এশিয়া মহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর নাম ব্রহ্মপুত্র নদ (Brahmaputra River)। সংস্কৃত শব্দ ব্রহ্মপুত্র শব্দের অর্থ ব্রহ্মার পুত্র। হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহ হতে সৃষ্টি হয়ে সাং পো নামে তিব্বতের পুর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সিয়ং এবং আসামে দিহং নামে বয়ে যাবার সময় দিবং এবং লোহিত নামে আরো দুইটি বড় নদীর সাথে যুক্ত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের জন্ম। এরপর কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ময়মনসিংহ অঞ্চল দিয়ে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। উৎপত্তিস্থল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার। ১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা যমুনা নদীর জন্ম হয়।

ময়মনসিংহ জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ তার দুই পাড়ের তীরকে সাজিয়েছে আপন মমতায়। নদী তীরের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে উপভোগের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে পার্ক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি। এছাড়া নদীতে নৌ ভ্রমণ সহ নদীর চরে বনভোজনের সুযোগ রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদে।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে মাত্র ৩ ঘন্টা সময় লাগে। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে এনা, সৌখিন সহ বিভিন্ন বাস সার্ভিস ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল করে। এছাড়া ঢাকা হতে প্রতিদিন ৭টি আন্তনগর এবং মেইল ট্রেন ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে ষ্টেশন বা বাস স্টপ থেকে রিকশা যোগে সহজেই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পার্ক সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদী তীরে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

ঢাকা থেকে চাইলে দিনে গিয়ে দিনেই ময়মনসিংহ ঘুরে ফিরে আসা যায়। প্রয়োজনে রাত্রিযাপন করতে চাইলে হোটেল আমির ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল আল হেরা, হোটেল মোস্তাফিজ, সিলভার ক্যাসেল, রিভার প্যালেসে যোগাযোগ করতে পারেন।

কোথায় খাবেন

ময়মনসিংহে ভালমানের খাবার হোটেলের মধ্যে সারিন্দা, হোটেল খন্দকার, ধান সিড়ি, সেভেন ইলেবেন, হোটেল মিনার, রোম থ্রি এবং ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাব কেন্টিন উল্লেখযোগ্য।

ফিচার ইমেজ: মেহেদী হাসান সৈকত

ম্যাপে ব্রহ্মপুত্র নদ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।