ঢাকার প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তানের খুব কাছে পল্টন এলাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ (Baitul Mukarram National Mosque)-এর অবস্থান। ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারম নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন বাওয়ানি জুট মিলসের তৎকালীন মালিক বিশিষ্ট শিল্পপতি লতিফ বাওয়ানি ও তাঁর ভাতিজা ইয়াহিয়া বাওয়ানি। সিন্ধুর বিশিষ্ট স্থপতি এ এইচ থারানির নকশায় নির্মিত বায়তুল মোকাররম মসজিদের জন্য পল্টনে ৮.৩০ একর জমি বরাদ্দ রাখা হয়। ১৯৬২ সালে মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

মসজিদের নকশায় বৈচিত্র প্রদানের উদ্দেশ্যে গম্বুজ পরিহার করে কাবা ঘরের আদলে চারকোনা কাঠামো তৈরী করা হয়েছে। ৮ তলা বিশিষ্ট বায়তুল মোকাররম মসজিদের নিচ তলায় বিভিন্ন বিপণিবিতান ও গুদামঘর রয়েছে। মসজিদের ২য় তলা থেকে ষষ্ঠ তলা নামায আদায়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। ২য় তলা থেকে খতিব নামাজ পড়িয়ে থাকেন। ৩য় তলার উত্তর পাশে নারীদের নামায আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদে একসাথে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি নামায আদায় করতে পারেন। মসজিদে প্রবেশে জন্য উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে পৃথক পৃথক প্রবেশ পথ রয়েছে।

১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ হতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উপর বায়তুল মোকাররম মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে। সৌদি সরকারের অর্থায়নে ২০০৮ সালে মসজিদ সম্প্রসারনের কাজ করা হয়। প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য দূরদূরান্ত হতে অসংখ্য মানুষ বায়তুল মোকাররম মসজিদে আসেন।

কীভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার যেকোন জায়গা হতে বাসে চড়ে পল্টন, গুলিস্তান কিংবা মতিঝিল এসে পায়ে হেঁটে বায়তুল মোকাররম মসজিদে পৌঁছাতে পারবেন।

ফিচার ইমেজ: ইসমায় আজম

ম্যাপে বায়তুল মোকাররম মসজিদ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।