সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা বিজয় সেনের অমর কীর্তি ঐতিহ্যবাহী বিজয় সিংহ দীঘি (Bijoy Singh Dighi) দেখতে হলে ফেনী শহরের ২ কিলোমিটার পশ্চিমে বিজয় সিংহ গ্রামে যেতে হবে। ফেনী সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই দীঘির আয়তন প্রায় ৩৭.৫৭ একর। উঁচু পাড় এবং সবুজ বৃক্ষ ঘেরা দিঘীটি এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে যোগ করেছে বিশেষ বৈশিষ্ট। বিজয় সিংহ দিঘী দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এখানে ঘুরতে আসেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পর্যটকের পদচারনায় বিজয় সিংহ দিঘীর চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠে। বিকেল বেলায় শান্ত সুন্দর প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চাইলে কিছুটা সময় কাটিয়ে আসতে পারেন শুদ্ধ জল ও বাতাসের এই মিলনস্থলে।

লোকমুখে প্রচলিত আছে, প্রায় ছয় থেকে সাতশত বছর পূর্বে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রভাবশালী একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার বাসনায় এ দীঘি খনন করা হয়। তাই এই দিঘীকে তখন রাজাঝির দিঘী নামে ডাকা হত। ১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে এই রাজাঝির দীঘির পাড়ে তৎকালীন সদর দপ্তর গড়ে তোলা হয়। বর্তমানেও বিজয় সিংহ দীঘিকে ঘিরেই ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ, জেলা পরিষদ, অফিসার্স ক্লাব, শিশু পার্ক এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে উঠেছে।

কিভাবে যাবেন

ফেনী জেলা ট্রাংক রোড জিরো পয়েন্ট অথবা ফেনী রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি যোগে সহজেই বিজয় সিংহ দীঘি দেখতে যাওয়া যায়। এছাড়া রিক্সায় চড়ে শহরের মহিপাল ট্রাফিক পয়েন্ট হয়ে সার্কিট হাউজ রোড ধরে বিজয় সিংহ দিঘীতে পৌঁছানো যায়।

কোথায় থাকবেন

‘বিজয় সিংহ দীঘির অত্যন্ত কাছে ফেনী সার্কিট হাউস গড়ে তোলা হয়েছে। আর দীঘি হতে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে মিজান রোডে ফেনী জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর অবস্থান। এছাড়া চাইলে এলজিইডি রেস্ট হাউস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যু সমিতির রেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

অথবা ফেনী শহরে রাত্রি যাপনের জন্য আবাসিক হোটেলের মধ্যে বেছে নিতে পারেন হোটেল মিড নাইট (0331-62223, 01733-585956) কিংবা হোটেল গাজী ইন্টরন্যাশনাল (0331-62415, 01711-123545, 01714-267305)।

ম্যাপে বিজয় সিংহ দীঘি

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।