বালি ইন্দোনেশিয়ার একটা দ্বীপ। অত্যন্ত সুন্দর সেখানকার বিচ আর পানি। অন এরাইভাল ভিসা, কম খরচ আর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য ইদানিংকালে বালিতে টুরিস্টদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) মুসলিম দেশ হলেও একমাত্র বালিতে মুসলমান নেই বললেই চলে। আমাদের অতিথি লেখক শফিকুর রহমান বালি ঘুরে এসে জানাচ্ছেন তার অভিজ্ঞতার কথা। সেই সাথে এই ভ্রমণ গল্পে আছে বালি ভ্রমণের সকল দরকারি তথ্য, দর্শনীয় স্থান, হোটেল ও রিসোর্টের তথ্য, খরচ সম্পর্কে আইডিয়া এবং বালি (Bali) বেড়ানোর নানান টিপস।

যাত্রা

আমরা এয়ার এশিয়া তে সিঙ্গাপুর থেকে বালি গিয়েছিলাম। এয়ার এশিয়া সরাসরি বালি যায়, তাই আর কুয়ালালামপুরে অযথা দীর্ঘসময় এয়ারপোর্টে ট্রানজিটে বসে থাকতে হয়নি। ঢাকা থেকে মালিন্দ এয়ারলাইনস এ তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ায় কুয়ালালামপুর হয়ে বালি যাওয়া যায়। আমরা ফেরত এসেছি মালিন্দ এয়ারে।

ইমিগ্রেশন

ইমিগ্রেশন তেমন কিছুই না, পাসপোর্ট দিয়ে, রিটার্ন টিকেট দেখালেই সীল দিয়ে দেয়। অনেকসময় হোটেল রিজার্ভেশন দেখতে চায়। কোন ভিসা ফি লাগেনা।

এয়ারপোর্ট হতে হোটেল যাত্রা

অনলাইনে আগোডাসহ অনেক সাইট আছে যাদের মাধ্যমে গাড়ী আগে থেকে বুক করা যায়। হোটেল কে বলা যায় গাড়ি পাঠাতে বা এয়ারপোর্ট হতে লোকাল টেক্সি নেয়া যায়। একা থাকলে বা লাগেজ কম থাকলে সবচেয়ে ভাল হবে মেইন এয়ারপোর্ট হতে বাইরে পার্কিং এ যেয়ে গ্রাব নেয়া, সবচেয়ে কম খরচ। এয়ারপোর্ট থেকে কুটা এর ভাড়া গ্রাবে প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৫০,০০০ ইন্দো. রুপি, আর লোকাল টেক্সিতে প্রায় ১.৫-২ লাখ নিবে, হোটেল থেকে গাড়ি পাঠাতে বললে ২.৫ লাখ নিবে।

সীম কিনা

টেলকমসেল সীম সাধারণত টুরিস্টরা ব্যাবহার করে। সিমের দাম এক এক যায়গায় এক একরকম। কোন ব্যালেন্স ছাড়া আসল দাম মাত্র ১০,০০০ ইন্দো. রুপি। কিন্তু সিম কিনে আপনি ঠকবেনই, ৬ জিবি ইন্টারনেট সহ এর দাম নিবে অবস্তাভেবে ১ থেকে ২.৫ লাখ রুপি।

হোটেল

ছিলাম কুটা এলাকায়, আগোডা থেকে বুকিং, নন রিফান্ডেবল উইথ ব্রেকফাস্ট, প্রায় ২ মাস আগে। এতে অনেক কম পরেছে। যাওয়ার তারিখ নিশ্চিত না হলে ফ্রি ক্যান্সেলেশন অপশনে যাওয়ায় ভাল। থাকার জন্য কুটা এলাকা বালির সেন্টারে পরে। অনেকে নুসা দুয়া, সেমিনায়ক বা উবুদ এলাকায় থাকে। অনেকে ২/৩ দিন পর পর শিফট করে। ভাড়া ডিপেন্ড করে। দিনে ২৫ ইউ এস ডলারে কুটা এলাকায় মানসম্পন্ন ডাবল রুম পাওয়া সম্ভব। প্রায় প্রত্যেক হোটেল বা রিসোর্টে সুইমিং পুল আছে, অনেক রিসোর্টে আবার প্রাইভেট সি বিচও আছে।

যাতায়াত

একমাত্র মাধ্যম টেক্সি অথবা বাইক। গ্রাব, গোজেক, ব্লু বার্ড অথবা লোকাল টাক্সি। ভাল হবে গ্রাব এবং গোজেক এর এপস ডাউনলোড করে নিয়ে যাওয়া। ২ টাই লাগবে কারন অনেক স্থানে গ্রাব পাবেন না। কমন যায়গাগুলোতে গ্রাব আর গোজেক এর ভাড়া তুলনা করে কমটাতে যাওয়া যায়। ঘন্টাচুক্তি হিসেবে টেক্সি ফিক্সড করে নেয়া যায়, দিনে ৮-১০ ঘন্টা, ৪-৬ লাখ ই. রুপি নিবে। দিনে ১/২ টা স্পটে গেলে গ্রাব/গোজেক সাশ্রয়ী, আর ৪/৫ টা স্থানে গেলে ঘন্টা চুক্তি সাশ্রয়ী। পরিবার ছাড়া গেলে বাইক ভাড়া নিলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী।

মানি এক্সচেঞ্জ

বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ এ অনেক পার্থক্য হয়। আমি ১ ইউ এস ডলারে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৯০০ পর্যন্ত দেখেছি। লোভে পরা যাবেনা। শুধুমাত্র অথরাইজড মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ভাংগাবেন। রেট কম পেলেও। ১ ডলার = ১৩,৮৭৫ ইন্দো. রুপি পেলে তা ভাল রেট ও সেইফ। ফ্রডের পাল্লায় পরলে আম-ছালা সবই যাবে। ১ ইন্দো. রুপি = ০.০০৬১ টাকা।

খাওয়া-দাওয়া

আমরা দিনে একবেলা বার্গার কিং এ, আরেক বেলা ইন্ডিয়ান ফুড খেয়েছি। সি ফুড অনেক খেয়েছি। খাবারের জন্য ভাল পরিমান বাজেট রাখতে হবে। লোকাল খাবার মশল্লার গন্ধের জন্য খাওয়া কস্ট। তবে নাসি গোরেং (রাইস), মী গোরেং (নূডুলস) মোটামুটি ভালই লেগেছে।

বালিতে যা দেখবেন

আমি বালিতে ৭ দিন ছিলাম। এখানে ঘুরার জন্য মোটা দাগে যে জায়গাগুলো আছে তা হল-

  • বালির বিচসমূহ
  • উবুদ মার্কেট ও উবুদ এলাকা
  • নুসা পেনিদা আইল্যান্ড
  • নুসা ল্যাম্বুগান আইল্যান্ড
  • গিলি গিলি আইল্যান্ড
  • বিভিন্ন শপিং এলাকা

কুটা বিচ : আমরা প্রধানত সি বিচের জন্যই বালিতে গিয়েছি। তাই বালির সবগুলা বিচে গিয়েছি। কুটা বিচ আমাদের কক্সবাজারের মতো অনেক লম্বা। বিচের পাড়ে কিছু বিচ রেস্টুরেন্ট আছে, এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, Oceans 27 Beach Club & Grill. বিচে প্রচুর প্রবাল এর টুকরো আছে। পানি বালুমিশ্রিত হলেও মোটামুটি ভাল। এখানে এক বিকেল বিচ ও সুর্যাস্ত দেখার জন্য প্ল্যান করা যায়।

কুটা বিচ, বালি

নুসা দুয়া বিচ : কুটা থেকে বাইক বা টেক্সিতে যাওয়া যায়। অনেক লম্বা বিচ, নুসা দুয়া থেকে অয়োদ্ধা পর্যন্ত। এখানকার বিচের পানি ময়লা ও ঘাস মিশ্রিত। বিচ প্রবাল আর ভাংগা শামুক- ঝিনুকে ভর্তি। সাগরের কাছে বালি বেশ মোটা ও ধারাল। একটু সমস্যা হলেও এই বিচ আমাদের অনেক ভাল লেগেছে। আমরা গ্রাবে গিয়েছি কুটা থেকে নুসা দুয়া বিচ গ্রিল ক্লাব। সেখানে ৫,০০০ রুপি এন্ট্রি ফি এই বিচে ঢুকি। বিচে সময় কাটিয়ে রিসোর্টের সুইমিং পুলে দাপাদাপি করলাম। পরে নুসা দুয়া বিচ গ্রিল ক্লাবে লাঞ্চ করলাম। খাবার খুবই সুস্বাদু। তারপর বিচ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম অয়োদ্ধা বিচে, এটা পাবলিক বিচ। সেখান থেকে আবার গোজেক টেক্সিতে সামান্য দুরেই ওয়াটার ব্লো।

ওয়াটার ব্লো : এখানে সাগরের পাড়ে পানির ঢেউ আছড়ে মারে, এতো জোরে যে পানি ছিটকে অনেক দুর আসে। পানিতে রঙধনুর সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য একটি টুরিস্ট স্পট। এন্ট্রি ফি নেই। এ মাস্ট ভিজিট প্লেস। নুসা দুয়া এবং ওয়াটার ব্লো একদিনে প্লান করা যায়।

সুলুবান বিচ : সুলুবান বিচ এবং উলুউটু টেম্পল কাছাকাছি আর এক দিনে প্লান করা যায়। একে হিডেন বিচও বলা যায়। এখানে যেতে আসতে পায়ের জোড় থাকা প্রয়োজন। অনেক নিচ পর্যন্ত সিঁড়ি ভেঙে নামতে হয়। একেবারে নিচে নামলে দেখা যাবে দুই দিকে পাহাড় আর মাঝে বালি। সামান্য হাঁটলেই খাঁজ কাটা পাহাড়ের মাঝেই এই বিচ দেখা যাবে। এখানে সাগরের পানি বেশ পরিষ্কার। বিচ ছোট আর প্রচুর প্রবাল আর শামুক-ঝিনুক ভাঙা টুকরো আছে তাই এখানে হাঁটতে একটু সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এই হিডেন বিচের সোন্দর্যের কাছে সেটা কিছুই না। এই বিচের পানিতে নামা মাস্ট। এই বিচে অনেকে সার্ফিং করে থাকে। এই বিচের কাছেই সুইমিংপুলসহ আছে ডেলপি ক্যাফে। খাবারের দাম কস্টলি। অবশ্য বেশিরভাগ টুরিস্টরাই উপরে না যেয়ে নিচে দিয়েই সরাসরি বিচে চলে যায়।

প্যাডাং প্যাডাং বিচ : সুলুবান বিচ থেকে এ ২০-২৫ মিনিটের যাত্রা। এখানে এন্ট্রি ফি আছে, আডাল্ট ১৫ আর কিড ১০ হাজার রুপি। এদের ভাল ওয়াশরুম আছে, সাগরের পানিতে নামার পর এর প্রয়োজন হবে। এটাও খুব সুন্দর ছোট একটা বিচ। এখানেও সিঁড়ি দিয়ে কিছুটা নামতে হয় মূল বিচে যেতে। পানি পরিস্কার, ঢেউ কম, অনেকদুর পর্যন্ত হেঁটেই যাওয়া যায়। এখানকার পাড়েও প্রবাল আর শামুকের ভাঙা টুকরো আছে ফলে সাগরের কাছের বালিতে হাঁটতে একটু কস্ট হতে পারে। কিন্তু সৌন্দর্য বিবেচনায় এই সামান্য কস্ট কিছুই না। এখানে সারি সারি বিচ আমব্রেলা আর সান বেড আছে, ভাড়া ২-২.৫ লাখ। এই বিচও ওয়ান অব দি বেস্ট বিচ।

ড্রিমল্যান্ড বিচ, বালি

ড্রিমল্যান্ড বিচ : এখানকার বিচের আলাদা পার্কিং আছে। সেখানেই গাড়ি রাখতে হয়। ভাড়া ২০,০০০ রুপি। পার্কিং থেকে ওদের আলাদা টুরিস্ট বাস সার্ভিস আছে বিচ পর্যন্ত যাবার জন্য। বাস থেকে নামলে এক সারিতে কিছু রেস্টুরেন্ট আর অন্যান্য দোকান। আমরা ড্রিম কর্নার রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ করলাম। খাবার ভাল। এই বিচটা ও বেশি বড় না। সারি সারি বিচ ছাতা। এখানকাত পানি খুবই পরিস্কার এবং ফ্রেশ। কোন ময়লা নেই। ঢেউ অনেক বড় থাকায় এই বিচ ও সার্ফিং এর জন্য বেশ উপযুক্ত। এখানেও পানিতে নামা মাস্ট। এই বিচের সৌন্দর্যও অত্যন্ত দৃষ্টি নন্দন। ফেরত আসতে ইচ্ছা করবেনা।

জিম্বারান বিচ : অনেক লম্বা একটা বিচ। এই বিচে সারি সারি বিচ ছাতাসহ চেয়ার। পাড়ে সি ফুডের অনেক রেস্টুরেন্ট। বিচে অনেক চেয়ার টেবিল আছে খাবার জন্য। এখানে পানি কিছুটা বালি মিশ্রিত। এই বিচ সুর্যাস্ত দেখা আর সি ফুডের জন্য বিখ্যাত। এখানে আমরা সুর্যাস্তের আগেই গিয়ে একটা টেবিল দখল করলাম। অপরুপ সুর্যাস্ত দেখে কিছু সি ফুডের অর্ডার দিলাম। দাম আইটেম ভেদে প্রায় ৫-১০ লাখ ইন্দো. রুপি। প্রতি টেবিলে একটা করে কাঁচঘেরা ক্যান্ডেল জ্বালানো। সাগরের অপার্থিব গর্জন আর বাতাসে বসে আলো-আঁধারি অপূর্ব পরিবেশে সি ফুড। এরই মাঝে একদল মিউজিসিয়ান এসে চমৎকার লাইভ লোকাল গান আর বাজনা পরিবেশন করল। সব মিলিয়ে অভূতপূর্ব এক পরিবেশ, কখন সময় কেটে যাবে টেরই পাওয়া যায় না।

পটেটো হেড বিচ : এই বিচটা পটেটো এর মতো। আমরা ঠিক এই বিচে যাওয়ার উদ্দেশ্য যাই নি। আমরা গিয়েছিলাম পটেটো হেড বিচ ক্লাবে। এই জায়গাটা এক কথায় মাস্তি করার যায়গা। পটেটো হেড বিচের পাশেই এই ক্লাব। এই বিচে ঢোকার আলাদা সিকিউরড গেইট আছে, যেখানে চেকিং করে ধুকতে হয়। এন্ট্রি ফি নেই। আমরা তো ঢুকেই থ। ইউ টাইপের ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট, মাঝে গ্রিন আর ইনফিনিটি সুইমিং পুল। হাজারো টুরিস্ট সান বেডে বসে রিলাক্স করছে। আমরা ১১ টার দিকে গিয়েছিলাম, সকল সানবেড ফুল। এগুলার ভাড়া ১ মিলিয়ন ইন্দো. রুপি (প্রায় ৬,০০০ টাকা)। দুইটা ডাব খেলাম ১.২৫ লাখ রুপি (৭৫০ টাকা)। কোন বসার যায়গা নেই। শেষদিকে রেলিং এ বসলাম ডাব নিয়ে। নিচে নেমে বিচে গেলাম। এখানে বিচের পানি খুবই ময়লা। বিচ ভাঙা প্রবাল আর শামুকে ভর্তি। তবে কারো যদি ঝিনুক কুড়াতে ভাললাগে, এখানে অনেক কুড়াতে পারবেন। বিচ থেকে এসে নেমে গেলাম ইনফিনিটি সুইমিংপুলে। অনেকক্ষন দাপাদাপি করলাম। এখান থেকে সমূদ্রের খুবই সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। একটা জিনিস লক্ষ করলাম, আমরা বাংগালীরা শরীরের উপড় অনেক প্রেশার দিয়ে অল্প সময়ে সব ঘুরে দেখতে চাই, যাকে বলে ‘১৬ আনা উসুল’। আর বিদেশীরা যায় রিলাক্স করতে, তারা কোন বিচে গেল হয়তো ৫-৭ ঘন্টা সেখানেই কাটিয়ে দেয়। তো আমরাও এইদিন অনেকটা সময় এখানেই কাটিয়ে দিলাম। এখানে খাবার কস্টলি হলেও স্বাদ ভাল। ওভালঅল হাইলি রেকোমেন্ডেড।

সানুর বিচ : পরিস্কার ও টুরিস্ট ফ্রেন্ডলী এবং ভীড় ছাড়া এক বিচ। এখানের সূর্যাস্তের দৃশ্য সুন্দর। কিন্তু সূর্যোদয়ের দৃশ্য আরো বেশি সুন্দর। আশে-পাশে অনেক বার ও রেস্টুরেন্ট আছে। এখানেই হল সানুর পোর্ট আছে যেখান থেকে নুসা পেনিদা বা গিলি গিলি আইল্যান্ডে যাওয়া যায়।

উবুদ এলাকা : উবুদ কুটা থেকে বেশ দূরে। সবচেয়ে ভাল হয় একদিন থাকার প্লান করলে। তা না করলে অনেক সকালে যেতে হবে কারন রাস্তায় প্রায়ই জ্যাম থাকে। টেক্সিতে প্রায় ১.৫ – ২ ঘন্টা লাগে। এখানে চাইলে র‍্যাফটিং ও করতে পারবেন। এন্ট্রি ফি সহ টুরিস্ট স্পটগুলো হল –

– তেগেনুনগান ফলস – ১৫,০০০ রুপি।
– মাংকি ফরেস্ট – ৮০,০০০ রুপি।
– টেগালাল্যাং রাইস ট্যারিস।
– কিন্তামানি গ্রাম আর লোয়াক কফি প্লান্টেশন।

লোয়াক কফি বিদেশীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। অনেকে খেয়ে স্বাদের প্রশংসাও করেছেন। কিন্তু খাওয়া বা কিনার আগে এই কফি বানানোর প্রসেসটা অবশ্যই জেনে নিবেন। বানর শুধু বাদরামী দেখানোর জন্য না, প্রডাকটিভ অনেক কাজেও লাগে। 

জিম্বারান বিচ, বালি, ইন্দোনেশিয়া

নুসা পেনিদা : কোন এজেন্সি থেকে নুসা পেনিদা যাওয়া, লাঞ্চ, স্নরকলিং, ঘুরা, হোটেল থেকে পিক আপ, ড্রপ সব সহ প্যাকেজ আছে। কুটা বা যেকোন এলাকায় অনেক এজেন্সি আছে। নিজে সব করতে চাইলে সানুর চলে যাবেন অনেক সকালে, সেখান থেকে ফার্স্ট বোট ভাড়ার জন্য বিচে অনেক কোম্পানি আছে, একই রেট। স্যান্ডেল নিয়ে যেতে হবে কারন পানিতে নেমে তারপর বোটে উঠতে হয়। সানুর থেকে ফার্স্ট বোটে যেতে ৩০-৪০ মিনিটের মতো লাগে, ভাড়া ৪ লাখ রুপি (প্রায় ২,৫০০ টাকা) যাওয়া ও ফেরত। বোট এর সময় সকাল ৮ টা, ১১ টা, ১৫.৩০ আর ১৭.৪৫ ঘটিকা আর পেনিদা থেকে ফেরত এর সময় সকাল ৭টা, ৯ টা, ১৪.৩০ আর ১৭.০০ ঘটিকা। নামতে হবে নুসা পেনিদার ওয়েস্টার্ন সাইডে। সেখানে যেয়ে গাড়ি বা বাইক ভাড়া করে টুরিস্ট স্পটে যাওয়া যায়। গাড়ি ভাড়া সারাদিন প্রায় ৫-৭ লাখ রুপি (৩,০০০-৪,০০০ টাকা)। নিজে বাইক চালানো খুবই রিস্কি কারন যাবার রাস্তা ভয়াবহ খারাপ। টুরিস্ট স্পটগুলো হলঃ

– কেলিংকিং বিচ
– ব্রোকেন বিচ
– এঞ্জেল বিলাবং
– ক্রিস্টাল বে

সবগুলো জায়গাই অসম্ভব সুন্দর এবং কোনটাই মিস করার মতো না। এখানকার পানি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর রকম নীল। প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো খুবই ভাল লাগবে। একদিনেই সব স্থান কাভার করা সম্ভব।

নুসা লেম্বুগান : নুসা লেম্বুগান আর নুসা পেনিদা খুবই কাছাকাছি। এই দুইটা একই দিনে দেখা যাবে কিন্তু শরীরের উপড় অনেক প্রেশার পরবে। একই সাথে প্লান করলে নুসা পেনিদায় একদিন থাকা উচিত। এটাও অত্যন্ত সুন্দর একটি জায়গা। টুরিস্ট স্পটগুলো হলঃ ডেভিলস টিয়ার, ড্রিম বিচ, ইয়োলো ব্রিজ ও মাশরুম বে ইত্যাদি। এখারকার পানিও অসম্ভব সুন্দর ও নীল। সম্ভব হলে পেনিদা আর লেম্বুগান দুইটাতেই যাওয়া উচিত।

গিলি গিলি আইল্যান্ড : এই জায়গা বালি থেকে বেশ দূরে। সময় থাকলে সেখানেও যাওয়া যায়। এখানে কাছাকাছি তিনটা দ্বীপ আছে, Gili Trawangan, Gili Meno Gili Air Island. সময়, খরচ, দুরত্ব, কস্ট ইত্যাদি বিবেচনা করে গিলির চেয়ে নুসা পেনিদা/লেম্বুগান অথবা নুসা পেনিদা ও নুসা লেম্বুগান একত্রে যাওয়া রেকমেন্ডেড।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার দর্শনীয় স্থান

বালিতে শপিং

উবুদ মার্কেট : মাংকি ফরেস্ট পার হয়ে একটু সামনেই উবুদ মার্কেট। এই মার্কেটে অনেক ধরনের শো পিস, কাপড়, বেতের ব্যাগ, হোম ডেকরেশনের জিনিসপত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়। কিন্তু নির্লজ্জভাবে দামাদামি করতে হবে। যেমন, ২ লাখ রুপির জিনিস ফাইনালি আমরা ৫০,০০০ এ কিনেছি।

বিচওয়াক শপিং মল

বিচওয়াক শপিং মল : কুটা এলাকায়। ব্রান্ড আইটেমের শপিং মল। অনেক বড় এবং অনেক কস্টলি। ঘুরার জন্য যাওয়া যেতে পারে।

ডিসকভারী শপিং মল : সুলভ মুল্যের শপিং মল। এখানে ছেলে-মেয়ে উভয়ের কাপড়, জিন্স, সুন্দর টি শার্ট, বাচ্চাদের কাপড়, জুয়েলারি ইত্যাদি কেনা যেতে পারে। আমার জিন্স একটা পছন্দ হয়েছিল, কিন্তু সেখানে কোমড় পেলাম হাইয়েস্ট ২৭। বালির মানুষদের কোমড় এতো ছোট, ধারনা ছিলনা।

বিনতাং সুপার মার্কেট : সেমিনায়ক এলাকায়। ভাড়া ২৫-৩০ হাজার রুপি। সব ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের টয়লেট্রিজ, কসমেটিকস, চকলেট, ইস্ট বালির বিখ্যাত কাজুবাদাম, খেলনা হাজারও রকমের জিনিস এখানে পাবেন। এটা একটা মাস্ট গোয়িং প্লেস।

কৃশ্না শপিং মল : কুটার কাছে। বালিনিজ লোকাল প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। মেইনলি ব্যাগ, সুভেনির আইটেম ইত্যাদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়।

ফিরে আসা

আসার সময় এয়ারপোর্ট পর্যন্ত গ্রাবে মাত্র ৪৫ হাজার রুপি ভাড়া। বালির এরাইভাল খুব ছোট হলেও ডিপার্চার অনেক বড়। চেকিং এ যেয়ে দেখি অনেক ভীড়। এখানে সবকিছু ম্যানুয়াল। আমার সিরিয়াল আসার পর ব্যাগ দিতে যেয়ে পাওয়া গেল, এক ব্যাগ অতিরিক্ত ভারী, তা খুলে কিছু জিনিস অন্য বাগে ভরতে হল। এদিকে ফ্লাইটের সময়ও হয়ে যাচ্ছে, আমি শুনেছি বোর্ডিং ব্রিজ বন্ধ হয়ে গেলে ওই প্লেনে আর যাওয়া যায় না। আমরা আক্ষরিক অর্থেই দৌড়ানো শুরু করলাম। কিন্তু বিধি বাম। ইমিগ্রেশনেও লম্বা লাইন। এক বুথে লেখা দেখলাম, অফিসিয়াল পাসপোর্ট/ডিজেবল পারসন, লাইন ফাঁকা, শেষে ঐ বুথ দিয়েই চলে গেলাম। তারপর আবার দৌড়। পরিশেষে ঠিকমতোই প্লেনে উঠতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ, যে পরের প্লেনে আসতে হয়নি।

ট্রানজিট

আমাদের কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টে ট্রানজিট ছিল ৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট। মেইন বিল্ডিং এ বোর্ডিং গেট ছাড়া আর কিছু নেই। ঘুরার জন্য এবং খাবার জন্য এয়ারোট্রেন (ফ্রি) ধরে মেইন টার্মিনাল বিল্ডিং থেকে স্যাটেলাইট টার্মিনাল বিল্ডিং এ যেতে হবে। সেখানে বার্গার কিং, ম্যাকডোনাল্ডস, স্টারবাকস সহ অনেক খাবার রেস্টুরেন্ট আছে। আমরা খেয়েছিলাম “গ্রান্ডমাস কিচেন” এ, ‘হাক্কা ফ্রায়েড রাইস’ আর ‘ফ্রায়েড মি মামা’, বিল পেমেন্ট ক্রেডিট কার্ডে। খাবার অত্যান্ত সুস্বাদু। ফ্রি ওয়াইফাই সহ সময় কাটানোর জন্য এখানে আরও আছে ‘জাংগল ব্রডওয়াক’। জংগলের মধ্য দিয়ে হাঁটা আর ওয়াটার ফল দেখার অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর একটা জায়গা। এছাড়াও সময় কাটানোর জন্য এখানে ফ্রি মুভি লাউঞ্জও আছে।

বালি ট্যুর প্ল্যান

বালি বেড়ানোর ৫-৭ দিনের একটা সম্ভ্যাব্য ট্যুর প্ল্যান করতে পারেন নিচের মত করে।

  • নুসা দুয়া বিচ, ওয়াটার ব্লো এলাকা, কৃশ্না শপিং মল, বিচওয়াক শপিং মল।
  • উবুদ এলাকা ও উবুদ মার্কেট – ১/২ দিন।
  • সাউথ বালির বিচসমূহ (উলুউটু, সুলুবান, প্যাডাং প্যাডাং, ড্রিমল্যান্ড, জিম্বারান)।
  • নুসা পেনিদা এবং/অথবা নুসা লেম্বুগান – ১/২ দিন।
  • কুটা বিচ, সেমিনায়াক, পটেট হেড, তানাহ লট টেম্পল, বিংতান সুপার মার্কেট, ডিসকভারী শপিং মল।

বালি ভ্রমণ খরচ

আমি পরিবারসহ গিয়েছিলাম। খরচা-পাতি যদিও ডিপেন্ড করে, তবে আমার অভিজ্ঞতায় একটা সাধারন ধারনা দিচ্ছি –

  • এয়ার টিকেট – মালিন্দ ৩৫-৪০,০০০ টাকা প্রতিজন। ব্যাগপ্যাক (৭ কেজি) নিলে ভাড়া অনেক কমে আসবে কিন্তু টিকেট অনেক আগে কাটতে হবে।
  • হোটেল – প্রতিরাত ২-৩,০০০ টাকা।
  • খাবার – প্রতিদিন জনপ্রতি ১,০০০ টাকা।
  • বাইক ভাড়া – দিনে প্রায় ৬০,০০০ রুপি আর গাড়ি ভাড়া দিনে প্রায় ৫ লাখ রুপি।
  • এছাড়া বিচের এন্ট্রি ফি / পার্কিং ফি – ৫,০০০ – ২০,০০০ রুপি।
  • বিভিন্ন এট্রাকশনে এন্ট্রি ফি – জনপ্রতি ৫০,০০০ – ৮০,০০০ রুপি।

লেখক ও ছবি কৃতজ্ঞতা : শফিকুর রহমান

শেয়ার করুন সবার সাথে

ভ্রমণ গাইড টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ পাতায় যোগাযোগ করুন।
দৃষ্টি আকর্ষণ : যে কোন পর্যটন স্থান আমাদের সম্পদ, আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন, অন্যদেরকেও উৎসাহিত করুন। দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ভ্রমণ গাইডে প্রকাশিত তথ্য বর্তমানের সাথে মিল না থাকতে পারে। তাই অনুগ্রহ করে আপনি কোথায় ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের তথ্য জেনে পরিকল্পনা করবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ও নানা রকম যোগাযোগ এর মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ভ্রমণ গাইড দায়ী থাকবে না।