কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় কালের সাক্ষী হিসেবে দাড়িয়ে আছে বিশাল আকৃতির এক অচিন গাছ (Achin Tree)। রহস্যকেন্দ্রিক গাছটির বয়স আনুমানিক ৫শ বছরের অধিক হলেও সবাই নিজেদের বাপ দাদাদের কাছ থেকে গাছ সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী শুনেছেন। স্থানীয়রা পৌরনিক কাহিনী ছাড়া এই গাছটির জন্ম বৃত্তান্ত বা পরিচয় এসব কিছুই বলতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাছটি পাকুর প্রজাতির। কথিত আছে, ভারতের আসাম রাজ্যের কামরূপ-কামাখ্যা হতে আগত একদল জাদুঘর চোখের পলকে এই অচিন গাছটি এখানে লাগিয়েছিলেন। আর গাছটির নাম কেউ না জানার কারণে স্থানীয়রা একে “অচিন গাছ” হিসেবে নামকরণ করে। আবার অনেকের মতে, এক পীর সুদূর পশ্চিম দিক থেকে অপরিচিত এই গাছের চারা এনে রোপণ করেছিল। সেই কারণে এটি অচিন গাছ হিসেবেই পরিচয় লাভ করে। এমন রহস্যের কারণে অচিন গাছকে ঘিরে কৌতূহলী মানুষের আগ্রহের কমতি নেই।

অচিন গাছটি তাঁর শাখা প্রশাখা বিস্তার করে প্রায় ১০ শতাংশ জায়গা জুড়ে অবস্থান করছে। ডুমুরের পাতা সদৃশ এই গাছের মরা পাতা নাকি আপনা আপনিই নতুন পাতায় রূপান্তর হয় এবং একেক পাশের পাতার আকৃতি এক এক রকম। অতীতে গাছটির ছায়ায় স্থানীয়রা নিয়মিত ধান-পাট শুকাতো এবং প্রতিদিন সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গাছটির গোঁড়ায় এসে মানত করে দক্ষিণা দান করত। কালের বিবর্তনে গাছটির শাখা-প্রশাখা অনেকটা কমে গেলেও যুগ যুগ ধরে স্থানীয় পূর্ব পুরুষদের গাছটিকে ঘিরে পূজা আর্চনা করার রীতি এখনো রয়ে গেছে। প্রতি দুই বছর অন্তর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জাঁকজমকপূর্ণভাবে অচিন গাছকে ঘিরে পূজা আর্চনা করে। বর্তমানে এই গাছটির একটি শাখা গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার বাঁশতলী গ্রামে ও আরেকটি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে লাগানো হয়েছে।

কিভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকার আসাদগেট, কল্যাণপুর ও গাবতলি থেকে নাবিল, হক স্পেশাল, হানিফ, তানজিলা ও এনার মতো বাসে কুড়িগ্রাম যাওয়া যায়। এসি/নন-এসি এসব বাসের জনপ্রতি ভাড়া লাগবে ৯৫০-১৪০০ টাকা। আবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশান থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস অথবা রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে সরাসরি কুড়িগ্রাম যাওয়া যায়। শ্রেণীভেদে এসব ট্রেনের টিকেটের মূল্য ৫১০-১৭৫৪ টাকা। কুড়িগ্রাম থেকে স্থানীয় পরিবহণে অচিন গাছ দেখতে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

কুড়িগ্রাম শহরের ঘোষপাড়া ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কাছে বিভিন্ন মানের বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল আছে। আবাসিক হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল অর্নব প্যালেস, হোটেল ডিকে, হোটেল স্মৃতি, হোটেল নিবেদিকা ও হোটেল মেহেদী উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন

কুড়িগ্রামের শাপলা মোড়ে অবস্থিত নান্না বিরিয়ানি ও এশিয়া হোটেলের খাবার বেশ ভালমানের। এছাড়া কুড়িগ্রামের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে সিদল ভর্তা ও তিস্তা নদীর বৈরাতী মাছ অন্যতম।

কুড়িগ্রাম জেলার দর্শনীয় স্থান

কুড়িগ্রামের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উলিপুর মুন্সিবাড়ী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলক, ধরলা ব্রিজ, ভেতরবন্দ জমিদার বাড়িচান্দামারী মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

ম্যাপে অচিন গাছ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।