দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সেনাদের সমাধিস্থল (চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি বা রণ সমাধিক্ষেত্র) চট্রগ্রামের মেহেদীবাগ গোল পাহাড় এলাকার বাদশা মিয়া রোডে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আজাদ হিন্দ ফৌজের আক্রমণে নিহত মিত্রবাহিনীর সৈনিকদের এখানে সমাহিত করা হয়। পাহাড়ের ভাঁজে অবস্থিত চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রির সাজানো গোছানো শান্ত পরিবেশ আপনার মনে শোকের আবহ তৈরী করবে।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রির (Chittagong War Cemetery) প্রধান ফটক পাড় হলেই সমাধিস্থলের মাঝখানে একটি ক্রুশ চিহ্নিত বেদি দেখা যায়। বেদির পরই রয়েছে একটি ছোট্ট প্রার্থনা ঘর। সেখানে ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ইতিহাস ও মানচিত্র স্থান পেয়েছে। সমাধিস্থলের আয়তন প্রায় ৭ একর এবং এখানে ৭৫৫ জন সৈনিকের সমাধি রয়েছে। ওয়ার সিমেট্রিতে রয়েছে প্রায় ৪০ প্রজাতির বৃক্ষরাজি ও শতাধিক দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ। প্রতি বছর ১১ নভেম্বর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর হাইকমিশনার এবং প্রতিনিধিগণ চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সমাধিক্ষেত্রটি কমনওয়েলথ গ্রেইভস কমিশন রক্ষণাবেক্ষণ করে।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রিতে প্রবেশের সময়
চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি সপ্তাহে ৭ দিনই দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। এছাড়া বৃষ্টির সময় এবং যেদিন সেমিট্রিতে ঔষুধ প্রদান করা হয় সেদিন ওয়ার সেমিট্রিতে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।

কিভাবে যাবেন

ওয়ার সিমেন্ট্রি দেখতে হলে প্রথমে চট্টগ্রাম আসতে হবে। চট্টগ্রাম শহরের যেকোন স্থান থেকে জিইসি মোড় (জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি) এসে সেখান থেকে রিক্সা নিয়ে নিজাম রোড হয়ে সহজেই চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রিতে পৌঁছাতে পারবেন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। ঢাকার সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টি আর ট্রাভেলস, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী, সোহাগ, এস. আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি-নন এসি বাস চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ঢাকা থেকে ট্রেনে চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী, চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া ঢাকা থেকে বেশকিছু এয়ারলাইন্স সরাসরি চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে।

কোথায় থাকবেন

রাত্রি যাপনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে হোটেল প‌্যারামাউন্ট রুম ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল অবকাশ রুম ভাড়া ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা। হোটেল লর্ডস ইন, সি এন্ড বি জিইসি মোড়, প্রতি রুম ভাড়া ২০০০ থেকে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল সিলমুন প্রতি রুম ভাড়া ১৮০০ হতে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। হোটেল এশিয়ান এসআর রুম ভাড়া ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। হোটেল নাবা ইন হোটেলের রুম ভাড়া ৩০০০ থেকে শুরু। আগ্রাবাদ অবস্থিত হোটেল ল্যান্ডমার্ক এ রাত্রি যাপন করতে গেলে রুম প্রতি নূন্যতম ২৫০০ টাকা খরচ করতে হবে। আর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে থাকতে গেলে এক রাতের জন্য গুনতে হবে ১৮০০০ টাকা।

উপরে উল্লেখিত আবাসিক হোটেল এছাড়াও চট্রগ্রামের বিভিন্ন এলাকাতে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। একটু যাচাই করে আপনার সুবিধামত হোটেল ম্যানেজ করতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

কোথায় খাবেন

যদি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার চেখে দেখতে চান তবে যেতে পারেন হোটেল জামান-এ। আর মেজবানি খাবারের জন্য যেতে পারেন চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আইয়্যুন” রেস্তোরায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহরে ছড়িয়ে আছে বেশকিছু ভাল মানের রেস্টুরেন্ট এদের মধ্যে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডি, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

পরামর্শ

  • সমাধিস্থলের পবিত্রতা রক্ষা ও সম্মান প্রদর্শন করুন।
  • সমাধিস্থলের ভিতরে খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান এবং দাঁড়িয়ে গল্প করবেন না।
  • সমাধিস্থল এলাকায় বসা নিষেধ, দেখে চলে আসুন।
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।