মসজিদ মুসলমান তথা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার স্থান। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশ হলেও এখানে ইসলামের ইতিহাস তেমন পুরনো নয়। বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের কিছু প্রাচীন মসজিদ ছাড়া মোঘল আমলের পূর্বের সমস্ত স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে। আজ আমরা বাংলাদেশের তেমনি কিছু ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মসজিদ সম্পর্কে জানবো।

বাবা আদম মসজিদ

বাবা আদম মসজিদ
ছবি: Saiful Aopu

ঢাকার অদূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার দরগাবাড়ি গ্রামে ১৪৮৩ খ্রিষ্টাব্দে বাবা আদম মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। মসজিদ চত্বরে রয়েছে বাবা আদমের [রহ.] এর মাজার। ৬ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৪৩ ফুট এবং প্রস্থ ৩৬ ফুট। বর্তমানে বাবা আদম মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

কাকরাইল মসজিদ

কাকরাইল মসজিদ
ছবিঃ M Tawsif Salam

রাজধানী ঢাকার রমনা পার্কের পাশে কাকরাইল এলাকায় অবস্থিত কাকরাইল মসজিদটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। অতীতে এই মসজিদটি মালওয়ালি মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। ধারণা করা হয় ১৪৮৩ সালে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। ১৯৫২ সাল থেকে মসজিদটি বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের মারকায বা প্রধান কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

দারাস বাড়ি মসজিদ

দারাস বাড়ি মসজিদ
ছবিঃ Ashik2850

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দারাস বাড়ি মসজিদ অবস্থিত। ১৪৯৩ সালে নির্মাণের পর মসজিদটি ফিরোজপুর জামে মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। মসজিদটি দীর্ঘদিন মাটি চাপা ছিল, যা ৭০ দশকে প্রকাশিত হয়।

ছোট সোনা মসজিদ

ছোট সোনা মসজিদ
ছবিঃ Monawar Zahid Tonmoy

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অবস্থিত ছোট সোনা মসজিদটি ১৪৯৩ সালে নির্মাণ করা হয়। ওয়ালি মোহাম্মদ মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বলে শিলালিপি থেকে জানা যায়। উত্তর-দক্ষিণে ৮২ ফুট লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে ৫২.৫ ফুট চওড়া মসজিদটি সম্পূর্ন সোনালী রঙে ঢাকা ছিল তাই একে ‘গৌড়ের রত্ন’ বলা হত।

ষাট গম্বুজ মসজিদ

ষাট গম্বুজ মসজিদ
ছবিঃ মোয়ায মাহমুদ

বাগেরহাট জেলার অবস্থিত প্রাচীন ষাট গম্বুজ মসজিদটি ১৫০০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ করা হয়। মসজিদের গায়ে কোন শিলালিপি পাওয়া যায়নি তবে নির্মাণশৈলী দেখে ধারণা করা হয় খান-ই-জাহান মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ইউনেস্কো ঐতিহ্যবাহী এই ষাট গম্বুজ মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা সম্মান প্রদান করে।

খনিয়াদিঘি মসজিদ

খনিয়াদিঘি মসজিদ
ছবিঃ Porag

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত খনিয়াদিঘি মসজিদটি স্থানীয়ভাবে চামচিকা মসজিদ এবং রাজবিবি মসজিদ নামে পরিচিত। কারুকার্যময় এই মসজিদটি পনেরোশ শতকের শুরুতে নির্মিত হয়। বর্গাকৃতির এই মসজিদটির প্রতিটি বাহুর দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট।

বাঘা মসজিদ

বাঘা মসজিদ
ছবিঃ Afifa Afrin

রাজশাহী সদর থেকে ৪১ কিলোমিটার দূরে বাঘা উপজেলায় ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদটি অবস্থিত। ১৫২৩ আলাউদ্দিন শাহের পুত্র সুলতান নসরাত শাহ বাঘা মসজিদটি নির্মাণ করেন। ২৫৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মসজিদে মোট ১০ টি গম্বুজ রয়েছে। ২২.৯২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১২.১৮ মিটার প্রস্থ্যের বাঘা মসজিদে ৪ টি কারুকার্যময় মেহরাব রয়েছে। এছাড়া বাঘা মসজিদের পাশেই একটি মাজার শরীফ রয়েছে। এই মসজিদ এলাকায় প্রায় ৫০০ বছর ধরে ঈদুল ফিতরের দিন থেকে ৩ দিন ব্যাপী ‘বাঘার মেলা’র আয়োজন করা হয়।

লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদ

লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদ
ছবিঃ Md. Sarwar Ul Islam Fakir

বৃটিশ শাসনামলে প্রথম লালদীঘি নয় গম্বুজ মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়। এরপর স্থানীয়রা মসজিদটি ব্যবহার শুরু করেন। মসজিদের গায়ে কোন শিলালিপি না পাওয়ায় এর নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হয় ১৫২৩ সালে জনৈক দিলওয়ার খানের মাধ্যমে মসজিদটি নির্মিত হয়।

কুসুম্বা মসজিদ

কুসুম্বা মসজিদ
ছবিঃ Mashrur Alam Siam

নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত কুসুম্বা মসজিদ বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন স্থাপনা। ১৫৫৪ সালে নির্মিত মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট এবং প্রস্থ ৪২ ফুট। কুসুম্বা মসজিদের ছাদে দুই সারিতে মোট ৬ টি গম্বুজ রয়েছে। আফগানী শাসনামলে জনৈক সুলায়মান নামক ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

চাটমোহর শাহী মসজিদ

চাটমোহর শাহী মসজিদ

পাবনার চাটমোহর উপজেলা অবস্থিত চাটমোহর শাহী মসজিদটি এক সময় প্রায় ধবংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল কিন্তু ঊনিশো আশি দশকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এটিকে পুনঃনির্মাণ করেন। ১৫৮১ সালে মাসুম খাঁ কাবলি নামের সম্রাট আকবরের জনৈক সেনাপতি চাটমোহর শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন। অনেক ঐতিহাসিক বইয়ে মসজিদটি মাসুম খাঁ কাবলির মসজিদ বলে উল্লেখ রয়েছে।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।