২৫শে এপ্রিল উদ্বোধন হলো ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটের জন্যে নতুন বিরতিহীন ট্রেন বনলতা এক্সপ্রেস (Banalata Express)। ঢাকা-রাজশাহী রুটে তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করত। তার সাথে যোগ হলো ট্রেন নাম্বার ৭৯১-৭৯২ বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে এই ট্রেনটি শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিন গুলোতে ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন ভাবে চলাচল করবে। ঘন্টায় ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ৯০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার।

নতুন ট্রেন সার্ভিসে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা নতুন বগি যুক্ত করা হয়েছে। নতুন ব্যবহৃত ব্রডগেজ বগি সমূহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এর অর্থায়নে যুক্ত হয়েছে। তবে এর ইঞ্জিন ২০১৩ সালে ভারত থেকে আমদানি করা। ১২টি বগি নিয়ে দ্রুতগতির বিরতিহীন ট্রেনটি বিরতিহীনভাবে চলবে। এই ট্রেনের কারণে এখন থেকে ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের নিরাপদ আসা-যাওয়া সহজতর, দ্রুততর ও আরামদায়ক হবে।

বনলতা এক্সপ্রেসের সময়সূচী

বনলতা এক্সপ্রেস শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন চলবে ঢাকা রাজশাহী রুটে চলাচল করবে। ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে দুপুর ১.১৫ তে এবং রাজশাহী পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬ টায়। আবার ট্রেনটি রাজশাহী থেকে সকাল ৭ টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছাবে সকাল ১১.৪০ টায়।

আসন সংখ্যা ও টিকেট মূল্য

মোট ১২ টি কোচের এই ট্রেনের মোট আসন সংখ্যা ৯২৮। তারমধ্যে এসি চেয়ার ১৬০টি, শোভন চেয়ার ৬৪৪ টি, খাবার গাড়ীতে আসন ১০৮ টি এবং পাওয়ার কারে ১৬ টি। বনলতা ট্রেনের ভাড়া একই রুটে চলমান অন্যান্য ট্রেনের ভাড়ার তুলনায় নন-স্টপ সার্ভিস চার্জ হিসেবে ১০% বেশী কাটা হবে। শোভন চেয়ারের টিকেট ৩৭৫ টাকা ও এসি চেয়ারের টিকেট ৭২৫ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রথম নিজস্ব ক্যাটারিং সার্ভিস দ্বারা খাবার সরবরাহ করা হবে। ট্রেন চালুর শুরুতে টিকেটের সাথে ১৫০ টাকা দামের খাবার বাধ্যতামূলক থাকলেও বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে।

বনলতা ট্রেনের বিশেষ আকর্ষণ

  • কোচসমূহের অন্যতম নতুন বৈশিষ্ট্য হল বায়ো টয়লেট সংযোজন।
  • ট্রেনটিতে প্রতিবন্ধী যাত্রিদের হুইল চেয়ারসহ চলাচলের সুবিধার্থে থাকছে প্রশস্ত দরজা এবং নির্ধারিত আসনের সুবিধা।
  • আধুনিক ও মানসম্মত চেয়ার, বার্থ, স্টেয়ার, পার্সেল রেক, টিভি মনিটর হ্যাঙ্গার ও ওয়াই-ফাই রাউটার হ্যাঙ্গার।
  • প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে আধুনিক ও উন্নতমানের রুফ মাউন্টেড এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট এবং এয়ার কার্টেইন এর ব্যবস্থা রয়েছে।
  • জার্মানির তৈরী আধুনিক অটোমেটিক এয়ার ব্রেক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।
  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি লাইট ব্যবহার করা হয়েছে।
  • ট্রেনে রয়েছে অযুখানাসহ নামাজ ঘর।
  • সুইং ডোর এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে নিরাপদ স্লাইডিং ডোর।
  • মোবাইল চার্জার এর ব্যবস্থা রয়েছে।
  • প্রতিটি কোচ স্টেইনলেস স্টীলের তৈরী এবং অত্যাধুনিক যাত্রি সুবিধা স্বম্বলিত।
  • অনাকাঙ্খিত ট্রেন থামানো রোধে বিশেষভাবে ডিজাইনকৃত অ্যালার্ম চেইন পুলিং সিস্টেম।
  • খাবার গাড়ির অত্যাধুনিক ডাইনিং সুবিধাদি রয়েছে ।

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।