বাজার থেকে টাটকা ইলিশ কিনে আনা কিংবা ইলিশের স্বাদে বুঁদ হওয়ার জন্য ঢাকা থেকে ডে লং ট্যুর হিসাবে চাঁদপুর ভ্রমণ বেশ জনপ্রিয়। ঢাকা থেকে লঞ্চে করে চাঁদপুর যেতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় লাগে। তাই খুব সকালে রওনা হয়ে চাঁদপুর গিয়ে রাতে ঢাকা ফিরে আসতে পারবেন। তবে সবচেয়ে ভাল হয় রাত ১২ টার দিকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে লঞ্চে যাত্রা করে সারা দিন ঘুরে আবার রাত ১২ টার লঞ্চে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ফিরে আসা। এক্ষেত্রে দুই রাত লঞ্চে থাকার কারণে আপনাকে হোটেলে রাত্রি যাপন করতে হবে না। আর যদি আপনার ভ্রমণ হয় কোন জ্যোৎস্না রাতে তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

চাঁদপুর যা দেখবেন

চাঁদপুর আসবেন আর সদরের বড়স্টেশন মোলহেড নদীর মোহনায় আসবেন না এমন হতেই পারেন না। তিন নদীর মোহনায় কাটানো সময়গুলো আপনার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে নিশ্চিত ভাবেই। আরো দেখতে পারেন মিনি কক্সবাজার, চাঁদপুর জেলার ঐতিহ্যের প্রতীক ইলিশ চত্বর, অঙ্গীকার ভাষ্কর্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, রূপসা জমিদার বাড়ি ইত্যাদি। আর চাঁদপুরের সৌন্দর্য্য ইলিশের মোকাম বা বাজারটি বড় স্টেশনের কাছেই তাই বিকেলের সময়টা নদী মোহনায় কাটিয়ে সন্ধায় চলে যেতে পারেন ইলিশ বাজারে। পছন্দমত রূপালি ইলিশ কিনে সাথে নিয়ে আসার জন্যও আছে সুব্যবস্থা এখানে।

আর ইলিশ খেতে চাইলে চাঁদপুর বড় ষ্টেশন থেকে ট্রলার অথবা নৌকায় করে রাজরাজেশ্বর চর চলে আসুন। চাঁদপুর বড় ষ্টেশন হতে এই চরের আসতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। পদ্মা, মেঘনা নদী আর ডাকাতিয়া নদীর মোহনা কোড়ালিয়ার মুখে মিলছে যা এই চর থেকে দেখতে পারবেন। রাজরাজেশ্বর চরের ঘাট থেকে অল্প দূরে অবস্থিত মনু মিয়ার হোটেলে ইলিশ ভাজা, ইলিশ মাছের ডিম কিংবা ইলিশের তরকারি খেতে পারবেন।

এছাড়াও চাঁদপুর বড় ষ্টেশনের ইলিশ বাজার থেকে পছন্দের ইলিশ কিনেও খাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দপুর বড় স্টেশন মোকামে বরিশাল, ভোলা এবং সামুদ্রিক ইলিশও পাওয়া যায়। আপনি যদি চাঁদপুরের ইলিশ চান তবে চকচকে রূপালি রং দেখে ইলিশ কিনবেন। সমুদ্রের ইলিশে রূপালি রঙের সাথে এক ধরনের লালচে আভা থাকে।

মিনি কক্সবাজার বা হাইমচর: আপনার হাতে সময় থাকলে ঘুরতে পারেন চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার খ্যাত হাইমচর থেকে। শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেছে হাইমচরের বিশাল এলাকা জেগে উঠে। বড় স্টেশনের কাছ থেকে ট্রলারে জনপ্রতি ৮০-১০০ টাকা ভাড়ায় ঘুরে আসতে পারবেন এই চর থেকে।

রুপসা জমিদার বাড়ি : সময় অনুযায়ী ঘুরে আসতে পারেন চাঁদপুর সদর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা জমিদার বাড়ি থেকে। চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে বাসে করে চলে যান ফরিদগঞ্জ বাজারে, সেখান থেকে রূপসা বাজারের লোকাল সিএনজি পাবেন। অথবা চাঁদপুর থেকে রিসার্ভ সিএনজি নিয়ে ৪০০-৫০০ টাকা ভাড়ায় ঘুরে আসতে পারবেন। ফিরার পথে ফরিদগঞ্জ বাজারের বিখ্যাত আউয়াল সুইটসের মিস্টি খেয়ে দেখতে পারেন।

চাঁদপুর যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়া যায় বাসে, ট্রেনে ও লঞ্চে। তবে সবচেয়ে ভালো হবে লঞ্চে করে গেলে। এতে একদিনে ভ্রমণের মজাটা আরও বেড়ে যাবে। ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী লঞ্চের মধ্যে এমভি সোনারতরী, এমভি তাকওয়া, এমভি বোগদাদীয়া, এমভি মেঘনা রাণী, এমভি আল বোরাক, এমভি ঈগল, এমভি রফরফ, এমভি তুতুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে সকাল ৭টা থেকে এক বা হাফ ঘন্টা পরপর চাঁদপুর গামী লঞ্চ ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে চাঁদপুর যাওয়ার ভাড়া সাধারণত, ডেক ১০০ টাকা, চেয়ার ১৫০ টাকা, নন এসি সিংগেল কেবিন – ৫০০ টাকা, নন এসি ডাবল ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল এসি ১০০০ টাকা এবং এসি ডাবল ১৫০০ – ২০০০ টাকা। লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা।

ফিরে আসবেন যেভাবে

চাঁদপুর ঘুরে দেখা শেষ হলে আগের মত লঞ্চেই ফিরে আসুন। বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চাঁদপুর থেকে ঢাকায় ফিরে আসার লঞ্চ পাওয়া যায়। আপনার সুবিধামত সময়ের লঞ্চে করে ঢাকা ফিরে আসুন।

কোথায় থাকবেন

ইলিশ খাওয়া কিংবা এক দিনের ভ্রমণে ঢাকা হতে চাঁদপুর দিনে গিয়ে রাতের মধ্যে ফিরে আসা যায়। আর এই ডে লং ট্যুরই চাঁদপুর ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় তবুও পর্যটকদের রাত্রি যাপনের কথা বিবেচনা করে এখানে হোটেল তাজমহল, হোটেল শ্যামলী, হোটেল জোনাকী ছাড়াও বেশকিছু আবাসিক হোটেল আছে।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।