ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত অপরাজেয় বাংলা (Aparajeyo Bangla) ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আবহে নির্মিত বাংলাদেশের সেরা ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের সর্বস্তরের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণের প্রতীক হিসাবে একজন নারী এবং দুইজন পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাকে ঐক্য, সংগ্রাম ও দৃঢ়তার আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনায়।

১৯৭৩ সালে অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৭৯ সালে এর কাজ শেষ হয়। ৬ ফুট বেদির উপর নির্মিত এই ভাস্কর্যের প্রস্থ ৮ ফুট, উচ্চতা ১২ ফুট এবং ব্যাস ৬ ফুট। অপরাজেয় বাংলাকে গড়ে তুলেছেন ভাস্কর শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। যদিও ভাস্করের নাম খচিত কোন শিলালিপি এখানে রাখা হয়নি।

ভাস্কর্যের তিন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ডান হাতে দৃঢ় প্রত্যয়ে রাইফেলের বেল্ট ধরে থাকা প্রতিরূপটি মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে। যার চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আপোষহীন স্বাধীনতাকামী চেতনার উদ্দীপনা। যার মডেল হিসাবে ছিলেন তৎকালীন আর্ট কলেজের ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা বদরুল আলম বেনু। আর সৈয়দ হামিদ মকসুদ ফজলে ছিলেন থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে দাঁড়ানো মূর্তির মডেল এবং হাসিনা আহমেদ হচ্ছেন নারী মূর্তির মডেল। তিন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিচ্ছবি এই অপরাজেয় বাংলা যেন অন্যায় ও বৈষম্য দূর করে সাম্যের গান গাইতে গাইতে ধাআ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার বিভিন্ন জায়গা হতে শাহবাগগামী অনেক বাস চলাচল করে। এসব বাসে কিংবা পছন্দের উপায়ে শাহবাগ এসে রিকশা বা পায়ে হেঁটে কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলা দেখতে যেতে পারবেন।

ফিচার ইমেজ: Shiropa Shahreen

ম্যাপে অপরাজেয় বাংলা

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।