বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা নিদর্শন এখন ঢাকার আগারগাঁওয়েই দেখা যাবে। ইতিহাস ও ভ্রমণে আগ্রহীদের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে চালু হয়েছে ‘আগারগাঁও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর’ (Agargaon Archaeological Museum)। ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।

২০০৬ সালে আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্বভবন চালু হওয়ার সময় থেকেই ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় একটি জাদুঘর বা ডিসপ্লে সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা ছিল। পরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তায় জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও গবেষকরাও বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।

ঢাকার ভেতরে ঘোরাঘুরির জায়গা বলতে সাধারণত উদ্যান, শপিংমল বা রেস্তোরাঁর কথাই বেশি আসে। তবে পাহাড়পুর, মহাস্থানগড় কিংবা উয়ারী-বটেশ্বরের মতো প্রত্নস্থানে যাওয়া যাদের হয়ে ওঠে না, তারা ঢাকাতেই এই জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারেন। প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে বৌদ্ধ, হিন্দু, সুলতানি, মোগল ও ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন প্রত্নসম্পদ এখানে রাখা হয়েছে। আধুনিক আলোকসজ্জা ও ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে এসব নিদর্শন দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

কী দেখবেন এই জাদুঘরে

প্রত্নভবনের ৩য় ও ৪র্থ তলায় এই জাদুঘরের প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে। এখানে বিভিন্ন সময়ের প্রাচীন প্রত্ননিদর্শন দেখতে পাওয়া যাবে:

  • ভাস্কর্য: প্রদর্শনীতে রয়েছে অষ্টম-নবম শতাব্দীর দুর্লভ ‘তারা’ মূর্তি এবং দশম-একাদশ শতাব্দীর খোদাই করা ‘বিষ্ণু’ মূর্তি।
  • প্রাচীন প্রত্নবস্তু: খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ের মৃৎপাত্র, ধাতব সরঞ্জাম, পোড়ামাটির সিল/সিলিং এবং পোড়ামাটির বল।
  • মুদ্রা ও অন্যান্য নিদর্শন: বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন মুদ্রা, নকশা করা টেরাকোটা ফলক, অলংকার, শিলালিপির প্রতিরূপ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিভিন্ন নিদর্শন।
  • ডিজিটাল ডিসপ্লে: দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রত্নস্থলের তথ্য ও ইতিহাস সহজে জানার জন্য রয়েছে ডিজিটাল প্রদর্শনী।

কীভাবে যাবেন

প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে যাতায়াত করা বেশ সহজ। মেট্রোরেলে করে যেতে চাইলে যেকোনো স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে আগারগাঁও স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে হেঁটে বা রিক্সায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে পৌঁছাতে পারবেন।

বাস বা সিএনজিতেও আগারগাঁও যাওয়া যায়। মিরপুর, ফার্মগেট বা মতিঝিলের দিক থেকে বাসে এসে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস বা পরিকল্পনা কমিশনের মোড়ে নামতে পারেন। সেখান থেকে হেঁটে কিংবা রিকশায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যাওয়া যাবে।

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

আশেপাশে আরও বেশ কিছু জাদুঘর ও ঘুরে বেড়ানোর স্থান রয়েছে। হাতে সময় থাকলে চাইলে সেই গুলোও ঘুরে দেখতে পারেন। তারমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো সামরিক জাদুঘর, নভোথিয়েটার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জাদুঘর, চন্দ্রিমা উদ্যান ইত্যাদি।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

ম্যাপে আগারগাঁও প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর

শেয়ার করুন সবার সাথে

দৃষ্টি আকর্ষণ: যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের দেশের সম্পদ। প্রকৃতি ও সৌন্দর্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল নাও থাকতে পারে। অনুগ্রহ করে আপনি কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে বর্তমান তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নিয়ে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এইসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই বাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।

মন্তব্য জানান

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।