বিমান হচ্ছে অল্প সময়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ, আরামদায়ক এবং নিরাপদ বাহন। নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝে সময়কে আরও পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে অনেকে এখন বাস-ট্রেনের বিকল্প হিসাবে বিমানকে যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিচ্ছেন। ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান ভ্রমণের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেই সাথে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা। বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার এবং রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

বিমানবন্দর ছাড়াও অনলাইনে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে কিংবা মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিমানসংস্থা বা ট্রাভেল এজেন্টদের অফিসে না গিয়ে সকল এয়ারওয়েজের বিমান টিকিট কাটা যায়। অনলাইনে টিকিটের টাকা পরিশোধ হলে টিকিটের ভার্চ্যুয়াল অনুলিপি ইমেইলে চলে আসে। তারপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এয়ারপোর্টে সেই বিমান সংস্থার বুথে গেলেই বোর্ডিং পাস দেয়া হয়। এছাড়া কার্ড বা অন্য মাধ্যমে অনলাইনে বুকিংকৃত টিকেটের মূল্য পরিশোধ না করতে পারলে বুকিংয়ের পিএনআর নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে গিয়ে সেই বিমান সংস্থার বিক্রয় কেন্দ্রে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। আবার বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমেও বিমান টিকিট ক্রয় করা যায় তবে এক্ষেত্রে টিকেটের মূল্যের চাইতেও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হয়।

ভ্রমণ গাইডের আজকের আয়োজনে চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে অনলাইনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের (Biman Bangladesh Airlines) টিকেট কাটবেন।

বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অনলাইনে টিকেট কাটতে হলে প্রথমেই আপনাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল www.biman-airlines.com -এ প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে ঢুকলে বাঁপাশে লাল রঙে ‘বুক মাই ফ্লাইট’ লেখা দেখতে পারবেন। ‘বুক মাই ফ্লাইট’ লেখাটির নিচে রয়েছে রাউন্ড ট্রিপ (যাওয়া-আসা), ওয়ান ওয়ে (যাওয়া) এবং মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা)। এই অপশনগুলো হতে আপনার চাহিদা অনুযায়ী যেকোন একটিতে ক্লিক করে নিন। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যাত্রায় মাল্টি-সিটি অপশনের ব্যবহার নেই।

এরপর সবুজ কালিতে লেখা ‘ফ্রম টু’ এর পাশে ‘ডিপারচার সিটি’তে ক্লিক করে আপনার যাত্রার শহর চিহ্নিত করুন। আর ‘অ্যারাইভাল সিটি’ অপশনে গন্তব্যের তথ্য দিন। নিচে ‘ডিপার্টিং অন’ অপশনে আপনার যাত্রার তারিখ এবং ‘রিটার্নিং অন’-এ ফেরার তারিখ উল্লেখ করুন। অ্যাডাল্টস অপশনে ১২ বছরের বেশী বয়সী যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। আর সাথে ২ থেকে ১১ বছরের শিশু থাকলে নির্বাচন করতে হবে ‘চিলড্রেন’ অপশন এবং ২ বছরের নিচে শিশু থাকলে ‘ইনফ্যান্টস’-এ তথ্য দিন।

তারপর কেবিন ক্লাস অপশনে আপনার টিকেটের শ্রেণী নির্বাচন করুন অর্থাৎ আপনি কোন ক্লাসে ভ্রমণ করতে চান বিজনেস নাকি ইকোনমি ক্লাস। তবে অ্যানি কেবিন নির্বাচন করে সার্চ ফ্লাইটে ক্লিক করলে সব ধরনের আসনের বিস্তারিত তথ্য পাবেন। পরবর্তী পৃষ্ঠায় চাইলে রাউন্ড ট্রিপ, ওয়ান ওয়ে কিংবা মাল্টি-সিটি অপশনে দেয়া তথ্য, যাত্রী সংখ্যা ও কেবিন ক্লাস পরিবর্তন করতে পারবেন। সব তথ্য আবার দেখে নিশ্চিত হয়ে ইকোনমি স্পেশাল, সুপার সেভার, ইকোনমি সেভার, ইকোনমি ফেক্সিবল, বিজনেস সেভার, বিজনেস ফ্লেক্সিবল অপশন থেকে আপনার পছন্দের প্যাকেজ নির্বাচন করুন। তেমনি করে ফেরার টিকিট নিতে চাইলে তারিখ ও প্যাকেজ নির্বাচন করে কন্টিনিউতে ক্লিক করুন।

পরের পৃষ্ঠায় ট্রাভেল ইটিনারেরিতে ভ্রমণের দিন, টিকিটের মূল্য, ফ্লাইট নম্বর এবং শর্তাবলীর দেখতে পাবেন। সব ঠিক থাকলে ‘আই অ্যাগ্রি টু দ্য অ্যাবাভ টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’-এর পাশের ফাঁকা ঘরে ক্লিক করুন। নিচে টিকিটের মোট মূল্য আবারো দেখতে পারবেন। এরপরেও ফ্লাইট পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে বাঁ-দিকের চেঞ্জ ফ্লাইটে ক্লিক করুন। আর তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে ডান পাশের ‘কন্টিনিউতে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পৃষ্ঠায় যাত্রীর নামের প্রথম ও শেষ অংশ, জন্ম তারিখ, মোবাইল ফোন নম্বরে (বিকল্প নম্বর থাকলে সেটাও), ই-মেইল ঠিকানা অর্থাৎ পারসোনাল তথ্য দিতে হবে। ‘টাইটেল’-এ পুরুষ হলে মিস্টার, আর নারী হলে মিসেস অথবা মিস এর একটিতে ক্লিক করুন। কোন কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে আপনি যদি মোবাইল ফোন, ই-মেইলে কিংবা উভয় মাধ্যমে আপডেট পেতে চান তবে ‘নোটিফাই মি টু ফ্লাইট টাইম চেঞ্জেস ভায়া’ লেখার পাশের খালি ঘরে টিক চিহ্ন দিন। এরপর ডান পাশে ‘মেক রিজারভেশন’ লেখায় ক্লিক করুন। আপনার আসন রিজার্ভ হয়ে যাবেন।

রিজারভেশন হওয়ার পরের পৃষ্ঠায় বুকিং লেখার পাশে ইংরেজী বর্ণ ও নাম্বারের সহযোগে একটি পিএনআর নম্বর দেখবেন। এই পৃষ্ঠা আপনার জন্য গুরুত্ব পূর্ণ তাই প্রিন্ট করতে ‘প্রিন্ট রিজারভেশন’ লেখায় ক্লিক করুন। আর ই-মেইলে কপি রাখতে ‘সেন্ড ভায়া ই-মেইল’ এ ক্লিক করুন। যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করতে প্রয়োজন হলে মোডিফাই প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অপশনে ক্লিক করুন। নিজের আসন নিজে নির্বাচনের জন্য ‘সিটস অ্যান্ড সিলেকশনস’ অপশনটি ব্যবহার করুন। এছাড়া রিজারভেশন বাতিল করার জন্য ‘ক্যানসেল রিজারভেশন’ লেখা দেখতে পাবেন।

টিকিট কেনা সম্পন্ন করতে ‘কমপ্লিট পারচেস’-এ ক্লিক করুন। সেখানে টিকিটের পুরো মূল্য দেখতে পাবেন। এরপর পে বাই ক্রেডিট/ডেবিট/মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অপশনে ক্লিক করুন। পিএনআর নম্বর দিয়ে অপশনে আপনার সুবিধা মত কোন ধরনের কার্ডে টিকেটের অর্থ পরিশোধ করবেন সেটা নির্বাচন করুন। পরের পেইজে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডে টাকা পরিশোধের সকল শর্তাবলী দেখতে পাবেন। শর্তাবলীর সাথে একমত হলে তিনটি ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। তারপর কার্ড ব্যবহারকারীর নাম, কার্ডের ধরন, কার্ড নম্বর, মেয়াদের তারিখ, সিভিসি কোড ইত্যাদি তথ্য প্রদান করে সাবমিট করলেই পেমেন্ট হয়ে যাবে।

অনলাইনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট বুকিং দিয়ে কেনার জন্য মতিঝিল, বনানী ও আশকোনার বিক্রয় কেন্দ্রে যেতে হবে। ০১৭৭৭-৭১৫৬১৩-১৬ নম্বরে ফোন করেও টিকিট বুকিং এবং কেনতে পারবেন। তবে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে টিকেটের মূল্য পরিশোধ করতে চাইলে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে টাকা পাঠাতে হবে। যাত্রী তাদের টিকিটের কপি ই-মেইল, হোয়াটস-আপ অথবা ভাইবার নিতে পারবেন।

ফিচার ইমেজ: Aviation24

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।