা ভাড়ায় টাঙ্গাইলে গিয়ে সিএনজি বা অটোরিকশা করে রাজবাড়িতে যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

যদি এখানে রাত্রিযাপন করতে চান তবে ধনবাড়ি নবাব মঞ্জিল রিসোর্টে থাকতে পারবেন। এই রিসোর্টে চার ধরনের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে থাকতে পারবেন নবাব মঞ্জিলের মূল রাজপ্রাসাদ, প্যালেস বা কাচারি ঘর, ভিলা (২০০ বছরের পুরোনো টিনশেড ভবন) এবং কটেজে (যা সম্প্রতি নির্মিত টিনশেড বাংলো)। শুধুমাত্র মঞ্জিল এবং প্যালেসে নবাবদের ব্যবহৃত খাট, সোফাসহ সব আসবাবপত্র পাবেন।

এছাড়া মধুপুর উপজেলা সদরে সৈকত, আদিত্য কিংবা ড্রিমটাচ আবাসিক হোটেলে এসি এবং নন-এসি রুমে স্বল্পমূল্যে রাত্রি যাপন করতে পারবেন।

টাঙ্গাইল শহরে থাকতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ ও এলজিইডির সরকারি রেস্ট হাউজ আছে। সেগুলিতে যোগাযোগ করে রাতে থাকতে পারবেন। টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ের দিকে আল ফয়সাল হোটেল রেসিডেনসিয়াল, হোটেল সাগর রেসিডেনসিয়াল, আফরিন হোটেল, এস এস রেস্ট হাউজ, সুগন্ধা হোটেল, নিরালা হোটেল ইত্যাদি বিভিন্ন মানের হোটেলে রাতে থাকতে পারবেন।

খাবার সুবিধা

টাঙ্গাইল খাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে শহরের নিরালা মোড়ে অবস্থিত হোটেল নিরালা বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এছাড়াও নিরালা মোড়ে কাছাকাছি দূরত্বে আরো কয়েকটি খাবার হোটেল রয়েছে।

টাঙ্গাইল আর যা যা দেখতে পারেন:

  • আতিয়া মসজিদ
  • মধুপুর উদ্যান
  • করটিয়া জমিদার বাড়ি
  • দেলদুয়ার জমিদার বাড়ী
  • মওলানা ভাসানীর সমাধি ও জাদুঘর
  • মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ম্যাপে ধনবাড়ি মসজিদ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।