সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দূরে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে, ম্যানগ্রোভ বন ও নদীর কোলে গড়ে উঠেছে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ষা রিসোর্ট (Barsha Resort)। রিসোর্টটিকে তিন দিক থেকে আগলে রেখেছে রূপসী সুন্দরবনের জলবায়ু, রূপসা-কালিন্দীর অববাহিকা ও সবুজ প্রান্তর। ঠিক পাশেই রয়েছে নয়নাভিরাম ইকো পার্ক, সুন্দরবন এর প্রবেশদ্বার এবং স্থানীয় কাঁকড়া খামার।

বিশেষ করে পূর্ণিমা রাতে বর্ষা রিসোর্টের ছাদ কিংবা বারান্দা থেকে জোছনা ভেজা ম্যানগ্রোভ আর নদীর নিস্তব্ধতা উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য এক অনাবিল স্বর্গীয় অনুভূতি। পরিবার নিয়ে শান্ত পরিবেশে কোয়ালিটি টাইম কাটানো কিংবা দলবেঁধে সুন্দরবন অভিযানের আগে বিশ্রামের জন্য এটি চমৎকার বেস ক্যাম্প (Base Camp)।

বর্ষা রিসোর্টের প্রবেশদ্বারে রয়েছে রাজকীয় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য, যা ঘুরতে পর্যটকদের ছবি তোলার প্রিয় স্থান। চারপাশে অসংখ্য নারিকেল গাছের সমারোহ ও রঙিন ফুলের বাগান রিসোর্টের নান্দনিকতায় যোগ করেছে ভিন্ন এক মাত্রা। খোলামেলা প্রাঙ্গণে আছে বসার নান্দনিক গোল ঘর, পুকুরপাড়ের বাঁধানো ঘাট, আর বাচ্চাদের বিনোদনের জন্য দোলনা ও স্লিপারসহ নিরাপদ কিডস জোন। বর্ষা রিসোর্টের নিজস্ব ঘাট থেকে কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম সেন্টার ও সুন্দরবনের গহীনে যাওয়ার ট্রলার ও নৌকা সহজে পাওয়া যায় বলে সুন্দরবনপ্রেমী ভ্রমণকারীদের কাছে এই রিসোর্টটির বিশেষ জনপ্রিয়তা ও নির্ভরযোগ্যতা রয়েছে।

রুমভাড়া ও খরচ

বর্ষা রিসোর্টে বিভিন্ন ক্যাটাগরির এসি ও নন-এসি রুম রয়েছে। সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড নন-এসি রুম এবং এসি ডিলাক্স রুমের ভাড়া সাধারণত ১৭০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা প্রতি রাত। (সাপ্তাহিক ছুটির দিন বা পিক সিজনে আগে থেকে বুকিং নিশ্চিত করা ভালো)।

সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্পট (যেমন: কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম) ঘুরে দেখার জন্য রিসোর্টের নিজস্ব জেটি থেকে ছোট-মাঝারি ট্রলার ও বোট রিজার্ভের সুবিধা রয়েছে, যার খরচ পড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা (যাত্রী সংখ্যা ও রুটের ওপর নির্ভরশীল)।  

সুন্দরবনের গহীনে প্রবেশের জন্য বন বিভাগের নির্ধারিত প্রবেশ ফি (Entry Fee) ও ট্রলার পারমিট আলাদা দিতে হয়। বন বিভাগের নিয়ম মেনে চলার জন্য স্থানীয় গাইডের সহায়তা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

যোগাযোগ
বর্ষা রিসোর্ট
কলবাড়ি, মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
মোবাইলঃ 01771-454596
Website | Facebook Page

কিভাবে যাবেন

ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ বা কলাবাগান বাস টার্মিনাল থেকে সোহাগ, এসপি গোল্ডেন লাইন, হানিফ পরিবহন কিংবা গ্রীন লাইনের এসি/নন-এসি বাসে যাত্রা করলে সরাসরি সাতক্ষীরা বা শ্যামনগরে নামা যায়। আর সাতক্ষীরা বাসস্ট্যান্ডে নামলে সেখান থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা শেয়ার্ড জিপে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বা নীলডুমুর ঘাটে আসা যায়।

মুন্সিগঞ্জ বাজার বা নীলডুমুর ঘাট থেকে ট্রলারে বা স্থানীয় বাহনে কয়েক মিনিটে সরাসরি বর্ষা রিসোর্টে পৌঁছে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সরাসরি শ্যামনগরের বাসে উঠলে যাতায়াত সবচেয়ে ঝামেলাহীন ও সময়বান্ধব হয়।

কোথায় খাবেন

বর্ষা রিসোর্টের নিজস্ব রেস্টুরেন্টে পর্যটকদের পছন্দ অনুযায়ী দেশীয় ও মিনি চাইনিজ খাবারের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের খাঁটি স্থানীয় স্বাদ তুলে ধরতে এখানে পরিবেশন করা হয় নদীর তাজা গলদা ও হরিণা চিংড়ি, ভেটকি বা পারসে মাছের ঝোল এবং মুচমুচে তাজা কাঁকড়া ফ্রাই বা ভুনার মতো জিভে জল আনা পদ। সন্ধ্যার পর বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সময় রেস্টুরেন্টটিতে চিকেন বা ফিশ বারবিকিউ (BBQ) আয়োজনের সুবিধাও আছে। এছাড়া রিসোর্টের বাইরে একদম ঘরোয়া পরিবেশে সাশ্রয়ী মূল্যে খেতে চাইলে কাছেই অবস্থিত মুন্সিগঞ্জ বাজারের স্থানীয় সাধারণ হোটেলগুলোতে ঘুরে আসতে পারেন।

সাতক্ষীরা জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

সাতক্ষীরার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে যশোরেশ্বরী কালী মন্দির, তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, মান্দারবারী সমুদ্র সৈকত, কলাগাছিয়া ইকো ট্যুরিজম, জোড়া শিব মন্দির, সোনাবাড়িয়া মঠবাড়ি মন্দির, মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট ও নলতা শরীফ অন্যতম।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

ম্যাপে বর্ষা রিসোর্ট, সাতক্ষীরা

শেয়ার করুন সবার সাথে

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

মন্তব্য জানান

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।