কর্মব্যস্ত সপ্তাহ শেষে কিংবা হুটহাট একদিনের ছুটিতে অনেকেই পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঢাকা বা ঢাকার কাছে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় এমন দর্শনীয় স্থানে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের এই ধরনের ভ্রমণ একদিকে যেমন চিত্তবিনোদনের চাহিদা মেটায় অন্যদিকে কর্মময় জীবনে নতুন করে কাজের উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে। ভ্রমণ গাইডের আজকের আয়োজনে চলুন দেখে নেই রাজধানী ঢাকা থেকে একদিনে ঘুরে আসা যায় এমন কিছু চমৎকার দর্শনীয় স্থান।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, ছবিঃ তপু

মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ির জমিদার বাড়ির কেন্দ্রীয় ব্লকে জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে। বালিয়াটি প্যালেস নামেও পরিচিত এই জমিদার বাড়ির কক্ষ সংখ্যা ২০০ টি এবং প্রতিটি কক্ষেই সুনিপুণ কারুকাজ লক্ষ্য করা যায়। চুন-সুরকি, লোহার পাত আর কাদামাটিতে নির্মিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ী তৎকালীন জমিদারদের অভিজাত্যকেই ফুটিয়ে তোলে। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি যেতে চাইলে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে সাটুরিয়া হয়ে যাওয়া যায়। এছাড়া গাবতলী থেকে সাটুরিয়াগামী এস বি লিংক পরিবহণে চড়ে বাসের সুপারভাইজারকে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির কথা বললে জায়গামত নামিয়ে দিবে। আরও ভ্রমণ বিস্তারিত পড়ুন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইডে।

মহেরা জমিদার বাড়ি

মহেরা জমিদার বাড়ি
মহেরা জমিদার বাড়ি, ছবিঃ পংকজ সরকার

টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে আট একর জায়গা জুড়ে মহেরা জমিদার বাড়ি বিস্তৃত। প্রাচীন সভ্যতা ও ঐতিহ্যের নিদর্শন মহেড়া জমিদার বাড়ির সাথেই মিনি পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পট ও বোট রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী ঢাকার বেশ কাছে হওয়ায় সকালে রওনা দিলে এক দিনেই জমিদার বাড়ি থেকে ঘুরে আসা যায়। ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিনিময়, ঝটিকা, ধলেশ্বরী ইত্যাদি বাস টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ১২০ থেকে ১৬০ টাকা ভাড়ায় পছন্দমত বাসে চড়ে নাটিয়াপাড়া বাস ষ্ট্যান্ড এসে সিএনজি, রিকশা বা বেবী টেক্সী যোগে মহেরাপাড়া পুলিশ প্রশিক্ষন কেন্দ্রে আসতে হবে। মহেরা জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন মহেরা জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড।

নুহাশপল্লী

নুহাশপল্লী গাজীপুর
নুহাশপল্লী

প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদের ভালবাসায় লালিত নুহাশ পল্লী নন্দন কাননটি গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত। নুহাশ পল্লীর বর্তমান আয়তন প্রায় ৪০ বিঘা। ১৯৮৭ সালে ২২ বিঘা জমিতে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন শুরু করেন। বিভিন্ন নাটক, সিনেমার শুটিং এর পাশাপাশি নুহাশ পল্লীতেই হুমায়ূন আহমেদ তার জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় একদিনে নুহাশ পল্লী হতে ঘুরে আসা যায়। ঢাকা থেকে প্রভাতি, বনশ্রী ইত্যাদি বেশ কিছু বাস সার্ভিস হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড হয়ে যাত্রা করে। বাসে চড়ার স্থানভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা ভাড়া লাগে। হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা সিএনজিতে করে নুহাশ পল্লী যাওয়া যায়। রিকশা ভাড়া লাগবে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং সিএনজি ভাড়া লাগবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। আরও ভ্রমণ বিস্তারিত জানতে পড়ুন নুহাশ পল্লী ভ্রমণ গাইড।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক
সাফারি পার্ক

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক প্রায় ৩,৬৯০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। থাইল্যান্ডের সাফারী ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে তৈরি সাফারী পার্কটি ২০১৩ সালে চালু করা হয়। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কোর সাফারিতে বনের উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, জেব্রা, হরিণের দর্শন যেন জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতার সঞ্চয়। ঢাকার মহাখালী থেকে শ্রীপুর, ভালুকা কিংবা ময়মনসিংহগামী বাসে গাজীপুর চৌরাস্তা অতিক্রম করে আরো কিছুটা সামনে গেলে বাঘের বাজারে সাফারি পার্কের বিশাল সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়। বাঘের বাজার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক যেতে ২০-৪০ টাকা রিকশা/অটোরিকশা ভাড়া লাগে। সাফারি পার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন আমাদের সাফারি পার্ক ভ্রমণ গাইডে।

জল ও জঙ্গলের কাব্য

জল ও জঙ্গলের কাব্য
জল ও জঙ্গলের কাব্য

পাইলট বাড়ি খ্যাত জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টটি গাজীপুর জেলাস্থ টংগীর পুবাইলে ৯০ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকৃতিকে অবিকৃত রেখে বাঁশ আর পাটখড়ি দিয়ে সুনিপুণ ডিজাইনারের মাধ্যমে জল ও জঙ্গলের কাব্যকে সাজানো হয়েছে। বিলের উপর অপার্থিব জোছনা দেখতে চাইলে জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্ট থেকে ঘুরে আসতে পারেন। রাজধানী ঢাকার কাছে অল্প সময় ও স্বল্প খরচে সারাদিন কাটানোর জন্য জল ও জঙ্গলের কাব্য একটি চমৎকার স্থান। জল জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে যেতে চাইলে ঢাকার মহাখালি বাসস্ট্যান্ড থেকে নরসিংদী অথবা কালিগঞ্জগামী বাসে মাত্র ৪০ টাকা ভাড়ায় পুবাইল কলেজ গেট আসতে হবে। পুবাইল কলেজ গেট থেকে রিক্সা যোগে পাইলট বাড়ি বা জল ও জঙ্গলের কাব্য রিসোর্টে পৌঁছাতে পারবেন। আরও বিস্তারিত জানুন জল ও জঙ্গলের কাব্য ভ্রমণ পেইজ থেকে।

পানাম নগর

পানাম নগর নায়ারায়নগঞ্জ
পানাম নগর, ছবিঃ আজিম খান রুনি

ঢাকার পার্শবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ঐতিহাসিক পানাম নগর গড়ে উঠে। পানাম নগর বা পানাম সিটি বাংলাদেশীদের কাছে “হারানো নগরী” হিসাবে সুপরিচিত। ১৫ শতকে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০ টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় পানাম নগর স্থান পায়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ কিংবা বোরাকের এসি বাসে করে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে। গুলিস্তান থেকে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত আসতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা ভাড়া লাগে। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা থেকে ব্যাটারী চালিত অটোতে কিংবা রিকশায় করে ১০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়ায় পানাম নগরীতে যেতে পারবেন। আমাদের পানাম নগর ভ্রমণ গাইড থেকে আরও বিস্তারিত জানতে পারবেন।

পদ্মা রিসোর্ট

পদ্মা রিসোর্ট মুন্সিগঞ্জ
পদ্মা রিসোর্ট

ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নয়নাভিরাম পদ্মা রিসোর্ট। সাপ্তাহিক ছুটির দিন কিংবা কোন বিশেষ দিনে ধরাবাঁধা রুটিনের বাইরে গ্রামীণ পরিবেশে একটি দিন কাটানো জন্য এই রিসোর্ট বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ঢাকার গুলিস্থান থেকে গাংচিল কিংবা ইলিশ পরিবহনের বাস দিয়ে লৌহজং যেতে পারবেন। জনপ্রতি ৭০ টাকা ভাড়া লাগতে পারে। আর যদি আপনি মিরপুর ১০, ফার্মগেট অথবা শাহবাগ থেকে যেতে চান তবে স্বাধীন পরিবহনের বাস আপনাকে লৌহজং পৌছে দেবে। পদ্মা রিসোর্টের বিস্তারিত পড়ুন এই লিংক থেকেঃ পদ্মা রিসোর্ট ভ্রমণ গাইড

জিন্দা পার্ক

জিন্দা পার্ক
জিন্দা পার্ক

নারায়ণগঞ্জ জেলার দাউদপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত জিন্দা পার্কে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারের বেশী গাছ, ৫ টি জলাধার এবং অসংখ্য পাখি রয়েছে। আর পার্কের ভেতরে আছে মার্কেট, লাইব্রেরী, ক্যান্টিন ও চিড়িয়াখানা। এছাড়া নৌবিহারের জন্য পার্কের লেকে আছে ৮ টি সুসজ্জিত নৌকা। ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড এসে ৩০০ ফিট রাস্তার প্রান্ত থেকে লোকাল সিএনজি বা লেগুনা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত আসুন। কাঞ্চন ব্রিজের আগে বাইপাসের মোড় হতে লোকাল অটোতে জিন্দা পার্ক যাওয়া যায়। এছাড়া চাইলে কুড়িল ৩০০ ফিট রাস্তা থেকে সিএনজি বা অটোরিক্সা রিজার্ভ নিয়ে সরাসরি জিন্দা পার্ক যেতে পারবেন। আরও বিস্তারিত পড়ুন জিন্দা পার্ক ভ্রমণ গাইডে।

ড্রিম হলিডে পার্ক

ড্রিম হলিডে পার্ক
ড্রিম হলিডে পার্ক

নরসিংদী জেলার পাঁচদোনার চৈতাবাতে প্রায় ৬০ একর জমির ওপর ড্রিম হলিডে পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ড্রিম হলিডে পার্কে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইডের মধ্যে রয়েছে ওয়াটার বাম্পার কার, রাইডার ট্রেন, বাইসাইকেল, রকিং বর্স, স্পিডবোট, সোয়ানবোট, জেড ফাইটার, নাগেট ক্যাসেল, এয়ার বাইসাইকেল। আরো আছে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়্যারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ, কৃত্রিম পর্বত এবং ওয়াটার পুল। বনানী হতে পিপিএল সুপার এবং গুলিস্থান হতে মেঘালয় লাক্সারি বাসে ড্রিম হলিডে পার্কের প্রধান ফটকের সামনে নামতে পারবেন। আরও বিস্তারিত পড়ুন ড্রিম হলিডে পার্ক ভ্রমণ গাইডে।

শালবন বৌদ্ধ বিহার

শালবন বৌদ্ধ বিহার
শালবন বৌদ্ধ বিহার

কুমিল্লা জেলার কোটবাড়িতে অবস্থিত শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম। তৎকালীন সময় এই অঞ্চলে শাল ও গজারির বন ছিল বলে বিহারটি শালবন বিহার নামে পরিচিতি লাভ করে। শালবন বিহারটি অনেকটা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো তবে আকারের দিক দিয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে কিছুটা ছোট। ঢাকার বিভিন্ন স্থান হতে কুমিল্লাগামী অসংখ্য বাস সার্ভিস রয়েছে। কুমিল্লা নেমে প্রথমে আপনাকে টমছম ব্রীজ বাস স্ট্যান্ড আসতে হবে। টমছম ব্রীজ বাস স্ট্যান্ডের পাশেই কোটবাড়ি যাওয়ার সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে। কোটবাড়ি থেকে অটোরিকশায় চড়ে সহজেই শালবন বিহার দেখতে যেতে পারবেন। আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন শালবন বৌদ্ধ বিহার ভ্রমণ গাইড।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।