ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে মেঘালয় একটি । ভ্রমণ পিপাসু ভাইবোন অনেকেই শিলং ভ্রমণের ব্যপারে জানার জন্য অতি উৎসাহী । মেঘালয় রাজ্যের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় দুটি শহরের একটি শিলং ও অপরটি চেরাপুঞ্জি। মেঘালয়ের শিলং ও চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ নিয়ে লিখেছেন ইমাদ আশরাফ

প্রথমেই ভারতের ডাউকি (Dawki) বর্ডার দিয়ে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করতে হবে । ঢাকা থেকে করলে মোটামুটি ৭ দিন ও ঢাকার বাইরে থেকে করলে ভিসা পেতে ১৪ দিনের মত সময় লাগবে । এরপর ৪/৫ দিনের জন্য একটি ছুটির ব্যবস্থা করেই রওনা দেন মেঘালয়ের উদ্দ্যেশে । ভ্রমণের আগে সবচেয়ে জরুরী ও অবশ্য করণীয় হলো গুগল ম্যাপ দেখে নিজে নিজেই একটা প্লান সেট করে ফেলা । এতে করে ভ্রমণকালীন সময় অনেক উল্লেখযোগ্য ভাবেই বেঁচে যাবে এবং বেশি জায়গা অনেক সময় নিয়ে ঘুরা যাবে ।

ভ্রমণ শুরু করার আগে অতি জরুরী জিনিসপত্র যেমন পাসপোর্ট, ব্রাশ, টুথপেস্ট, তোয়ালে, টিস্যু, পাওয়ার ব্যাংক এসব সাথে আছে কিনা দেখে নিবেন। যারা সিলেট থেকে রওনা দিবেন তারা সকাল ৬/৬:৩০ এর মধ্যে সিলেট থেকে তামাবিল এর উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন । আর যারা সিলেটের বাইরে থেকে আসবেন তারা এমন ভাবে রওনা দিবেন যেন সিলেটে সকাল ৬ টার মধ্যে পৌঁছুতে পারেন। সিলেট থেকে তামাবিল যেতে ১:৩০/২ ঘন্টার মত সময় লাগবে । ইমিগ্রেশন অফিস খোলার সময় সকাল ৯টা। যদিও আমরা যেদিন গিয়েছিলাম ওইদিন তারা ৮:৩০ বাজতেই সব অফিস খুলে ফেলে । তাড়াতাড়ি গেলে সুবিধা হবে আপনারা বর্ডার পার হয়েই বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা শুরু করে দিতে পারবেন । একটু বেলা গড়িয়ে ১১টা বেজে গেলেই বিপদে পড়ে যেতে পারেন। ভিড় বেশি হলে বর্ডার পার হতে ৪/৫ ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে । আমরা ১০ মিনিটের মধ্যেই বর্ডার পাড় হয়ে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি ভারতের ইমিগ্রেশন অফিস তখনো খুলেনি । ভারতীয় সময় সকাল ৯টায় তারা অফিস খুলে। আমরাই ছিলাম প্রথম যাত্রি তাই আমাদের ১৫ মিনিটেই সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যায়।

ওখানেই ভ্রমণের জন্য তিন ধরনের গাড়ি পাওয়া যায় । ট্যাক্সি (৩/৪ জন), সুমো (৭/৮ জন), ট্রাভেলার (১৫/১৬ জন) এই তিন ধরণের গাড়ি আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়া করে নিতে হবে । প্রচলিত আছে, মেঘালয়ের ড্রাইভাররা আসামের ড্রাইভারদের তুলনায় ভাল হয় । তাই চেষ্টা করবেন ML লেখা নাম্বার প্লেট দেখে গাড়ি ভাড়া করতে । আসামের গাড়িতে AS লেখা থাকে । সবাই অবশ্য ভাড়া একটু বেশি চাইবে । আপনারা দামাদামি করে ভাড়া যত পারেন কমানোর চেষ্টা করবেন । অতঃপর ভারতীয় সময় ঠিক ৯:৩০ মিনিটে আমরা যাত্রা শুরু করি ।

ম্যাপ অনুযায়ী প্লান করার কারণে আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল Shnongpdeng, Borhill Water Falls, Borhill Falls, Mawlynnong Clean Village, Nohwet Living Root Bridge, Bangladesh View Point, Mawkhong View Point এসব হয়ে রাতের মধ্যেই চেরাপুঞ্জি গমন । প্রথমেই আমরা ১ ঘণ্টার মধ্যে Shnongpdeng পৌঁছাই । শীতকালেই এই জায়গার আসল সৌন্দর্য দেখা যায় । উপর থেকে দেখতে নদীর পানি একদম সবুজাব রঙয়ের দেখায় । শীতকালে গেলে অবশ্যই Shnongpdeng ঘুরতে যাবেন। এখানের পুরি দিয়ে ডাল এর স্বাদ না নিয়ে আসবেন না। খুবি মজার ছিল ।

বর্ষাকাল ছাড়া ঝর্ণা গুলোতে ওতো পানি না থাকায় আমরা Borhill Water Falls ও Borhill Falls কিছু ছবি তুলেই Mawlynnong Clean Village এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই । গ্রামটিতে আসলে পরিচ্ছন্নতা ছাড়া দেখার মতো কিছু নেই । দেখার যা তা হলো Nohwet Living Root Bridge যা ওই গ্রামের পাশেই পড়েছে । জীবন্ত গাছের শিকড় দিয়ে গড়া ব্রিজটি আসলেই দেখার মতো । সাথে ঝর্ণা তো ফ্রি আছেই । শীতকালে গেলে ঝর্ণার পাথরে নেমে ছবিও তুলতে পারবেন । এখান থেকে Bangladesh View Point এ যাওয়া যাবে । কিন্তু আমি বলব এই যায়গাটাতে যাওয়ার চেষ্টা না করাই ভাল । কিচ্ছু দেখার নেই । আর যে ভিউ তা আরও সুন্দর করে অনেক যায়গায় দেখতে পাবেন । তারপর গন্তব্য চেরাপুঞ্জি । পথে Mawkhong View Point এ দেখে যেতে পারেন । মন্দ না, মেঘ যেমন আছে, আছে অতি দূরের গভীর পাহারের দৃশ্য । এর আগে রাস্তায় Nist Land Restaurant এর আলু পরোটার সাথে চিকেন কারির স্বাদ অসাধারণ ছিল । চেরাপুঞ্জি পৌঁছুতে প্রায় ৬টা বেজে যায় । এরপর হোটেল ভাড়া করা আর রাতে খাওয়া এই ছিল কাজ । রাতে এতো ঠান্ডা থাকে, আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা ভাল ।

দ্বিতীয় দিনে সকাল ৭:৩০ মিনিটে শুরু হলো আমাদের চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ । চেরাপুঞ্জিকে (Cherrapunji) স্থানীয় ভাবে সোহরা (Sohra) বলে ডাকা হয় । এবারো সেই ম্যাপ অনুযায়ী যাত্রা শুরু । প্রথমেই সেভেন সিস্টার্স ফলস (Seven Sister Falls) গেলাম যা রাস্তার পাশেই পড়েছে । জায়গাটা যদিও বর্ষাকালে অনেক সুন্দর থাকে, শীতে পানি একদম কম থাকায় ছবি তোলাই ছিল আমাদের মূল কাজ । এরপর গেলাম মউসমি Mawsmai Cave । এতো সুন্দর একটি গুহা, বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি । গুহার এক পাশে ঢুকে অন্যদিকে বের হওয়ার মধ্যে ছোটখাটো একটা এডভেঞ্চার অনুভূতি হবেই । তারপর Mawsmai Nongthymmai Eco Park, যেখানে মূলত দেখার কিছুই নেই, তবে খাওয়ার উদ্দেশ্যে একটা ঢুঁ মারতে পারেন । শুনেছি রেস্টুরেন্টে ভালই খাবার পাওয়া যায়, যদিও আমরা কিছু খাইনি ।

এরপর গন্তব্য ছিল আরেকটি অসাধারণ স্থান নোহকালিকাই ফলস (Nohkalikai Falls)। পানি কম থাকা সত্ত্বেও ঝর্ণা দেখতে আসলেই অপরূপ লাগছিল । চাইলে এখানে প্রায় ৩০০ সিঁড়ি নিচেও ঘুরে আস্তে পারেন । তবে নিশ্চয়ই একা যাবেন না । অনেকেই জানেন না যে নিচে যাওয়ার জন্য পথ আছে । যে ভিউ পয়েন্ট এ দাড়িয়ে আপনারা ঝর্ণা দেখবেন এটা আসলে নতুন হয়েছ। আপনারা হেটে একটু সামনে যাবেন যেখানে দেখবেন নোহকালিকাই ফলস লেখা একটি বড় গেট রয়েছে । তারপর আরেকটু সামনে গেলেই হাতের ডানে একটু ছোট্ট একটি যায়গা দেখবেন নিচে সিঁড়ি হয়ে চলে গেছে । এটা অনেকটা পরিত্যাক্ত যায়গার মত দেখতে । একটা সময় গেলে অবশ্য সিঁড়ি শেষ হয়ে মাটির রাস্তা শুরু হয়ে যায় । মানুষ কম হওয়ায় আর নিচে যাওয়ার সাহস করতে পারেনি । সিঁড়ি দিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আসলে যতো সহজে বলে ফেললাম আসলে ততোটা সহজ না। তাই গেলেও সাবধানে যাবেন।

Nohkalikai Falls হয়ে আমরা রওনা দিলাম Dainthlen Falls এর উদ্দেশ্যে । আসল উদ্দেশ্য ছিল Wei Sawdong, যেখানে সাধারণত ড্রাইভাররা নিয়ে যেতে চায় না । যাওয়ার পথে Orange Roots Restaurant এর গোলাপজামুন taste করে দেখতে পারেন। যাইহোক, Dainthlen Falls থেকে মাত্র ১.৫ কি.মি. দুরেই Wei Sawdong অবস্থিত । আমরা ড্রাইভারকে একধরণের জোড় করেই Wei Sawdong নিয়ে যাই । এখানে সমস্যা হলো আলাদাভাবে পার্কিং করার জন্য যায়গা নেই, এবং ঝর্ণা দেখতে গেলে পাহাড় বেয়ে নিচে যেতে হয় । নিচে যাওয়ার রাস্তা খুবি বিপদজনক । একটু উনিশবিশ হলেই বিপদ ঘটার সম্ভাবনা থাকে । মেয়েদের মধ্যে ৯৯% ছিল মেঘালয়ের খাসিয়া জাতি, বাঙ্গালী ২টা কাপল দেখেছিলাম, তবে তারাও যথেষ্ট এথলেটিক তা দেখেই বুঝা যাচ্ছিল । প্রায় ১৫ মিনিট পরে নিচে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল Wei Sawdong না গেলে এবারের ভ্রমণটাই সার্থক হতো না । এতো বড় ঝর্ণা একদম চোখের সামনে, একদম পানির কাছে গিয়ে দেখা, পরিষ্কার পানি আর লাল সবুজাভ সৌন্দর্য, বাস্তবে না দেখলে এটা বুঝানো কোনোভাবেই সম্ভব না । ছবি তোলার জন্যেও এই যায়গাটির তুলনা হয়না । ওইদিনের বেশিরভাগ সময় আমরা Wei Sawdong এই কাটাই ।

বর্ষাকালে এই যায়গায় যাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে । পাহাড়ি রাস্তার যে অবস্থা, বর্ষাকালে এটা কতোটুকু বিপদজনক হবে সেটা চিন্তা করলেই ভয় লাগে । যাইহোক ফেরার পথে Dainthlen Falls দেখে আমরা শিলং (Shillong) এর পথে যাত্রা শুরু করি। রাস্তায় Pals n Fam Dhaba রেস্টুরেন্টের আলু পরোটাও মজার ছিল । শিলং আসতে প্রায় ৬টা বেজে যায় । এরপর হোটেল ঠিক করে একটু বিশ্রাম করে ৭টার দিকে শহর ঘুরতে বের হই । প্রথমবার শিলং যাওয়ায় একটু আবিষ্কারের চেষ্টায় ঘুরতে থাকলাম । অবাক বিষয় হলো, রাত ৮টার পরেই শহর আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে যায় । যাদের দেখবেন তাদের প্রায় সবাই ঘুরতে আসা পর্যটক । ৮টার পর সব দোকানও আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায়। KFC তে রাতে খাওয়াদাওয়া করে রাত ৯:৩০ মিনিটে আমরা হোটেলে ফিরে যাই । ১১টায় ঘুম, কারণ পরেরদিন সকাল ৭টায় শুরু করতে হবে।

তৃতীয়দিন সকালে খেয়ে যাত্রা শুরু করতে প্রায় ৮টা বেজে যায় । প্রথমেই আমরা যাই Umiam Lake ঘুরতে। লেকটা কৃত্রিম ভাবে সৃষ্ট । অবাক করার মতো বিষয় এটাই যে কিভাবে মানুষ প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে একটি কৃত্রিম লেক গড়ে তুলতে পারে !! যাইহোক আমাদের কাছে এই লেকে দেখার মতো তেমন আহামরি কিছু মনে হয়নি । একটু প্রাকৃতিক আর নির্মল আবাহাওয়ার কারণে পর্যটকরাও এখানে নেহায়েত কম যায়না । Orchid Lake Resort এর ভিতরে গেলে একদম পানির কাছে যাওয়া যায় । Umiam Lake View Point থেকে রিসোর্ট পর্যন্ত গাড়ি দিয়ে যেতে আরও ১০/১২ মিনিট লেগে যায় । স্থানীয়রা Umiam Lake কে Bara Pani নামে ডেকে থাকে । পরবর্তী গন্তব্য ছিল Don Vosco Museum যা lake থেকে আসতে ৩০/৪০ মিনিট লেগে যায় । এখন পর্যন্ত যতো স্পটেই গিয়েছি, টিকেট মূল্য ছিল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ রুপি । কিন্তু এক Don Vosco Museum এর টিকেট মূল্য জনপ্রতি ২০০ রুপি । ৭ তলা এই মিউজিয়ামে কি নেই !! পুরো মেঘালয়ের সব ধরণের জাতিগোষ্ঠীর culture থেকে শুরু করে পৃথিবীতে মানুষের সৃষ্টি, ধর্মের সৃষ্টি, মেঘালয়সহ পূর্বে অবস্থিত ৭ রাজ্যের ধারনা, মানুষের বিচিত্র বিশ্বাস, ভাষার বিবর্তন, ছাদে গিয়ে শিলং ভিউ, আরও কতো কি । যাদের মিউজিয়াম বা জাদুঘরের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন, তাদের Don Vosco Museum অবশ্যই ঘুরে আসা উচিত । আমার অসাধারণ লেগেছে । বাকীটা গেলেই বুঝতে পারবেন আশা করি ।

তারপর গন্তব্য এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গির্জা Cathedral দেখতে যাওয়া । পথে চাইলে রাস্তায় নেমে Golf Links দেখতে পারেন । আমরা অবশ্য গাড়ির ভিতর থেকেই দেখে নেই । Cathedral গির্জা আসলেই অনেক বড় এবং অনেক সুন্দর । ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ঘুরাঘুরি সম্পূর্ণ ফ্রি । ছবি তোলা পর্ব শেষ করে আমরা খাওয়ার জন্য মুসলিম হোটেল এর খোঁজে Bara Bazar যাই । খাবার ঠিকমতো পাওয়া গেলেও খুব একটা উপভোগ করেছি বলে মনে হয়নি ।

রবিবারে শিলং এর সব দোকানপাঠ বন্ধ থাকে । দিনটা শনিবার হওয়ায় আমরা ওইদিনের মতো গাড়িকে বিদায় করে ঘুরাঘুরি বাদ দিয়ে মার্কেটে ঘুরতে শুরু করি । বড়বাজারের মার্কেট এতোটাই বড় যে আমরা এতো ভিতরে চলে গিয়েছিলাম যে বুঝাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছিলো । এতো ঘুরার পরেও স্পেশাল কিছু কেনার মতো আছে বলে মনে হয়নি । কিছু চকোলেট কিনে আমরা রাতে Street Food এর বিরিয়ানি চেখে দেখেছিলাম । খেয়ে দেখতে পারেন, মন্দ বলা যায়না । রাত প্রায় ৯টায় আমরা হোটেলে ফিরে আসি । চেরাপুঞ্জি আর শিলং এর রাতের ঠান্ডা সর্দি হওয়ার জন্য খুবি উপকারী(!!), তাই সাবধান থাকবেন ।

পরদিন ছিল শিলং এ আমাদের শেষদিন । আমাদের আজকের গন্তব্য Laitlum Grand Canyon হয়ে ডাউকি হয়ে বাংলাদেশ । মদিনা মসজিদ নামে একটি মসজিদ আছে, যা খুবি সুন্দর, বিশেষ করে রাতের বেলায় । একটু ক্লান্ত থাকায় আমরা আগের রাতে মসজিদে যেতে পারিনি বলে সকালে প্রথমেই মসজিদে যাই । এটা আবার Laban Glass Masjid নামেও পরিচিত । দেখতে পারেন, খুব বেশি সময়ও লাগবে না । পারলে রাতে হেটেই যেতে পারেন । পুলিশ বাজার সেন্টার পয়েন্ট থেকে ১.৫/২ কি.মি. এর মধ্যেই মসজিদটি অবস্থিত ।

এরপর আমরা Laitlum এর পথে যাওয়া শুরু করি । গুগল ম্যাপে শুধু Laitlum লিখে সার্চ করলে একটু বিভ্রান্ত হবেন । দেখাবে পুলিশ বাজার থেকে ৭/৮ কিমি দূরেই এটা অবস্থিত । আসলে এটা আসল Laitlum না । আপনারা অবশ্যই Laitlum Grand Canyon লিখে সার্চ করবেন, যা কিনা প্রায় ৩০ কিমি দূর অবস্থিত । যেতে ঘন্টার উপর লেগে যায় । আমরা সকাল ৯:৩০ মিনিটে পৌঁছাই । আসলে এখানে যাওয়া উচিত খুব সকালে, পারলে ৬ টায় রওনা দেয়া দরকার । বিশাল পাহাড়ের একদম শেষ প্রান্তে যাওয়ার মতো ভয়ংকর সুন্দর অনুভূতি, আর যতোদূর চোখ যায় সুদুর গিরিখাতের উপর মেঘের খেলা, অসাধারণ এক দৃশ্য ।

শীতকালে মেঘালয় ভ্রমণের সুবিধা হলো আপনি অনেক সুন্দর ছবি তুলতে পারবেন এবং এডভেঞ্চার করতে পারবেন । বর্ষাকালে মূলত ঝর্ণাগুলোর আসল সৌন্দর্য দেখার সুযোগ পাবেন । অবশেষে আমরা
Laitlum Grand Canyon থেকে ডাউকি পৌঁছাই । ইমিগ্রেশনে দুপুর ২/৩টার দিকে মানুষ থাকে না বললেই চলে । তাই খুব তাড়াতাড়ি পার হয়ে যেতে পারবেন । ৫টা পর্যন্ত বর্ডার খোলা থাকে । তবে অবশ্যই চেষ্টা করবেন ৪টার মধ্যে চলে আসতে । নাহলে আবার পাড় হতে একটু সময় লাগতে পারে । শপিং করার ইচ্ছা থাকলে শেষের দিনগুলো শিলং থাকাই ভালো । সেক্ষেত্রে প্রথমে চেরাপুঞ্জি যাওয়াটাই উচিত বলে আমার মনে হয়েছে । তাহলে শেষদিন শপিং (Remember that, Sunday is their official holiday) এর জিনিস নিয়ে দেশে সুন্দর করেই ফিরে আসতে পারবেন ।

একনজরে আমাদের মেঘালয় (শিলং; চেরাপুঞ্জি) ভ্রমণঃ
১ম দিনঃ
ডাউকি থেকে Snongpdeng, Borhill Water Falls, Borhill Falls, Mawlynnong Clean Village, Nohwet Living Root Bridge, Bangladesh View Point, Mawkhong View Point হয়ে চেরাপুঞ্জি ।
২য় দিনঃ
Seven Sister Falls, Mawsmai Cave, Mawsmai Nongthymmai Eco Park, Wei Sawdong, Dainthlen Falls হয়ে শিলং।
৩য় দিনঃ
Umiam Lake, Don Vosco Museum, Cathedral, Exploring Bara Bazar, Police Bazar etc.
৪র্থ দিনঃ
Laban Glass Masjid (মদিনা মসজিদ), Laitlum Grand Canyon হয়ে ডাওকি হয়ে বাংলাদেশ ।

ভ্রমণ খরচঃ আমরা যাত্রি ছিলাম ৩ জন । সিলেট থেকে রওনা দিয়ে আবার সিলেট আশা পর্যন্ত জনপ্রতি মোট খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা । গাড়ির ভাড়া আর হোটেল ভাড়া একটু বেশি নিয়েছে বলে মনে হয়েছে । অবশ্য তিন দিনের ছুটিতে যাওয়াটাও খরচ বেশি হওয়ার আরেকটি কারণ । তাছাড়া আমরা যেখানে যাওয়ার আমাদের ইচ্ছামতো গিয়েছি, যা ইচ্ছা তা খেয়েছি, ইকোনোমিক ট্রিপের মধ্যেও আমরা একটু আলিশান ভাবেই ঘুরেছি ।

বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলঃ
১। চেরাপুঞ্জিতে Double Decker Living Root Bridge যা ঘুরতে প্রায় সারাদিন লেগে যায়, প্রায় ৩৩০০ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে হয় । এরপর উপরে উঠে ফিরে আসার কথাটা একটু ভাবুন !!
২। Krang Shuri Waterfall যা ডাওকি থেকে গেলেই সবচেয়ে কাছে, তাও প্রায় ৩০ কিমি । আর শিলং থেকে ৯৫ কিমি । শীতকাল বলেই যাইনি, পানি কম থাকবে, সময়ও অনেক নষ্ট হবে । তবে বর্ষাকালে গেলে অবশ্যই যাবেন ।

বাদ পড়া আরও কিছু যায়গা আছে যা আপনারা ঘুরে দেখতে পারেন যদি বেশি সময়ের জন্য যাওয়ার প্লান থাকে । যেমনঃ শিলং এ Golf Links, Wards Lake, Lady Hadari Park, Wankhar Entomology Museum, Elephant Falls আর চেরাপুঞ্জিতে Thangkharang Park, Motrop, Kynrem Falls, Sweet Falls, Arwah Cave ইত্যাদি।

লেখকঃ ইমাদ আশরাফ

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।