দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের নাম কক্সবাজার (Cox’s Bazar)। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের জন্য কক্সবাজার জেলার সুনাম ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী। এছাড়াও কক্সবাজারের রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং বেশকিছু আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। আর একারণে কক্সবাজারকে ‘পর্যটন নগরী’ হিসাবে অভিহিত করা হয়। সেন্টমার্টিন, রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, দরিয়ানগর, সুগন্ধা বীচ, লাবনী পয়েন্ট, কলাতলী বীচ, ইনানী বীচ, হিমছড়ি, মেরিন রোড, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালি, সোনাদিয়া দ্বীপ, আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক ইত্যাদি কক্সবাজারের সর্বাধিক দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান।

অবকাশ যাপন কিংবা প্রয়োজন, নানাবিধ কারণে আমাদের কক্সবাজার যাওয়ার দরকার হয়। আর ঢাকা থেকে কক্সবাজার সহজে কেমন করে যাবেন এবং কি কি উপায়ে যেতে পারবেন ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে আমাদের আজকের এই আয়োজন।

ঢাকা থেকে কিভাবে কক্সবাজার যাবেন?

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন এবং বিমান এই তিন উপায়ে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

ঢাকা থেকে বাসে কক্সবাজার

বাস হচ্ছে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার সবচাইতে জনপ্রিয় বাহন। রাজধানী ঢাকার সায়দাবাদ, গাবতলী এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল সহ বেশকিছু জায়গা হতে ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে বিভিন্ন পরিবহণের এসি, নন-এসি বাস চলাচল করে। বাসে চড়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৪১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে।

বাসের ধরণভাড়া
নন এসি বাস৭৫০-৯০০ টাকা
এসি বাস১০০০ – ২৫০০ টাকা

এসি, নন-এসি বাসের মধ্যে আছে দেশ ট্রাভেলস (01705- 430566), তুবা লাইন (01876-005687), সোহাগ পরিবহণ (01926-699367), গ্রীন লাইন (0447-8660011), এনা (01760-737650), ইউনিক (01963-622236), শ্যামলী পরিবহন (02-7541336, 02-7541336), ইয়ার ৭১ (01917-078807), টি আর ট্রভেলস (02-8031189), ঈগল পরিবহন (01793-328045), হানিফ (01713-402673), ইকোনো (01992-017915), রয়েল কোচ (01872-723236), সেইন্টমার্টিন পরিবহন (01762-691341) এবং এস আলাম সার্ভিস (02-9002702)।

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার

ঢাকা থেকে রাত ১০ঃ৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস সকাল ৭ টা ২০ মিনিটে কক্সবাজারে পৌঁছাবে। পর্যটক এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ভোর ৬ টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে বিকাল ৩ টায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে। ফিরতি পথেও চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করবে। এই ২ স্টেশনে বিরতি ছাড়া বাকি সময় ট্রেনটি বিরতিহীন চলাচল করবে। কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি মঙ্গলবার ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার।

ট্রেনের নামপ্রারম্ভিক স্টেশনযাত্রা শুরুগন্তব্যযাত্রা শেষ
কক্সবাজার এক্সপ্রেসঢাকারাত ১০ঃ৩০কক্সবাজারসকাল ৭ঃ২০
কক্সবাজারদুপুর ১২ঃ৩০ঢাকারাত ৯ঃ৩০
পর্যটক এক্সপ্রেসঢাকাভোর ৬ঃ১৫কক্সবাজারবিকাল ৩ঃ০০
কক্সবাজাররাত ৮ঃ০০ঢাকাশেষ রাত ৪ঃ৩০

কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের মূল্য

ট্রেন রুটশোভন চেয়ারস্নিগ্ধা
ঢাকা থেকে কক্সবাজার৬৯৫ টাকা১,৩২৫ টাকা
কক্সবাজার থেকে ঢাকা৬৯৫ টাকা১,৩২৫ টাকা

ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজার

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স সরাসরি ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে সপ্তাহে ৫৫ টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। বিমানে চড়ে কক্সবাজার পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা সময় লাগে। আবার আকাশপথে ঢাকা হতে চট্রগ্রাম এসে সড়ক পথে বাসে কক্সবাজার যেতে পারবেন। তবে বলে রাখা ভাল, অন্য সকল ফ্লাইটের মত ঢাকা-কক্সবাজার ফ্লাইটও কতৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান টিকেটের মূল্য
বিমান সংস্থা সর্বনিন্ম ভাড়াসর্বোচ্চ ভাড়া
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা ১১,০০০ টাকা
নভোএয়ার ৩,৯০০ টাকা ৯,০০০ টাকা
ইউ এস বাংলা এয়ারলাইন্স ৪,২০০ টাকা ১০,৫০০ টাকা

এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ বিমানের সপ্তাহে ৫ টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়ে আসছে। চট্টগ্রাম থেকে প্লেনে চড়ে কক্সবাজার যেতে ২,১০০ থেকে ৩,৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে।

বিমান ভাড়া সব সময় ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। ভ্রমণ তারিখের নূন্যতম মাসখানেক আগে বিমানের টিকেট কাটলে সাধারণত ভাড়া কিছুটা কমে। আবার ভ্রমণের তারিখের খুব কাছাকাছি সময়ে টিকেট কাটলে অনেকক্ষেত্রে টিকেটের স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।

মনে রাখবেন, বাংলাদেশের আভ্যন্তরিন রুটে বিমান ভ্রমণ করতে পাসপোর্টের প্রয়োজন হয় না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে বহন করা বাঞ্ছনীয়।

প্রত্যেক ইকোনমি ক্লাসের যাত্রী ২০ কেজি পরিমাণ চেক কৃত এবং ৭ কেজি কেবিন লাগেজ হিসাবে মালামাল বহন করতে পারবেন। আর বিজনেস ক্লাসের যাত্রীগণ বহন করতে পারবেন ৩০ কেজি এবং ৭ কেজি মালামাল। নির্ধারিত পরিমাণের চাইতে বেশী মালামাল পরিবহন করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নিয়মানুসারে অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হবে। 

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার

ঢাকা থেকে ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশান হতে আন্তঃনগর সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী ট্রেনে যাত্রা করতে পারেন। তারপর চট্টগ্রাম শহরের নতুন ব্রিজ এলাকা অথবা দামপাড়া বাস্ট স্ট্যান্ড থেকে এস আলম, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি সহ কক্সবাজার যাওয়ার বিভিন্ন ধরণ ও মানের বাস পেয়ে যাবেন। বাস ভেদে ভাড়া ২৮০ থেকে ৫৫০ টাকা। আবার চট্টগ্রাম থেকে বিমানে কক্সবাজার যেতে পারবেন।

ঢাকা টু চট্টগ্রাম আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট মূল্য

ক্লাসভাড়া
শোভন২৮৫ টাকা
শোভন চেয়ার৩৪৫ টাকা
স্নিগ্ধা৬৫৬ টাকা
১ম শ্রেণীর চেয়ার৪৬০ টাকা
১ম শ্রেণীর বাথ৬৮৫ টাকা
এসি সিট৭৮৮ টাকা
এই বাথ১,১৭৯ টাকা

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য জানতে যোগাযোগ
কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন
ফোন: ০২-৯৩৫৮৬৩৪, ৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২
মোবাইল: ০১৭১১-৬৯১৬১২

বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন
ফোন: ০২-৮৯২৪২৩৯
ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd

ফিচার ইমেজ : Zakir Hossain

ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।