বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে পূর্ণাঙ্গ সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার এক অন্যোন্য তথ্যভাণ্ডারের নাম বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর (Bangladesh Military Museum)। সামরিক জাদুঘরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত রাশিয়ার তৈরী ট্যাংক পিটি-৭৬। এছাড়া জাদুঘরের মাঠে আরও ২৬ ধরণের ট্যাংক ও কামান প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

১৯৮৭ সালে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসের প্রবেশ পথে সর্বপ্রথম সামরিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হলেও দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে ১৯৯৯ সালে বিজয় সরণিতে জাদুঘরটিকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মূল ভবনে ৮টি ভিন্ন ভিন্ন গ্যালারী রয়েছে। এদের মধ্যে চারটি গ্যালারীতে তীর, ধনুকসহ আদিম যুগের অস্ত্র থেকে শুরু করে ডিবিবিএল গান, এসবিবিএল গান, বিশেষ ব্যক্তিদের ব্যবহৃত হাতিয়ার, এলএমজি, এসএমজি, মর্টার, স্প্যালো, এইচএমজি সহ বিভিন্ন অস্ত্র সর্ব সাধারণের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।

আর বাকি চার গ্যালারীতে আছে সশস্ত্র বাহিনীর পোশাক-পরিচ্ছদ, র‌্যাঙ্ক, ব্যাজ, ফিতা, মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণ দলিল, সেক্টর কমান্ডারগণের পোর্ট্রেট, বীরশ্রেষ্ঠদের পোর্ট্রেট, প্রাক্তন সকল সেনাপ্রধানের তৈলচিত্র, বীরশ্রেষ্ঠ-বীরপ্রতীকদের নামের তালিকা ইত্যাদি।

প্রবেশ টিকেট ও সময়সূচী

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে প্রবেশের জন্য কোন প্রকার ফি প্রদান করতে হয় না। বুধ ও শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৫ দিন গ্রীষ্মকালীন সময়ে সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট এবং শীতকালীন সময়ে ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জাদুঘর উন্মুক্ত থাকে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, সিএনজি কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া করে বিজয় সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর যেতে পারবেন। এছাড়া সুবিধাজনক উপায়ে ফার্মগেট অথবা চন্দ্রিমা উদ্যানের সামনে নেমে রিক্সা চড়ে বা পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর পৌঁছাতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এখানে ৫ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের হোটেলও পাবেন। ৫ তারকা হোটের মধ্যে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফকিরাপুল, পল্টন, গুলিস্তান এবং পুরান ঢাকাতে কম খরচে থাকার অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে।

ফিচার ইমেজ: মোঃ সাদেকুর রহমান

ম্যাপে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।