ঢাকেশ্বরী মন্দির (Dhakeshwari Temple) বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান এবং জাতীয় মন্দির। ঢাকেশ্বরী শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘ঢাকার ঈশ্বরী’। আবার অনেকে মনে করেন, এই ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নাম থেকেই ঢাকার নামকরণ করা হয়েছে।

১২শ শতাব্দীতে সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেনের মাধ্যমে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়। যদিও তৎকালীন সময়কার স্থাপনার নির্মাণশৈলীর সাথে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্যকলার তেমন মিল পাওয়া যায় না। তাই ঐতিহাসিকগণদের মতে, ধারাবাহিক সংস্কারের ফলে মন্দিরটির মূল নকশার এমন পরিবর্তন ঘটেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি পাকিস্তানী বাহিনী কতৃক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরবর্তী সময়ে মন্দিরের মূল নকশা অনুযায়ী পুননির্মাণ করা হয়।

ঢাকেশ্বরী মন্দির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ হলের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঢাকেশ্বরী রোডে অবস্থিত। মন্দিরের মণ্ডপে রয়েছে ধাতু-নির্মিত দুর্গা দেবীর প্রতিমার স্থায়ী বেদী। আর মূল মন্দির প্রাঙ্গনের বাইরে মহানগর পূজা মণ্ডপেও প্রতি-বৎসর দুর্গা পূজা আয়োজন করা হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উত্তর-পশ্চিম কোণে ৪ টি শিব মন্দির, সন্তোষী মাতার মন্দির, অনুভোগের স্থান, রান্নাঘর, ফল কাটার কক্ষ, জুতা রাখার স্থান রয়েছে। এছাড়াও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আছে প্রশাসনিক ভবন, কোয়ার্টার, গেষ্ট রুম, সভাকক্ষ, লাইব্রেরী, ফুলের বাগান এবং পাড় বাধানো পুকুর।

সাপ্তাহিক প্রার্থনার সময়
শুক্রবার সকাল ১০ টায় মা সন্তোষীর পূজা, শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় শনি পূজা, রবিবার বিকেল ৫ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত কীর্তন হরী সেবা, সোমবার সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত শিব পূজা, আর মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত দূর্গা মাতার অর্চনা করা হয়। এছাড়াও প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ টায় দূর্গা মার পূজা অর্চনা ও আরতি হয়।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে শাহবাগ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসে রিকশা বা সিএনজি ভাড়া করে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যেতে পারবেন।

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।