১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় নতুন একটি রাষ্ট্র। বিশ্ব মানচিত্রে যুক্ত হয় বাংলাদেশের নাম। টানা ৯ মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে বাংলাদেশকে দিতে হয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার দ্বারা এদেশের মানুষের সাথে ঘটে যাওয়া বর্বরতা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার অন্যতম উদাহারণ। আর বাংলাদেশ শহীদের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিখাদ দেশপ্রেমের চূড়ান্ত ফসল।

অপূরণীয় ত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা। দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ছুটির অবসরে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান থেকে। এসব দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের মাধ্যমে চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি নিজ দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক জানা অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত কিছু দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জেনে নেই।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ঢাকা

জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার
জাতীয় স্মৃতিসৌধ

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের স্মৃতির স্মরণে জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে। প্রায় ৪৪ হেক্টর জায়গা নিয়ে সাভার উপজেলায় স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়েছে। স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেনের নকশায় ১৯৮২ সালের শেষের দিকে স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূলকাঠামো সাত জোড়া ত্রিভূজাকৃতির দেয়াল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া স্তম্ভ বা দেয়াল ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, শাসনতন্ত্র আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে নির্দেশ করে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশের জন্য কোনরকম অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের জন্য প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ খোলা থাকে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, ঢাকা

শহীদ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ, রায়েরবাজার

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের রাতে ধরে নিয়ে রায়েরবাজার ইটখোলার কাছে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। ১৮ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে স্থপতি ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ ও জামি-আল-শফির নকশায় বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধের নির্মাণ শুরু হয়। শহীদ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ নির্মাণে লাল ইট ব্যবহার করা হয়। স্মৃতিসৌধের সামনের দিকে রয়েছে বট ও কৃষ্ণচূড়া গাছ। আর পেছন দিকে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা নদী। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহীদ বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ঢাকা

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, আগারগাও
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর; ছবি: Wikipedia

১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্ভোধন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রবেশের শুরুতেই ‘শিখা অম্লান’ চোখে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বিভিন্ন গ্যালারীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে উপস্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বেশকিছু দুর্লভ ছবি, মুক্তিযোদ্ধাদের জামা-কাপড়, অস্ত্র, বিভিন্ন বধ্যভূমি থেকে উদ্ধারকৃত মাথার খুলি এবং হাড়। এছাড়াও যাদুঘরে রয়েছে একটি স্যুভেনিয়র শপ, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত বই, গানের সিডি এবং ভিডিও দর্শনার্থীদের কাছে বিক্রি করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর রবিবার বাদে সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীর জন্য খোলা থাকে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ২০ টাকা।

স্বাধীনতা জাদুঘর, ঢাকা

স্বাধীনতা জাদুঘর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
স্বাধীনতা জাদুঘর; ছবি: Wikipedia

স্বাধীনতা জাদুঘর বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ভূগর্ভস্থ জাদুঘর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের সাক্ষী ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৯৯৮ সালে স্বাধীনতা জাদুঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর ২০১৬ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। ৫৬৬৯ বর্গমিটারের জাদুঘরের মাঝখানে একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও জাদুঘর কমপ্লেক্সে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ নথি, অ্যাম্ফিথিয়েটার, স্বাধীনতা স্তম্ভ, জলাধার, শিখা চিরন্তন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ম্যুরাল এবং অডিটোরিয়াম।

জল্লাদখানা বধ্যভূমি, ঢাকা

জল্লাদখানা বধ্যভূমি, মিরপুর
ছবি: Culture Bangladesh

জল্লাদখানা বধ্যভূমি বা পাম্পহাউজ বধ্যভূমি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বধ্যভূমিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর সেক্টরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করে গণকবর দেয়। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিতকরণ ও সংস্কারের উদ্দেশ্যে প্রকল্প গ্রহণ করে। ১৯৯৯ সালের ১৫ই নভেম্বর মিরপুরের দুটি জায়গা খনন করে বধ্যভূমি আবিষ্কার করে। জল্লাদখানা বধ্যভূমি থেকে ৭০টি মাথার খুলি, ৫৩৯২টি হাড়, শাড়ি, ফ্রক, ওড়না, অলংকার, জুতা, তসবি ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জল্লাদখানা বধ্যভূমি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর, ঢাকা

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর, ঢাকা
ছবি: Wikipedia

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর রাজধানী ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত। বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ট্যাঙ্ক পিটি-৭৬, অস্ত্র, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়কার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গার দলিল, সামরিক বাহিনীর ব্যাজ, অস্ত্র, পোশাক এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দলিলের প্রতিলিপি রয়েছে। বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে প্রবেশের জন্য কোন প্রকার অর্থ প্রদান করতে হয় না। বুধবার এবং শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ৫ দিন জাদুঘরটি সকাল ১০.৩০ থেকে বিকাল ৬.৩০ পর্যন্ত খোলা থাকে।

জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর, ঢাকা

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর
ছবি: Samakal

তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের ঘটনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য এলিফেন্ট রোডে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। জাহানারা ইমামের সাহিত্যকর্ম, পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের ছবি, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার পোষ্টার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, জাহানারা ইমামের ব্যবহৃত জিনিসপত্র জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘরটি শুধুমাত্র সপ্তাহের প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা

জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ
জাতীয় জাদুঘর

১৯১৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একটি রুমে ঢাকা জাদুঘর নামে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের তৃতীয় তলায় মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারিতে যুদ্ধ-পূর্ব ও যুদ্ধ সময়ের বিভিন্ন স্মারক, সেক্টর কমান্ডারদের ছবি, গণহত্যার ছবি, তাজউদ্দীনের ভাষণ, পোস্টার, মুক্তিযোদ্ধাদের জিনিসপত্র, খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা, বুদ্ধিজীবী ও বীরশ্রেষ্ঠ ডাকটিকিট সংরক্ষণ করা রয়েছে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে জাতীয় জাদুঘর সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত অর্থাৎ শীতকালে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকাল ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘর খোলা থাকে।

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স, মেহেরপুর

মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স , মেহেরপুর
মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স

মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অবস্থিত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার যেখানে গঠিত হয় সেখানে এই স্মৃতিসৌধটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্মৃতি কমপ্লেক্সের আঙিনায় একটি বড় মানচিত্রের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ১১ টি সেক্টরকে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও আছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর স্মারক ম্যূরাল, স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স, ঐতিহাসিক আম্রকানন এবং ঐতিহাসিক ছয় দফার রূপক উপস্থাপনকারী গোলাপ বাগান। মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের বাইরের অংশে ভাস্কর্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য।  মেহেরপুর জেলা সদর থেকে বাস, স্থানীয় যানবাহনের (টেম্পু/নছিমন/করিমন) মাধ্যমে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগে।

রক্তধারা স্মৃতিস্তম্ভ, চাঁদপুর

রক্তধারা, চাঁদপুর
ছবি: ট্রাভেল বাংলাদেশ

চাঁদপুরের বড় স্টেশন সংলগ্ন পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থল মোলহেডে বধ্যভূমিতে তৈরী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘রক্তধারা’ স্মৃতিস্তম্ভ। ২০১১ সালে মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে রক্তধারা নির্মাণ করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এখানে কয়েকটি টর্চার সেল নির্মাণ করে। সারা দেশ থেকে ট্রেন, লঞ্চ, স্টিমারযোগে যারা চাঁদপুর আসতো তাদেরকে এখানে নির্যাতন করা হতো। নির্যাতন শেষে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হত।

সাত শহীদের মাজার, নেত্রকোণা

সাত শহীদের মাজার, নেত্রকোণা
সাত শহীদের মাজার

নেত্রকোণা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফুলবাড়ি শান্ত এক গ্রাম। গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে গারো পাহাড়ের ভিতর দিয়ে বয়ে আসা গনেশ্বরী নদী। শীতের শেষে এক ভর দুপুরে দুই বন্ধু মিলে হাজির হয়েছিলাম সেই গ্রামের ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে ১১৭২ নম্বর পিলারের কাছে। চারপাশে অগনিত মেহগনি গাছের সারি, শীতে পাতা গুলো ঝরে যেন সুন্দর এক পাতার গালিচা বানিয়ে রেখেছে, পাশেই গনেশ্বরী নদী। নির্জন সেই জায়গায় সমাহিত আছেন ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। এই জায়গা সাত শহীদের মাজার নামে পরিচিত।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ সমাধি সৌধ, রাঙ্গামাটি

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সমাধি সৌধ, রাঙ্গামাটি
ছবি: Chttoday

রাঙ্গামাটিতে কাপ্তাই লেকের ছোট্ট দ্বীপে শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সমাধি সৌধ। দেশপ্রেমিক এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা ভ্রমণকারীরা রাঙ্গামাটি ঘুরতে এলে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফের সমাধি সৌধ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করেন না। রাঙ্গামাটি থেকে নানিয়ারচরের বুড়িঘাটের এই সমাধিস্থলে যেতে ১ ঘন্টা সময় লাগে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সমাধি, ঢাকা

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের সমাধি
ছবি: Ranadipam Basu

১৯৭১ সালের অক্টোবরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সিলেটের শ্রীমঙ্গল এলাকায় যুদ্ধ করছিলেন। যুদ্ধরত অবস্থায় শত্রুদের পাল্টা আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই বীর সন্তান। সহযোদ্ধারা হামিদুর রহমানের মৃতদেহ ভারতের আমবাসা গ্রামের একটি মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ২০০৫ সালে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আমবাসা গ্রাম থেকে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে এনে ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি, ঢাকা

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সমাধি
ছবি: Ranadipam Basu

মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্থানের করাচি থেকে বিমান ছিনতাই করে আসার সময় ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। সেসময় পাকিস্তান সরকার করাচির মাসরুর বিমান ঘাটির চতুর্থ শ্রেণীর কবরস্থানে মতিউর রহমানকে দাফন করে। ২০০৬ সালের ২৪ জুন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি
ছবি: রায়হান রানা

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দরুইন বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের সমাধি গ্রামের স্থানীয় মানুষজন পরম যত্নে সংরক্ষণ করে চলেছেন। যেখানে যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছিলেন সেখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। সাহসী সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের বীরত্বে ২০ জনের অধিক সহযোদ্ধা প্রাণে বেচেঁ যান। এই অসীম সাহসিকতার জন্য লাভ করেন ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি, খুলনা

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি খুলনা
ছবি: শেখ জাহিদুল ইসলাম

খুলনা জেলার রূপসা নদীর পূর্বপাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন জাতির সাহসী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি যুদ্ধে শত্রুপক্ষের হামলায় শহীদ হন তিনি। প্রতিবছর রুহুল আমিনের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও সশস্ত্রবাহিনী দিবসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজনের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি স্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন।

বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সমাধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গনে শায়িত আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর। বরিশালের রহমতগঞ্জ গ্রামে জন্মগ্রহন করা বাংলার এই বীর সন্তান ১৯৭১ সালে মহানন্দা নদীর কাছে শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করাকালীন সময়ে শত্রুর বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। ঢাকা সেনানিবাসের প্রধান ফটক জাহাঙ্গীর গেইটের নামকরণ করা হয়েছে এই বীরশ্রেষ্ঠের সম্মানে।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার, যশোর

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার যশোর
ছবি: তানভীরুল ইসলাম

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে স্ট্যান্ডিং পেট্রোল চলাকালে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আচমকা পাকিস্থানী বাহিনীর আক্রমণে প্রাণ হারান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ। সহযোদ্ধাদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করেন এই জাতীয় বীর। যশোর জেলার শার্শা উপজেলাস্থ ডিহি ইউনিয়নের রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের মাজার।

দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে আছে এমন অনেক স্থান যা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে চলছে। ধীরে ধীরে আরও স্থান ও স্মৃতিময় স্থাপনা গুলো তুলে ধরবে ভ্রমণ গাইড।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।