পাহাড় ও সমুদ্রে ঘেরা চট্টগ্রাম এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশে বেশ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত আছে। এই সমুদ্র সৈকত গুলো শহর থেকে একদিনে গিয়েই ঘুরে আসা যায়।
পতেঙ্গা, পারকি, বাঁশবাড়িয়া, গুলিয়াখালী, আকিলপুর ও কাট্টলী – এই ছয়টি সৈকত শহর থেকে সহজে পৌঁছানো যায় এবং প্রতিটিই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, কোথাও ম্যানগ্রোভ বন, কাঠের সেতু, স্থানীয় খাবার ও শান্ত পরিবেশ সব মিলিয়ে এই সৈকতগুলো ভ্রমণকে স্মরণীয় করে রাখবে।
১। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত (Patenga Sea Beach)। এই সৈকতটি চট্টগ্রাম শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। এখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্যে অপেক্ষমান সারি সারি ছোট বড় জাহাজ এইখানের পরিবেশে ভিন্নতা নিয়ে আসে। পতেঙ্গায় রয়েছে স্পীড-বোটে চড়ে সমুদ্রে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সমুদ্র তীরে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে আছে সী বাইক ও ঘোড়া। কেনাকাটার জন্যে আছে বার্মিজ মার্কেট। খাওয়া দাওয়ার জন্যে আছে হরেক রকক মজাদার স্ট্রিট ফুড।

২। পারকি সমুদ্র সৈকত
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে আনোয়ারা উপজেলায় পারকি সমুদ্র সৈকত (Parki Sea Beach) অবস্থিত। এই সৈকতটি কর্ণফুলী নদীর মোহনার অপর পাশে অবস্থিত। এখানে নদী ও সমুদ্রের মিলনস্থল দেখতে পাওয়া যায়। সৈকতের চারপাশে ঝাউবন, সবুজ প্রান্তর এবং মাছের ঘের রয়েছে, যা এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য তৈরি করে। পর্যটকদের জন্য এখানে স্পিডবোট, সি-বাইক, ঘোড়ার সওয়ারি এবং পিকনিক স্পটসহ বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। পারকি সৈকতের সূর্যাস্ত অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর, যা দর্শকদের আকর্ষণ করে। পারকি সমুদ্র সৈকত পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একদিনের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত স্থান।

৩। বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত
সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত এই সৈকতটি চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা যেন সব প্রাকৃতিক রূপ নিয়ে বসে আছে। এখানে আছে পাহাড়, লেক, ঝর্ণা, সমুদ্র সৈকত, প্রাচীন স্থাপনা সহ নানা কিছু। বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত (Bashbaria Sea Beach) তেমনই পর্যকটকের জন্যে একটা আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ঝাউ গাছের সারি, খোলামেলা পরিবেশ, জেগে উঠা সবুজ ঘাসের চর, আছে পিকনিক স্পট, সব মিলিয়ে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত অপূর্ব সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষা করছে দর্শনার্থীদের জন্য।

৪। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত (Guliakhali Sea Beach) চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় মানুষের কাছে এই সৈকত ‘মুরাদপুর বীচ’ নামেও সুপরিচিত। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি সি বীচের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। অনিন্দ্য সুন্দর গুলিয়াখালি সী বিচ কে সাজাতে প্রকৃতি কোন কার্পন্য করেনি। একদিকে দিগন্তজোড়া সাগর জলরাশি আর অন্য দিকে কেওড়া বন এই সাগর সৈকতকে করেছে অনন্য।

৫। আকিলপুর সমুদ্র সৈকত
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সীতাকুন্ডে উপজেলায় আকিলপুর সমুদ্র সৈকত (Akilpur Sea Beach) অবস্থিত। এই সৈকতটি তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। সীতাকুন্ডের নিমতলা গ্রামের পাশে এই সৈকতের অবস্থান। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এখানে পানি উঠে যেত। বর্তমানে সরকার এখানে বাধ নির্মাণ করেছে ও সারিবদ্ধ গাছ লাগানো হয়েছে। ফলে সৌন্দর্যও এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন অনেক মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। পর্যটকদের জন্য এখানে শৌচাগার ও বিভিন্ন দোকানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৬। কাট্টলী সমুদ্র সৈকত
কাট্টলী সমুদ্র সৈকত (Kattali Sea Beach) চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে পাহাড়তলী থানার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পাশে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটিকে জেলেপাড়া সমুদ্র সৈকত বা জাইল্লাপাড়া নামেও ডাকা হয়। চট্টগ্রাম শহরের কাট্টলী এলাকায় অবস্থিত এই সৈকতটি শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় সহজেই পৌঁছানো যায়। এখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকরাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।

এই ছয়টি সমুদ্র সৈকতে শহর থেকে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় এবং প্রতিটিই সৈকতই নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে চট্টগ্রামের এই সমুদ্র সৈকত গুলো হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য।
ভ্রমণ সংক্রান্ত যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।
